১০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৮২)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • 347
শ্রী নিখিলনাথ রায়
কিন্তু প্রচলিত প্রবাদানুসারে তাঁহার কার্য্যে কোন রূপ বিঘ্ন না ঘটিয়া বরং উত্তরোত্তর উন্নতি লাভহয়। যৎকালে তিনি বিশাল সম্পত্তির অধিপতি হইয়া কাশীমবাজারে স্বীয় বাসভবন নূতনরূপে নির্মাণ করাইয়া চতুদিক্ হইতে সম্মান ও গৌরব লাভ করিতেছিলেন, সে সময়েও উক্ত কলু তাঁহার বাটীর নিকটেই বাস করিবার অধিকার পায়। কান্ত বাবু তাহাকে নির্ভয়ে বাস করিতে অনুমতি প্রদান করেন। একদিন তাঁহার কোনও আত্মীয় তাঁহাকে বলেন যে, আপনার প্রাসাদের নিকট একজন ইতরজাতি বাস করিবে, ইহা কদাচ সঙ্গত নহে।
অতএব যাহাতে উক্ত কলু স্থানান্তরিত হয়, তজ্জন্ত আপনার যত্ন করা উচিত। কান্ত বাবু উত্তর করিলেন যে, তিনি প্রতিদিন উহার মুখ দেখিয়া কাৰ্য্যস্থানে গমন করিতেন, তাহাতে তাঁহার উন্নতি ব্যতীত কদাচ অবনতি ঘটে নাই। এখন তাঁহার এক প্রকার উন্নতির চরমসীমা হইয়াছে বলিলে অত্যুক্তি হয় না; তিনি যদি এক্ষণে ঐ দরিদ্রকে তাহার বাসস্থান হইতে বিদূরিত করিয়া দেন, তাহা হইলে তাঁহাকে পাপের ভাগী হইতে হইবে। তিনি যতদিন জীবিত থাকিবেন, ততদিন উহাকে রক্ষা করিবেন। কান্তবাবু উক্ত কলুকে বিশেষরূপ সাহায্য করিতেন। এইরূপ অনেক গল্প তাঁহার জীবনের সহিত জড়িত রহিয়াছে। কান্তবাবু একবার তীর্থপর্য্যটনে বহির্গত হন। ক্রমে ক্রমে জগন্নাথক্ষেত্র পুরীধামে উপস্থিত হইয়া অন্নসত্র খুলিবার চেষ্টা করেন।
কিন্তু একটি বিষম গোলযোগ উপস্থিত হয়। পাণ্ডারা প্রথমে বঙ্গদেশ হইতে একজন ধনী আসিয়াছেন জানিয়া, কান্তবাবুকে দোহন করিবার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তিনি অন্নসত্র খুলিবার প্রস্তাব করিলে, তাঁহারা কোনরূপে অবগত হইলেন যে, কান্তবাবু জাতিতে তেলি। তৈলকারের নিকট হইতে দানগ্রহণে পাণ্ডারা স্বীকৃত হইলেন না। কান্তবাবু অত্যন্ত বিপদে পড়িলেন। তিনি বাস্তবিক তৈলকার নহেন। অথচ পাণ্ডাগণের এ ভ্রম দূর করাও সহজ নহে। তীর্থক্ষেত্রে আসিয়া যদি কেহ দান গ্রহণ না করে, অথবা নিজ সঙ্কল্প সংসাধিত না হয়, তাহা হইলে হিন্দুহৃদয়ে যে অত্যন্ত আঘাত লাগিয়া থাকে, তাহা বলা বাহুল্য-মাত্র। তিনি স্বীয় জাতিত্বের প্রমাণের জন্য নবদ্বীপ প্রভৃতি স্থান হইতে ব্যবস্থা আনয়নের বন্দোবস্ত করিলেন।
পণ্ডিতেরা ব্যবস্থা দিলেন বে, তাঁহারা বাস্তবিক তৈলকার নহেন, তৈলিক অর্থাৎ তেলি নহেন, তিলি। তিলিগণ নবশাখশূদ্রের অন্যতম; তাঁহারা সচ্ছদ্র; তাঁহাদের দানগ্রহণে সেরূপ প্রত্যবায় নাই। তখন তাঁহারা স্বীকৃত হইয়া কান্তবাবুর দান গ্রহণ করেন এবং তাঁহার অন্নসত্রেরও সুবন্দোবস্ত করিয়া দেন। তীর্থস্থানে অপদস্থ হওয়ায় কান্ত বাবু যে বিচলিত হইয়াছিলেন, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। এই সমস্ত গল্প ও প্রবাদ বিচার করিলে, কান্ত বাবুর যে কিছু কিছু ধৰ্ম্মভীরুতা ছিল, তাহাও বেশ বুঝা যায়। কিন্তু অর্থ-লালসার জন্য তিনি যে সমস্ত অসৎকার্য্য করিয়াছেন, তাহাতে তাঁহার |
