১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-১৫৬)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫
  • 160

ডাক্তার সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সমস্ত খুঁটিনাটি ঘটনা এখন মনে করিতে পারিতেছি না। গত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সুরেশদা চাকরি লইয়া যুদ্ধে চলিয়া যান। যুদ্ধের পর অনেক টাকা-পয়সা উপার্জন করিয়া দেশে ফিরিয়া আসেন। এই সময় তিনি ফরিদপুর হিতৈষী স্কুলের ভার গ্রহণ করেন। স্কুলের সমস্ত খরচপত্র তিনি নিজে বহন করিতেন। আগেই বলিয়াছি, এই স্কুলে আমার পিতা মাস্টারি করিতেন।

রাত্রে হিতৈষী স্কুলের ঘরগুলিতে নাইট স্কুলে খুলিলেন। মেথরপাড়া হইতে পড়ুয়াদিগকে ডাকিয়া আনার ভার ছিল আমার উপরে। সুরেশদা নিয়মিতভাবে মেথর পড়ুয়াদিগকে পড়াইতেন। আমিও সুরেশদার মতো ছাত্রদিগকে পড়াইতাম। ননকোঅপারেশন আন্দোলন তখন সবে আরম্ভ হইয়াছে। একটি ছোট্ট সভায় সুরেশদা একদিন বক্তৃতা করিতে উঠিলেন।

তখনও তাঁহার বক্তৃতা করার অভ্যাস হয় নাই। বক্তৃতা করিতে করিতে মাঝখানে তিনি থামিয়া গেলেন। কিন্তু সেই বক্তৃতার জন্যই সুরেশদাকে গ্রেফতার করা হইল। সেইসঙ্গে পীর বাদশা মিঞাকেও। মুসলমান পীর আর হিন্দু ব্রাহ্মণ একসঙ্গে হাতকড়া পরিলেন। এই ঘটনা দেশে হিন্দু-মুসলমানের প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করিল। জেল হইতে বাহির হইয়া সুরেশদা কুমিল্লা শহরে অভয়-আশ্রম নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। যুদ্ধে যাইয়া তিনি যে টাকা জমাইয়াছিলেন তাহার সবই তিনি এই আশ্রমে ব্যয় করেন।

ইহার পরে তিনি কখনও হিন্দু-মহাসভায়, কখনও কংগ্রেসে, কখনও কৃষক-প্রজা-মজদুর পার্টিতে যোগদান করেন। মাঝে মাঝে তাঁহার সঙ্গে দেখা হইয়াছে। ফরিদপুরের স্বল্পপরিসর স্থানের মধ্যে সুরেশদার যে মহান হৃদয়বত্তার পরিচয় পাইয়াছিলাম, পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের ডামাডোলে যদিও তিনি গৌরবের শিখর হইতে শিখরে উঠিতেছিলেন তবুও আমার মন বলিত, সুরেশদাকে আবার যেন জনসেবক রূপে আমাদের সেই ক্ষুদ্র শহর ফরিদপুরের সঙ্কীর্ণ পরিধির মধ্যে পাই।

সুরেশদার বিষয়ে যখনই ভাবি, আমার মন একটি উচ্চ আদর্শে উদ্বোধিত হইয়া ওঠে। এই লোকটি তাঁর সমস্ত জীবন দেশবাসীকে দান করিয়া গিয়াছেন। নিজের বলিতে তাঁহার কিছুই ছিল না। তিনি যখন হিন্দু-মহাসভায় যোগ দিয়াছিলেন তখন মনে মনে ব্যথা পাইয়াছি। এমন মহানুভবতা আর হৃদয়বত্তার অধিকারী কি করিয়া সেই মহৎ গুণগুলিকে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য গণ্ডি ঘিরিয়া রাখিবেন! সেই গণ্ডি তিনি অতিক্রম করিয়াছিলেন। জীবনের প্রতিটি রক্ত-বিন্দু তিনি তাঁহার দেশবাসীর জন্য ব্যয় করিয়াছিলেন। আজ মৃত্যুর ওপারে বসিয়াও তিনি তাঁর সর্বত্যাগী-জীবনের আদর্শবাদের আলোকবর্তিকা তুলিয়া ধরিয়া তাঁর সঙ্গে যাঁহাদের পরিচয় ছিল তাঁহাদিগকে পথ দেখাইতেছেন।

 

চলবে…..

