০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
চায়ের কাপেই বিশ্বায়নের গল্প: নতুন যুগে কেন আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজন ন্যায়বিচারের আগে কি ভাইরাল ভিডিও জরুরি? আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের পাঁচ বছরের মূল্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? বিরতির আহ্বানে নতুন বিতর্ক ভারতে ডিজেল বিক্রিতে নতুন বিধিনিষেধে উদ্বেগ, চাপে হাসপাতাল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত নতুন চুক্তির আড়ালে পুরোনো প্রশ্ন: ইরান কি সত্যিই বদলাতে প্রস্তুত? সরকারী ব্যয় বাড়ানো ও দেশকে দেউলিয়া হবার পথে নিয়ে যাবার বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার রাজপথে তীব্র ছাত্র আন্দোলন সিঙ্গাপুরের আবর্জনা ব্যবস্থার ৬০ বছরের শিক্ষা: প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের অভ্যাস কতটা বদলেছে? এক দশকের মোড় ঘুরে গেল: টিভি-সংবাদপত্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের প্রধান সংবাদমাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১৭)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪
  • 104

শ্রী নিখিলনাথ রায়

নন্দকুমার উল্লেখ করেন যে, হেষ্টিংস স্পষ্টাক্ষরে তাঁহাকে বলিয়াছেন যে, এখন হইতে আমি তোমার শত্রু হইলাম এবং তোমার অনিষ্ট করিতে ক্ষান্ত হইব না। তাহার পর, মোহন প্রসাদ নামে নন্দকুমারের একজন শত্রু হেষ্টিংসের বাটীতে গতায়াত করিত। এই মোহনপ্রসাদের সহিত তাঁহার জামাতা ও বর্তমান কুঞ্জযাটা রাজবংশের আদি-পুরুষ জগৎচাঁদও যোগদান করিয়াছিলেন। নন্দকুমার দুঃখের সহিত বলিয়াছেন, যে জগৎচাঁদকে আমি পুত্রের ক্ষায় বাটীতে প্রতিপালন করিয়াছি, আজ সেও আমার অনিষ্টসাধনে উদ্যত।

হেষ্টিংস মহম্মদ রেজা খাঁ ও সেতাব রায়ের বিরুদ্ধে নন্দকুমারকে নিযুক্ত করিলে, নন্দকুমার তাঁহাদের বিরুদ্ধে এক এক তালিকা প্রস্তুত করিয়া দেন। মহম্মদ রেজা খাঁ নিজামতের রত্নখচিত অলঙ্কার, হস্তী ও অশ্বা ব্যতীত প্রায় বিশ কোটা টাকা আত্মসাৎ করেন। দুর্ভিক্ষের সময় চাউল একচেটিয়া করিয়া রাখিয়া, উচ্চদরে বিক্রয় করেন, ইত্যাদি অনেক কথার উল্লেখ করিয়াছিলেন। সেতাবরায়ের বিরুদ্ধেও ৯০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার এক তালিকা প্রস্তুত হয়। রেজা খাঁ ও সেতাব রায় উভয়েই এই বিপদ হইতে উদ্ধারের জন্ম হেষ্টিংস, নন্দকুমার ও অন্যান্য দুই একজনকে উৎকোচ দিতে প্রতিশ্রুত চন।

নন্দকুমার সে কথা গবর্ণরকে জানাইয়াছিলেন। রেজা খাঁ তাঁহাকে দুই লক্ষ ও হেষ্টিংসকে দশ লক্ষ এবং সেতাব রায়ও তাঁহাকে এক লক্ষ, হেষ্টিংসকে চারি লক্ষ ও রীড নামে কোম্পানীর আর একজন কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাহিয়াছিলেন। ইহার পর তাঁহাদিগকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কাশীর রাজা বলবন্ত’সংহ দুইটি পরগণা স্বরাজাভুক্ত কারয়া লন। তাঁহার নিকট হইতে ২৪ লক্ষ টাকা কোম্পানীর পাওনা হইয়াছিল।

হেষ্টিংস প্রথমে নন্দকুমারের জামাতা রাধাচরণকে বলবস্তের পুত্র চেৎ সিংহের নিকট হইতে সে টাকা আদায়ের জন্য আদেশ দেন; পরে স্বয়ং। কাীতে উপস্থিত হইয়া, চেৎসিংহের সঙ্গিত সাক্ষাতের পর কোম্পানীর পাওনা টাকা ছাড়িয়া দেন। বাহারবন্দ পরগণা বলপূর্ব্বক রাণী ভবানীর নিকট হইতে লইয়া কৃষ্ণকান্ত নন্দীর পুত্র লোকনাথকে দেওয়া হয়। দিল্লীর বাদশাহ নন্দকুমারকে রাজসম্মানের চিহ্নস্বরূপ একখানি ঝালর- দার পাল্কী প্রদান করেন; পাটনার শাসনকর্তা তাহা আটক করিয়া রাখেন। হেষ্টিংস সেখানি কলিকাতায় পাঠাইতে লিখিলে, তাহা কলি- কাতায় উপস্থিত হয়। কিন্তু তিনি সেখানি নন্দকুমারকে না দিয়া তাহা নিজ ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চায়ের কাপেই বিশ্বায়নের গল্প: নতুন যুগে কেন আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজন