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৮২)

১১:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
শ্রী নিখিলনাথ রায়
কিন্তু প্রচলিত প্রবাদানুসারে তাঁহার কার্য্যে কোন রূপ বিঘ্ন না ঘটিয়া বরং উত্তরোত্তর উন্নতি লাভহয়। যৎকালে তিনি বিশাল সম্পত্তির অধিপতি হইয়া কাশীমবাজারে স্বীয় বাসভবন নূতনরূপে নির্মাণ করাইয়া চতুদিক্ হইতে সম্মান ও গৌরব লাভ করিতেছিলেন, সে সময়েও উক্ত কলু তাঁহার বাটীর নিকটেই বাস করিবার অধিকার পায়। কান্ত বাবু তাহাকে নির্ভয়ে বাস করিতে অনুমতি প্রদান করেন। একদিন তাঁহার কোনও আত্মীয় তাঁহাকে বলেন যে, আপনার প্রাসাদের নিকট একজন ইতরজাতি বাস করিবে, ইহা কদাচ সঙ্গত নহে।
অতএব যাহাতে উক্ত কলু স্থানান্তরিত হয়, তজ্জন্ত আপনার যত্ন করা উচিত। কান্ত বাবু উত্তর করিলেন যে, তিনি প্রতিদিন উহার মুখ দেখিয়া কাৰ্য্যস্থানে গমন করিতেন, তাহাতে তাঁহার উন্নতি ব্যতীত কদাচ অবনতি ঘটে নাই। এখন তাঁহার এক প্রকার উন্নতির চরমসীমা হইয়াছে বলিলে অত্যুক্তি হয় না; তিনি যদি এক্ষণে ঐ দরিদ্রকে তাহার বাসস্থান হইতে বিদূরিত করিয়া দেন, তাহা হইলে তাঁহাকে পাপের ভাগী হইতে হইবে। তিনি যতদিন জীবিত থাকিবেন, ততদিন উহাকে রক্ষা করিবেন। কান্তবাবু উক্ত কলুকে বিশেষরূপ সাহায্য করিতেন। এইরূপ অনেক গল্প তাঁহার জীবনের সহিত জড়িত রহিয়াছে। কান্তবাবু একবার তীর্থপর্য্যটনে বহির্গত হন। ক্রমে ক্রমে জগন্নাথক্ষেত্র পুরীধামে উপস্থিত হইয়া অন্নসত্র খুলিবার চেষ্টা করেন।
কিন্তু একটি বিষম গোলযোগ উপস্থিত হয়। পাণ্ডারা প্রথমে বঙ্গদেশ হইতে একজন ধনী আসিয়াছেন জানিয়া, কান্তবাবুকে দোহন করিবার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তিনি অন্নসত্র খুলিবার প্রস্তাব করিলে, তাঁহারা কোনরূপে অবগত হইলেন যে, কান্তবাবু জাতিতে তেলি। তৈলকারের নিকট হইতে দানগ্রহণে পাণ্ডারা স্বীকৃত হইলেন না। কান্তবাবু অত্যন্ত বিপদে পড়িলেন। তিনি বাস্তবিক তৈলকার নহেন। অথচ পাণ্ডাগণের এ ভ্রম দূর করাও সহজ নহে। তীর্থক্ষেত্রে আসিয়া যদি কেহ দান গ্রহণ না করে, অথবা নিজ সঙ্কল্প সংসাধিত না হয়, তাহা হইলে হিন্দুহৃদয়ে যে অত্যন্ত আঘাত লাগিয়া থাকে, তাহা বলা বাহুল্য-মাত্র। তিনি স্বীয় জাতিত্বের প্রমাণের জন্য নবদ্বীপ প্রভৃতি স্থান হইতে ব্যবস্থা আনয়নের বন্দোবস্ত করিলেন।
পণ্ডিতেরা ব্যবস্থা দিলেন বে, তাঁহারা বাস্তবিক তৈলকার নহেন, তৈলিক অর্থাৎ তেলি নহেন, তিলি। তিলিগণ নবশাখশূদ্রের অন্যতম; তাঁহারা সচ্ছদ্র; তাঁহাদের দানগ্রহণে সেরূপ প্রত্যবায় নাই। তখন তাঁহারা স্বীকৃত হইয়া কান্তবাবুর দান গ্রহণ করেন এবং তাঁহার অন্নসত্রেরও সুবন্দোবস্ত করিয়া দেন। তীর্থস্থানে অপদস্থ হওয়ায় কান্ত বাবু যে বিচলিত হইয়াছিলেন, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। এই সমস্ত গল্প ও প্রবাদ বিচার করিলে, কান্ত বাবুর যে কিছু কিছু ধৰ্ম্মভীরুতা ছিল, তাহাও বেশ বুঝা যায়। কিন্তু অর্থ-লালসার জন্য তিনি যে সমস্ত অসৎকার্য্য করিয়াছেন, তাহাতে তাঁহার |