০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধের প্রভাবে আবার শক্তিশালী ডলার, নিরাপদ বিনিয়োগে ফিরে আসছে হলিউড অভিনেত্রী মেরি বেথ হার্ট আর নেই, আলঝেইমারসে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৭৯ বছর বয়সে মৃত্যু চীনের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমছে, চাপে জেডটিই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি ইউরোপের ‘গানস বনাম বাটার’ সংকট তীব্রতর, ইরান যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার: ভরিতে বাড়ল ৩,২৬৬ টাকা, ২২ ক্যারেট এখন ২,৪৪,৭১১ টাকা জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৬৬)

সপ্তম পরিচ্ছেদ

শুনে বাবা হাসতে শুরু করে দিলেন। আর আমাকে কী যেন বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। উনি কী যে আমায় বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, সেদিন তা বুঝতে পারি নি। কারণ, বাবার মতে, সাইবেরিয়ার কয়েদীরা মোটেই নাকি কয়েদী ছিল না, কয়েদীদের মধ্যে বাবার পরিচিতও ছিল অনেকে, আর তাছাড়া সাইবেরিয়ায় নাকি অনেক ভালো লোক ছিল, অন্ততপক্ষে আর জামাসে যত ভালো লোক ছিল সাইবেরিয়ায় তার চেয়ে সংখ্যায় বেশি ছিল তারা।

এই সব কথা সেদিন আমার কানে ঢুকলেও মনের মধ্যে ধরা পড়ে নি। এ-রকম আরও কত-যে কথা শুনেছিলুম সেদিন! আর মাত্র এখনই সেই সব কথার মানে একটু-একটু বুঝতে শুরু করেছিলুম।

‘না। আমার সেই অতীত জীবনে কখনই ঘুণাক্ষরে আমি সন্দেহ করি নি, কিংবা ভাবতেও পারি নি যে আমার বাবা ছিলেন বিপ্লবী। আর এখন যে আমি লাল ফৌজের সঙ্গে আছি আর কাঁধে রাইফেল বয়ে বেড়াচ্ছি, এর কারণ এই নয় যে আমার বাবা বিপ্লবী ছিলেন আর আমি তাঁর ছেলে। এ-ব্যাপারটা আপনা-আপনিই ঘটেছে। নিজে থেকেই আমি এ-পথ বেছে নিয়েছি,’ আমি ভাবলুম। আর এটা চিন্তা করে নিজের সম্বন্ধে আমার গর্ব বোধ হল। না, সত্যি কথা, এত তো পার্টি ছিল দেশে, অথচ আমি সঠিক পার্টিকেই, একমাত্র বিপ্লবী পার্টিকেই, ঠিক ঠিক বেছে নিতে পেরেছি!

চুবুককে আমার এই চিন্তার ভাগ দেবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে উঠলুম। আর হঠাৎ আমার কেমন মনে হল, কই, ঘোড়ার সামনে কেউ তো নেই। তাহলে কি এতক্ষণ ধরে এই অপরিচিত রাস্তায় ঘোড়াটা নিজের খুশিমতো গাড়ি টেনে নিয়ে চলেছে! ভয় পেয়ে হাঁক পাড়লুম, ‘চুবুক!’

‘উহ!’ ওঁর রুঢ়, সংক্ষিপ্ত উত্তর পাওয়া গেল। ‘চ্যাঁচাচ্চ কিসের জন্যি, শুনি?’ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গিয়ে বললুম, ‘এখনও কি অনেক দেরি, চুবুক?’