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-১৫৬)

১১:০০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

ডাক্তার সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

সমস্ত খুঁটিনাটি ঘটনা এখন মনে করিতে পারিতেছি না। গত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সুরেশদা চাকরি লইয়া যুদ্ধে চলিয়া যান। যুদ্ধের পর অনেক টাকা-পয়সা উপার্জন করিয়া দেশে ফিরিয়া আসেন। এই সময় তিনি ফরিদপুর হিতৈষী স্কুলের ভার গ্রহণ করেন। স্কুলের সমস্ত খরচপত্র তিনি নিজে বহন করিতেন। আগেই বলিয়াছি, এই স্কুলে আমার পিতা মাস্টারি করিতেন।

রাত্রে হিতৈষী স্কুলের ঘরগুলিতে নাইট স্কুলে খুলিলেন। মেথরপাড়া হইতে পড়ুয়াদিগকে ডাকিয়া আনার ভার ছিল আমার উপরে। সুরেশদা নিয়মিতভাবে মেথর পড়ুয়াদিগকে পড়াইতেন। আমিও সুরেশদার মতো ছাত্রদিগকে পড়াইতাম। ননকোঅপারেশন আন্দোলন তখন সবে আরম্ভ হইয়াছে। একটি ছোট্ট সভায় সুরেশদা একদিন বক্তৃতা করিতে উঠিলেন।

তখনও তাঁহার বক্তৃতা করার অভ্যাস হয় নাই। বক্তৃতা করিতে করিতে মাঝখানে তিনি থামিয়া গেলেন। কিন্তু সেই বক্তৃতার জন্যই সুরেশদাকে গ্রেফতার করা হইল। সেইসঙ্গে পীর বাদশা মিঞাকেও। মুসলমান পীর আর হিন্দু ব্রাহ্মণ একসঙ্গে হাতকড়া পরিলেন। এই ঘটনা দেশে হিন্দু-মুসলমানের প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করিল। জেল হইতে বাহির হইয়া সুরেশদা কুমিল্লা শহরে অভয়-আশ্রম নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। যুদ্ধে যাইয়া তিনি যে টাকা জমাইয়াছিলেন তাহার সবই তিনি এই আশ্রমে ব্যয় করেন।

ইহার পরে তিনি কখনও হিন্দু-মহাসভায়, কখনও কংগ্রেসে, কখনও কৃষক-প্রজা-মজদুর পার্টিতে যোগদান করেন। মাঝে মাঝে তাঁহার সঙ্গে দেখা হইয়াছে। ফরিদপুরের স্বল্পপরিসর স্থানের মধ্যে সুরেশদার যে মহান হৃদয়বত্তার পরিচয় পাইয়াছিলাম, পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের ডামাডোলে যদিও তিনি গৌরবের শিখর হইতে শিখরে উঠিতেছিলেন তবুও আমার মন বলিত, সুরেশদাকে আবার যেন জনসেবক রূপে আমাদের সেই ক্ষুদ্র শহর ফরিদপুরের সঙ্কীর্ণ পরিধির মধ্যে পাই।

সুরেশদার বিষয়ে যখনই ভাবি, আমার মন একটি উচ্চ আদর্শে উদ্বোধিত হইয়া ওঠে। এই লোকটি তাঁর সমস্ত জীবন দেশবাসীকে দান করিয়া গিয়াছেন। নিজের বলিতে তাঁহার কিছুই ছিল না। তিনি যখন হিন্দু-মহাসভায় যোগ দিয়াছিলেন তখন মনে মনে ব্যথা পাইয়াছি। এমন মহানুভবতা আর হৃদয়বত্তার অধিকারী কি করিয়া সেই মহৎ গুণগুলিকে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য গণ্ডি ঘিরিয়া রাখিবেন! সেই গণ্ডি তিনি অতিক্রম করিয়াছিলেন। জীবনের প্রতিটি রক্ত-বিন্দু তিনি তাঁহার দেশবাসীর জন্য ব্যয় করিয়াছিলেন। আজ মৃত্যুর ওপারে বসিয়াও তিনি তাঁর সর্বত্যাগী-জীবনের আদর্শবাদের আলোকবর্তিকা তুলিয়া ধরিয়া তাঁর সঙ্গে যাঁহাদের পরিচয় ছিল তাঁহাদিগকে পথ দেখাইতেছেন।

 

চলবে…..