০২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
তেহরানে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, লক্ষ্য সামরিক অবকাঠামো তেহরানে ইসরায়েলের নতুন হামলা, ইসলামাবাদে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে কূটনৈতিক বৈঠক শুরু দক্ষিণ লেবাননে অভিযানে ইসরায়েলি সেনা নিহত, আরও তিনজন আহত ইরানের হামলায় বাহরাইন ও আবুধাবির অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় ক্ষয়ক্ষতি, আহত কর্মীরা তেহরানে ভয়াবহ বিমান হামলা: বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বিয়েবাড়ির গান থেকে মসজিদে হামলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আতঙ্কে কনের পরিবার রংপুরে তেলের ডিপোতে বিজিবি, জ্বালানির তীব্র সংকটে স্থবির নগরজীবন রাজশাহীতে হাম ছড়িয়ে শিশুমৃত্যুর শঙ্কা, আইসিইউ সংকটে ভেঙে পড়ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা ইরানে এক দিনে সর্বোচ্চ হামলার রেকর্ড, হতাহত বেড়েই চলেছে জলমহাল দখল করে পুকুর খনন, সিলেটে বাড়ছে উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা

খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে ছেলেকে বাঁচালেন এক সাহসী মা

অবিশ্বাস্য সাহসিকতার ঘটনা

উত্তর প্রদেশের বেহরাইচ জেলায় এক মা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুমিরের হাত থেকে মাত্র পাঁচ বছরের ছেলেকে রক্ষা করেছেন। ধাকিয়া গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা এখনও বিস্ময়ে হতবাক।

ঘটনার বিবরণ

পাঁচ বছরের ভীরু বাড়ির পাশের নালার ধারে খেলছিল। হঠাৎ পানির ভেতর থেকে একটি কুমির ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে টেনে নিতে চায়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে মা মায়া (৪০) দৌড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই শুরু করেন।

প্রাণপণ সংগ্রাম

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও কুমিরের মধ্যে পাঁচ মিনিটের জীবন-মৃত্যুর লড়াই হয়। মায়া প্রথমে হাতে আঘাত করতে থাকেন, নখ দিয়ে আঁচড়ান এবং সর্বশক্তি দিয়ে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখেন। পরে তিনি একটি লোহার রড হাতে পেয়ে কুমিরকে আঘাত করেন। শেষ পর্যন্ত কুমির ছেলেটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

মায়ের বর্ণনা

মায়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি চিৎকার করে ছুটে যাই, নিজের প্রাণের কথা ভাবিনি। কুমির আমার ছেলেকে নিচে টানছিল, আমি সর্বশক্তি দিয়ে ধরে রাখি। আমি আঘাত করি, আঁচড়াই, ছাড়িনি এক মুহূর্তও। শেষে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার পর কুমির ছেড়ে দেয়। আমার ছেলে বেঁচে গেছে, এটাই বড় কথা।”

আহত মা ও শিশু

এই ঘটনায় মায়া ও তার ছেলে ভীরু দুজনেই আহত হন। মায়া হালকা আঘাত পেয়ে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পান, তবে গুরুতর জখম হওয়ায় ভীরুকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার পর প্রাক্তন গ্রামপ্রধান রাজকুমার সিং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। বন বিভাগীয় কর্মকর্তা রাম সিং যাদব ও এসডিও রশিদ জামিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারটির সঙ্গে দেখা করেন। যাদব আশ্বাস দেন, কুমির ধরতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

এই সাহসী মায়ের আত্মত্যাগী মনোভাব শুধু তার সন্তানকেই রক্ষা করেনি, বরং গ্রামবাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

তেহরানে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, লক্ষ্য সামরিক অবকাঠামো

খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে ছেলেকে বাঁচালেন এক সাহসী মা

০১:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

অবিশ্বাস্য সাহসিকতার ঘটনা

উত্তর প্রদেশের বেহরাইচ জেলায় এক মা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুমিরের হাত থেকে মাত্র পাঁচ বছরের ছেলেকে রক্ষা করেছেন। ধাকিয়া গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা এখনও বিস্ময়ে হতবাক।

ঘটনার বিবরণ

পাঁচ বছরের ভীরু বাড়ির পাশের নালার ধারে খেলছিল। হঠাৎ পানির ভেতর থেকে একটি কুমির ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরে টেনে নিতে চায়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে মা মায়া (৪০) দৌড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি এক মুহূর্ত দেরি না করে খালি হাতে কুমিরের সঙ্গে লড়াই শুরু করেন।

প্রাণপণ সংগ্রাম

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও কুমিরের মধ্যে পাঁচ মিনিটের জীবন-মৃত্যুর লড়াই হয়। মায়া প্রথমে হাতে আঘাত করতে থাকেন, নখ দিয়ে আঁচড়ান এবং সর্বশক্তি দিয়ে সন্তানকে আঁকড়ে ধরে রাখেন। পরে তিনি একটি লোহার রড হাতে পেয়ে কুমিরকে আঘাত করেন। শেষ পর্যন্ত কুমির ছেলেটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

মায়ের বর্ণনা

মায়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি চিৎকার করে ছুটে যাই, নিজের প্রাণের কথা ভাবিনি। কুমির আমার ছেলেকে নিচে টানছিল, আমি সর্বশক্তি দিয়ে ধরে রাখি। আমি আঘাত করি, আঁচড়াই, ছাড়িনি এক মুহূর্তও। শেষে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার পর কুমির ছেড়ে দেয়। আমার ছেলে বেঁচে গেছে, এটাই বড় কথা।”

আহত মা ও শিশু

এই ঘটনায় মায়া ও তার ছেলে ভীরু দুজনেই আহত হন। মায়া হালকা আঘাত পেয়ে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পান, তবে গুরুতর জখম হওয়ায় ভীরুকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার পর প্রাক্তন গ্রামপ্রধান রাজকুমার সিং স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। বন বিভাগীয় কর্মকর্তা রাম সিং যাদব ও এসডিও রশিদ জামিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারটির সঙ্গে দেখা করেন। যাদব আশ্বাস দেন, কুমির ধরতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

এই সাহসী মায়ের আত্মত্যাগী মনোভাব শুধু তার সন্তানকেই রক্ষা করেনি, বরং গ্রামবাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।