‘আচে খানিকটে দূর,’ উনি বললেন। তারপর থামলেন। ‘ইদিকে এস দিকি একবার। কোটটারে খুলি ফ্যালো। পাইপটা ধরাব আমি।’

ঘোড়ার মাথা-বরাবর অন্ধকারে পাইপটা ভেসে চলল জোনাকির মতো। আস্তে-আন্তে রাস্তাটা সমতল হয়ে গেল। দু-ধারের জঙ্গল খানিকটা সরে গেল রাস্তা থেকে। আমরা দু-জন হাঁটতে লাগলুম পাশাপাশি।

 

 

যুদ্ধের প্রভাবে আবার শক্তিশালী ডলার, নিরাপদ বিনিয়োগে ফিরে আসছে

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৬৬)

০৮:০০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

সপ্তম পরিচ্ছেদ

শুনে বাবা হাসতে শুরু করে দিলেন। আর আমাকে কী যেন বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। উনি কী যে আমায় বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, সেদিন তা বুঝতে পারি নি। কারণ, বাবার মতে, সাইবেরিয়ার কয়েদীরা মোটেই নাকি কয়েদী ছিল না, কয়েদীদের মধ্যে বাবার পরিচিতও ছিল অনেকে, আর তাছাড়া সাইবেরিয়ায় নাকি অনেক ভালো লোক ছিল, অন্ততপক্ষে আর জামাসে যত ভালো লোক ছিল সাইবেরিয়ায় তার চেয়ে সংখ্যায় বেশি ছিল তারা।

এই সব কথা সেদিন আমার কানে ঢুকলেও মনের মধ্যে ধরা পড়ে নি। এ-রকম আরও কত-যে কথা শুনেছিলুম সেদিন! আর মাত্র এখনই সেই সব কথার মানে একটু-একটু বুঝতে শুরু করেছিলুম।

‘না। আমার সেই অতীত জীবনে কখনই ঘুণাক্ষরে আমি সন্দেহ করি নি, কিংবা ভাবতেও পারি নি যে আমার বাবা ছিলেন বিপ্লবী। আর এখন যে আমি লাল ফৌজের সঙ্গে আছি আর কাঁধে রাইফেল বয়ে বেড়াচ্ছি, এর কারণ এই নয় যে আমার বাবা বিপ্লবী ছিলেন আর আমি তাঁর ছেলে। এ-ব্যাপারটা আপনা-আপনিই ঘটেছে। নিজে থেকেই আমি এ-পথ বেছে নিয়েছি,’ আমি ভাবলুম। আর এটা চিন্তা করে নিজের সম্বন্ধে আমার গর্ব বোধ হল। না, সত্যি কথা, এত তো পার্টি ছিল দেশে, অথচ আমি সঠিক পার্টিকেই, একমাত্র বিপ্লবী পার্টিকেই, ঠিক ঠিক বেছে নিতে পেরেছি!

চুবুককে আমার এই চিন্তার ভাগ দেবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে উঠলুম। আর হঠাৎ আমার কেমন মনে হল, কই, ঘোড়ার সামনে কেউ তো নেই। তাহলে কি এতক্ষণ ধরে এই অপরিচিত রাস্তায় ঘোড়াটা নিজের খুশিমতো গাড়ি টেনে নিয়ে চলেছে! ভয় পেয়ে হাঁক পাড়লুম, ‘চুবুক!’

‘উহ!’ ওঁর রুঢ়, সংক্ষিপ্ত উত্তর পাওয়া গেল। ‘চ্যাঁচাচ্চ কিসের জন্যি, শুনি?’ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গিয়ে বললুম, ‘এখনও কি অনেক দেরি, চুবুক?’

‘আচে খানিকটে দূর,’ উনি বললেন। তারপর থামলেন। ‘ইদিকে এস দিকি একবার। কোটটারে খুলি ফ্যালো। পাইপটা ধরাব আমি।’

ঘোড়ার মাথা-বরাবর অন্ধকারে পাইপটা ভেসে চলল জোনাকির মতো। আস্তে-আন্তে রাস্তাটা সমতল হয়ে গেল। দু-ধারের জঙ্গল খানিকটা সরে গেল রাস্তা থেকে। আমরা দু-জন হাঁটতে লাগলুম পাশাপাশি।