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১৭)

১১:০০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

নন্দকুমার উল্লেখ করেন যে, হেষ্টিংস স্পষ্টাক্ষরে তাঁহাকে বলিয়াছেন যে, এখন হইতে আমি তোমার শত্রু হইলাম এবং তোমার অনিষ্ট করিতে ক্ষান্ত হইব না। তাহার পর, মোহন প্রসাদ নামে নন্দকুমারের একজন শত্রু হেষ্টিংসের বাটীতে গতায়াত করিত। এই মোহনপ্রসাদের সহিত তাঁহার জামাতা ও বর্তমান কুঞ্জযাটা রাজবংশের আদি-পুরুষ জগৎচাঁদও যোগদান করিয়াছিলেন। নন্দকুমার দুঃখের সহিত বলিয়াছেন, যে জগৎচাঁদকে আমি পুত্রের ক্ষায় বাটীতে প্রতিপালন করিয়াছি, আজ সেও আমার অনিষ্টসাধনে উদ্যত।

হেষ্টিংস মহম্মদ রেজা খাঁ ও সেতাব রায়ের বিরুদ্ধে নন্দকুমারকে নিযুক্ত করিলে, নন্দকুমার তাঁহাদের বিরুদ্ধে এক এক তালিকা প্রস্তুত করিয়া দেন। মহম্মদ রেজা খাঁ নিজামতের রত্নখচিত অলঙ্কার, হস্তী ও অশ্বা ব্যতীত প্রায় বিশ কোটা টাকা আত্মসাৎ করেন। দুর্ভিক্ষের সময় চাউল একচেটিয়া করিয়া রাখিয়া, উচ্চদরে বিক্রয় করেন, ইত্যাদি অনেক কথার উল্লেখ করিয়াছিলেন। সেতাবরায়ের বিরুদ্ধেও ৯০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার এক তালিকা প্রস্তুত হয়। রেজা খাঁ ও সেতাব রায় উভয়েই এই বিপদ হইতে উদ্ধারের জন্ম হেষ্টিংস, নন্দকুমার ও অন্যান্য দুই একজনকে উৎকোচ দিতে প্রতিশ্রুত চন।

নন্দকুমার সে কথা গবর্ণরকে জানাইয়াছিলেন। রেজা খাঁ তাঁহাকে দুই লক্ষ ও হেষ্টিংসকে দশ লক্ষ এবং সেতাব রায়ও তাঁহাকে এক লক্ষ, হেষ্টিংসকে চারি লক্ষ ও রীড নামে কোম্পানীর আর একজন কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাহিয়াছিলেন। ইহার পর তাঁহাদিগকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কাশীর রাজা বলবন্ত’সংহ দুইটি পরগণা স্বরাজাভুক্ত কারয়া লন। তাঁহার নিকট হইতে ২৪ লক্ষ টাকা কোম্পানীর পাওনা হইয়াছিল।

হেষ্টিংস প্রথমে নন্দকুমারের জামাতা রাধাচরণকে বলবস্তের পুত্র চেৎ সিংহের নিকট হইতে সে টাকা আদায়ের জন্য আদেশ দেন; পরে স্বয়ং। কাীতে উপস্থিত হইয়া, চেৎসিংহের সঙ্গিত সাক্ষাতের পর কোম্পানীর পাওনা টাকা ছাড়িয়া দেন। বাহারবন্দ পরগণা বলপূর্ব্বক রাণী ভবানীর নিকট হইতে লইয়া কৃষ্ণকান্ত নন্দীর পুত্র লোকনাথকে দেওয়া হয়। দিল্লীর বাদশাহ নন্দকুমারকে রাজসম্মানের চিহ্নস্বরূপ একখানি ঝালর- দার পাল্কী প্রদান করেন; পাটনার শাসনকর্তা তাহা আটক করিয়া রাখেন। হেষ্টিংস সেখানি কলিকাতায় পাঠাইতে লিখিলে, তাহা কলি- কাতায় উপস্থিত হয়। কিন্তু তিনি সেখানি নন্দকুমারকে না দিয়া তাহা নিজ ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করেন।