০৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
মার্কিন নিরাপত্তা কি ভঙ্গুর? ইরান হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থার সংকট এইডস চিকিৎসা বন্ধের হুমকি, খনিজ চুক্তিতে চাপ: জাম্বিয়াকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙন, ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় গেট মানির জেরে পটুয়াখালীর বিয়েবাড়িতে সংঘর্ষ, আনন্দের আসর রূপ নিল উত্তেজনায় জুরাইনে বাক্সবন্দি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে নেমেছে পুলিশ ৩ মাসে বিদেশি ঋণ ১৩০ কোটি ডলার বৃদ্ধি, আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর, আহত আরও তিন সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা—নতুন দামে স্বস্তি বাজারে ঈদ ও রমজানের পর ঢাকায় ফলের দামে স্বস্তি, তবে পুরোপুরি কমেনি চাপ আবাসিক ভবনের নিচে তেলের ভাণ্ডার! ২৫ হাজার লিটার ডিজেল মজুদে জরিমানা, সরানোর নির্দেশ

সুপারনোভার রহস্য

মহাজাগতিক এক অস্বাভাবিক বিস্ফোরণ

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মহাবিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত বিস্ফোরণটি ঘটেছে এক বিশাল নক্ষত্রের বিস্ফোরণের সময়, যখন সেটি একটি ক্ষুদ্র কৃষ্ণগহ্বরের দ্বারা টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল। এ ঘটনাকে তারা সুপারনোভার নতুন রূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আবিষ্কারের সূচনা

প্রায় ৭৩০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে এ বিস্ফোরণ প্রথম ধরা পড়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে, এক নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করে অস্বাভাবিক বিস্ফোরণ শনাক্ত করছিল। গবেষণায় দেখা যায়, এক বিশাল নক্ষত্র বিপজ্জনক কক্ষপথে একটি ক্ষুদ্র কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে আটকে ছিল। কৃষ্ণগহ্বরটি নক্ষত্রের গ্যাস ও ধুলো টেনে নিচ্ছিল। কিন্তু নক্ষত্রটি কৃষ্ণগহ্বরকে গিলে ফেলার আগেই তার বিশাল মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নক্ষত্রটিকে বিস্ফোরিত করে।

নক্ষত্র ও কৃষ্ণগহ্বরের সম্পর্ক

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাশলে ভিলার বলেন, কৃষ্ণগহ্বরটি নক্ষত্রটির জীবনচক্রকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রভাবিত করেছে। অনেক নক্ষত্র যুগল বা একাধিক সঙ্গী নিয়ে জন্ম নেয়। এখানে এক নক্ষত্র কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয় এবং অপর নক্ষত্র ক্রমে তার টানে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়।

সাধারণ সুপারনোভা বনাম নতুন ধরণ

সাধারণ সুপারনোভায় নক্ষত্রের কেন্দ্র হঠাৎ ভেঙে পড়ে, বিশাল শক্তির তরঙ্গ বাইরের স্তর ভেদ করে আলো ছড়ায়। এ প্রক্রিয়ায় তেজস্ক্রিয় উপাদান তৈরি হয় যা ক্ষয় হয়ে শক্তি নির্গত করে, এবং সপ্তাহ বা মাসজুড়ে আলো জ্বলে থাকে।
কিন্তু এই বিস্ফোরণটি, যেটির নাম দেওয়া হয়েছে SN 2023zkd, ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথমত, এটি অ্যালগরিদম দ্বারা শনাক্ত হয় যখন এটি ক্ষীণ হচ্ছিল, কিন্তু প্রত্যাশিত হারের চেয়ে ধীরগতিতে। দ্বিতীয়ত, আর্কাইভ করা তথ্য ঘেঁটে দেখা যায় যে এটি বিস্ফোরণের আগে প্রায় চার বছর ধরে ক্রমে উজ্জ্বল হচ্ছিল, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তৃতীয়ত, ম্লান হওয়ার পর আবারও এটি অপ্রত্যাশিতভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

আলোর উৎসের ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানীরা অতিবেগুনি থেকে ইনফ্রারেড পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করে কম্পিউটার মডেলে বিশ্লেষণ চালান। দেখা যায়, আলোর উৎসটি তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে নয়, বরং নক্ষত্র ও কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশের গ্যাস-ধুলোর সংঘর্ষ থেকে এসেছে। কৃষ্ণগহ্বরের অসম টানে গ্যাস খসে পড়ে, আর বিস্ফোরণের তরঙ্গ ওই গ্যাসে আঘাত করলে প্রথম আলোকঝলক দেখা যায়। পরবর্তী উজ্জ্বলতা আসে ঘন ধুলোর ডিস্কে ধীর গতির সংঘর্ষ থেকে।

বিকল্প ব্যাখ্যা ও গবেষণা

আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রকে টুকরো করে ফেলে, যার ফলে ধ্বংসাবশেষ আশেপাশের গ্যাসে ধাক্কা খেয়ে সুপারনোভা সদৃশ আলো তৈরি করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অতীতে কিছু সুপারনোভায় দ্বৈত উজ্জ্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবে এবারই প্রথম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব প্রমাণ মিলেছে।

ভবিষ্যৎ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা

এ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতের সুপারনোভা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করবে। ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি শিগগিরই আকাশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজারো সুপারনোভা শনাক্ত করবে। নতুন এআই অ্যালগরিদম দ্রুত তথ্য ছেঁকে এমন অস্বাভাবিক বিস্ফোরণগুলো চিহ্নিত করতে পারবে।

মহাজাগতিক প্রেক্ষাপট

গবেষক অ্যালেক্স গাগলিয়ানো বলেন, হয়তো আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সিতেই একটি সুপারনোভা আসন্ন, তাই প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা খুব জরুরি। তবে মানুষের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই, বরং এটি হবে এক অসাধারণ আলোর প্রদর্শনী।

