০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে বিভ্রান্তি কাটান, সুস্থ অন্ত্রের গোপন রহস্য জানালেন বিশেষজ্ঞরা লিবিয়া থেকে ১১০ বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী দেশে ফেরত বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭,৩৭৯ পণ্য প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজলের মৃত্যু ভোট কারচুপিকারীরা ফ্যাসিস্টদের মতোই পরিণতি ভোগ করবে: নাহিদ খুলনায় গুলিতে যুবক নিহত বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭,৩৭৯ পণ্য বাংলাদেশি—এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়: সালাহউদ্দিন ভোলার মনপুরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৮ ৮ ফেব্রুয়ারির ঢাকা সমাবেশ বাতিল, বিভিন্ন স্থানে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে ছেলেকে বাঁচালেন এক সাহসী মা

অবিশ্বাস্য সাহসিকতার ঘটনা

উত্তর প্রদেশের বেহরাইচ জেলায় এক মা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুমিরের হাত থেকে মাত্র পাঁচ বছরের ছেলেকে রক্ষা করেছেন। ধাকিয়া গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা এখনও বিস্ময়ে হতবাক।

ঘটনার বিবরণ

পাঁচ বছরের ভীরু বাড়ির পাশের নালার ধারে খেলছিল। হঠাৎ পানির ভেতর থেকে একটি কুমির ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে টেনে নিতে চায়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে মা মায়া (৪০) দৌড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই শুরু করেন।

প্রাণপণ সংগ্রাম

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও কুমিরের মধ্যে পাঁচ মিনিটের জীবন-মৃত্যুর লড়াই হয়। মায়া প্রথমে হাতে আঘাত করতে থাকেন, নখ দিয়ে আঁচড়ান এবং সর্বশক্তি দিয়ে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখেন। পরে তিনি একটি লোহার রড হাতে পেয়ে কুমিরকে আঘাত করেন। শেষ পর্যন্ত কুমির ছেলেটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

মায়ের বর্ণনা

মায়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি চিৎকার করে ছুটে যাই, নিজের প্রাণের কথা ভাবিনি। কুমির আমার ছেলেকে নিচে টানছিল, আমি সর্বশক্তি দিয়ে ধরে রাখি। আমি আঘাত করি, আঁচড়াই, ছাড়িনি এক মুহূর্তও। শেষে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার পর কুমির ছেড়ে দেয়। আমার ছেলে বেঁচে গেছে, এটাই বড় কথা।”

আহত মা ও শিশু

এই ঘটনায় মায়া ও তার ছেলে ভীরু দুজনেই আহত হন। মায়া হালকা আঘাত পেয়ে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পান, তবে গুরুতর জখম হওয়ায় ভীরুকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার পর প্রাক্তন গ্রামপ্রধান রাজকুমার সিং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। বন বিভাগীয় কর্মকর্তা রাম সিং যাদব ও এসডিও রশিদ জামিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারটির সঙ্গে দেখা করেন। যাদব আশ্বাস দেন, কুমির ধরতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

এই সাহসী মায়ের আত্মত্যাগী মনোভাব শুধু তার সন্তানকেই রক্ষা করেনি, বরং গ্রামবাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে বিভ্রান্তি কাটান, সুস্থ অন্ত্রের গোপন রহস্য জানালেন বিশেষজ্ঞরা

খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে ছেলেকে বাঁচালেন এক সাহসী মা

০১:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

অবিশ্বাস্য সাহসিকতার ঘটনা

উত্তর প্রদেশের বেহরাইচ জেলায় এক মা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুমিরের হাত থেকে মাত্র পাঁচ বছরের ছেলেকে রক্ষা করেছেন। ধাকিয়া গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা এখনও বিস্ময়ে হতবাক।

ঘটনার বিবরণ

পাঁচ বছরের ভীরু বাড়ির পাশের নালার ধারে খেলছিল। হঠাৎ পানির ভেতর থেকে একটি কুমির ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে টেনে নিতে চায়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে মা মায়া (৪০) দৌড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই শুরু করেন।

প্রাণপণ সংগ্রাম

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও কুমিরের মধ্যে পাঁচ মিনিটের জীবন-মৃত্যুর লড়াই হয়। মায়া প্রথমে হাতে আঘাত করতে থাকেন, নখ দিয়ে আঁচড়ান এবং সর্বশক্তি দিয়ে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখেন। পরে তিনি একটি লোহার রড হাতে পেয়ে কুমিরকে আঘাত করেন। শেষ পর্যন্ত কুমির ছেলেটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

মায়ের বর্ণনা

মায়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি চিৎকার করে ছুটে যাই, নিজের প্রাণের কথা ভাবিনি। কুমির আমার ছেলেকে নিচে টানছিল, আমি সর্বশক্তি দিয়ে ধরে রাখি। আমি আঘাত করি, আঁচড়াই, ছাড়িনি এক মুহূর্তও। শেষে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার পর কুমির ছেড়ে দেয়। আমার ছেলে বেঁচে গেছে, এটাই বড় কথা।”

আহত মা ও শিশু

এই ঘটনায় মায়া ও তার ছেলে ভীরু দুজনেই আহত হন। মায়া হালকা আঘাত পেয়ে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পান, তবে গুরুতর জখম হওয়ায় ভীরুকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার পর প্রাক্তন গ্রামপ্রধান রাজকুমার সিং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। বন বিভাগীয় কর্মকর্তা রাম সিং যাদব ও এসডিও রশিদ জামিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারটির সঙ্গে দেখা করেন। যাদব আশ্বাস দেন, কুমির ধরতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

এই সাহসী মায়ের আত্মত্যাগী মনোভাব শুধু তার সন্তানকেই রক্ষা করেনি, বরং গ্রামবাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।