রাশিয়ার তেল সরবরাহ নিয়ে বিরোধের জেরে ইউক্রেনকে জরুরি বিদ্যুৎ দেওয়া বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে স্লোভাকিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিৎসো বলেছেন, ড্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে তেল প্রবাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। রাজধানী ব্রাতিস্লাভা থেকে সোমবার এ ঘোষণা আসে।
তেল সরবরাহ বন্ধের জেরে পাল্টা পদক্ষেপ
ফিৎসো জানান, সোভিয়েত আমলের ড্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে তেল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। পাইপলাইনটি ইউক্রেন হয়ে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরিতে পৌঁছায়। কিয়েভের দাবি, রুশ হামলায় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; তবে মস্কো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

স্লোভাকিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরবরাহ আটকে রেখেছে। ফিৎসোর ভাষায়, এটি স্লোভাকিয়াকে চাপে ফেলতে নেওয়া একটি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেল সরবরাহ পুনরায় চালু না হলে আরও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিদ্যুৎ আমদানিতে চাপ বাড়ছে কিয়েভে
রুশ হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি সম্প্রতি বিদ্যুৎ আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফিৎসোর দাবি, চলতি জানুয়ারিতে স্লোভাকিয়া থেকে ইউক্রেন যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পেয়েছে, তা আগের বছরের মোট সরবরাহের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
হাঙ্গেরির কড়া অবস্থান

এই উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য হাঙ্গেরি। রাজধানী বুদাপেস্ট ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘তেল অবরোধ’ আরোপের অভিযোগ তুলে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
গত সপ্তাহে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি দু’দেশই ঘোষণা দেয়, ড্রুজবা পাইপলাইন চালু না হওয়া পর্যন্ত তারা ইউক্রেনে ডিজেল রপ্তানি স্থগিত রাখবে। হাঙ্গেরি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