অদ্ভুত এ সুপারনোভা আমাদের মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনের এক নতুন দিক উন্মুক্ত করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে নক্ষত্রের জীবনচক্র, কৃষ্ণগহ্বরের প্রভাব এবং মহাজাগতিক বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও গভীর বোঝাপড়া তৈরি হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নিরাপত্তা কি ভঙ্গুর? ইরান হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থার সংকট

সুপারনোভার রহস্য

১১:২২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

মহাজাগতিক এক অস্বাভাবিক বিস্ফোরণ

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মহাবিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত বিস্ফোরণটি ঘটেছে এক বিশাল নক্ষত্রের বিস্ফোরণের সময়, যখন সেটি একটি ক্ষুদ্র কৃষ্ণগহ্বরের দ্বারা টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল। এ ঘটনাকে তারা সুপারনোভার নতুন রূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আবিষ্কারের সূচনা

প্রায় ৭৩০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে এ বিস্ফোরণ প্রথম ধরা পড়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে, এক নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে। এটি তাৎক্ষণিকভাবে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করে অস্বাভাবিক বিস্ফোরণ শনাক্ত করছিল। গবেষণায় দেখা যায়, এক বিশাল নক্ষত্র বিপজ্জনক কক্ষপথে একটি ক্ষুদ্র কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে আটকে ছিল। কৃষ্ণগহ্বরটি নক্ষত্রের গ্যাস ও ধুলো টেনে নিচ্ছিল। কিন্তু নক্ষত্রটি কৃষ্ণগহ্বরকে গিলে ফেলার আগেই তার বিশাল মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নক্ষত্রটিকে বিস্ফোরিত করে।

নক্ষত্র ও কৃষ্ণগহ্বরের সম্পর্ক

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাশলে ভিলার বলেন, কৃষ্ণগহ্বরটি নক্ষত্রটির জীবনচক্রকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রভাবিত করেছে। অনেক নক্ষত্র যুগল বা একাধিক সঙ্গী নিয়ে জন্ম নেয়। এখানে এক নক্ষত্র কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয় এবং অপর নক্ষত্র ক্রমে তার টানে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়।

সাধারণ সুপারনোভা বনাম নতুন ধরণ

সাধারণ সুপারনোভায় নক্ষত্রের কেন্দ্র হঠাৎ ভেঙে পড়ে, বিশাল শক্তির তরঙ্গ বাইরের স্তর ভেদ করে আলো ছড়ায়। এ প্রক্রিয়ায় তেজস্ক্রিয় উপাদান তৈরি হয় যা ক্ষয় হয়ে শক্তি নির্গত করে, এবং সপ্তাহ বা মাসজুড়ে আলো জ্বলে থাকে।
কিন্তু এই বিস্ফোরণটি, যেটির নাম দেওয়া হয়েছে SN 2023zkd, ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথমত, এটি অ্যালগরিদম দ্বারা শনাক্ত হয় যখন এটি ক্ষীণ হচ্ছিল, কিন্তু প্রত্যাশিত হারের চেয়ে ধীরগতিতে। দ্বিতীয়ত, আর্কাইভ করা তথ্য ঘেঁটে দেখা যায় যে এটি বিস্ফোরণের আগে প্রায় চার বছর ধরে ক্রমে উজ্জ্বল হচ্ছিল, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তৃতীয়ত, ম্লান হওয়ার পর আবারও এটি অপ্রত্যাশিতভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

আলোর উৎসের ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানীরা অতিবেগুনি থেকে ইনফ্রারেড পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করে কম্পিউটার মডেলে বিশ্লেষণ চালান। দেখা যায়, আলোর উৎসটি তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে নয়, বরং নক্ষত্র ও কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশের গ্যাস-ধুলোর সংঘর্ষ থেকে এসেছে। কৃষ্ণগহ্বরের অসম টানে গ্যাস খসে পড়ে, আর বিস্ফোরণের তরঙ্গ ওই গ্যাসে আঘাত করলে প্রথম আলোকঝলক দেখা যায়। পরবর্তী উজ্জ্বলতা আসে ঘন ধুলোর ডিস্কে ধীর গতির সংঘর্ষ থেকে।

বিকল্প ব্যাখ্যা ও গবেষণা

আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্রকে টুকরো করে ফেলে, যার ফলে ধ্বংসাবশেষ আশেপাশের গ্যাসে ধাক্কা খেয়ে সুপারনোভা সদৃশ আলো তৈরি করে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অতীতে কিছু সুপারনোভায় দ্বৈত উজ্জ্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবে এবারই প্রথম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব প্রমাণ মিলেছে।

ভবিষ্যৎ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা

এ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতের সুপারনোভা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করবে। ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি শিগগিরই আকাশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজারো সুপারনোভা শনাক্ত করবে। নতুন এআই অ্যালগরিদম দ্রুত তথ্য ছেঁকে এমন অস্বাভাবিক বিস্ফোরণগুলো চিহ্নিত করতে পারবে।

মহাজাগতিক প্রেক্ষাপট

গবেষক অ্যালেক্স গাগলিয়ানো বলেন, হয়তো আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সিতেই একটি সুপারনোভা আসন্ন, তাই প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা খুব জরুরি। তবে মানুষের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই, বরং এটি হবে এক অসাধারণ আলোর প্রদর্শনী।

অদ্ভুত এ সুপারনোভা আমাদের মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনের এক নতুন দিক উন্মুক্ত করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে নক্ষত্রের জীবনচক্র, কৃষ্ণগহ্বরের প্রভাব এবং মহাজাগতিক বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও গভীর বোঝাপড়া তৈরি হবে।