০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে বিভ্রান্তি কাটান, সুস্থ অন্ত্রের গোপন রহস্য জানালেন বিশেষজ্ঞরা লিবিয়া থেকে ১১০ বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী দেশে ফেরত বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭,৩৭৯ পণ্য প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজলের মৃত্যু ভোট কারচুপিকারীরা ফ্যাসিস্টদের মতোই পরিণতি ভোগ করবে: নাহিদ খুলনায় গুলিতে যুবক নিহত বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ৭,৩৭৯ পণ্য বাংলাদেশি—এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়: সালাহউদ্দিন ভোলার মনপুরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৮ ৮ ফেব্রুয়ারির ঢাকা সমাবেশ বাতিল, বিভিন্ন স্থানে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

স্ল্যাং কি আসলেই দরিদ্রের ক্ষোভ প্রকাশের অস্ত্র ?

দারিদ্র্যের চাপ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ

বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহারে অশ্লীলতা বা কটু শব্দ প্রায়ই চোখে পড়ে। সমাজের শিক্ষিত অংশ এটিকে অসভ্যতা বা অসাংস্কৃতিক আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গবেষকরা মনে করেন, এসব শব্দচয়ন মূলত দারিদ্র্যের চাপ, মানসিক ক্লান্তি ও সামাজিক অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিন খাদ্যের অনিশ্চয়তা, চিকিৎসার অপ্রাপ্যতা এবং জীবিকার সংকট মানুষকে যে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে, তার ফলাফল প্রায়শই প্রকাশ পায় কটু বা আক্রমণাত্মক ভাষার মাধ্যমে।

বিকল্পের অভাব ও আবেগের নির্গমন

মানুষের রাগ হয় কেন?

দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনে বিনোদন, পরামর্শ কিংবা মানসিক প্রশান্তির নিরাপদ মাধ্যম প্রায় অনুপস্থিত। এ কারণে রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশের সহজতম উপায় হয়ে ওঠে কটু ভাষা। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, এটি অনেকটা আত্মরক্ষার কৌশল—সংক্ষিপ্ত, সরাসরি এবং তৎক্ষণাৎ প্রভাব বিস্তারকারী। প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার সংগ্রামে এ ধরনের ভাষা প্রায়ই একধরনের সামাজিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সংস্কৃতি নয়পরিবেশের প্রভাব

অনেকে মনে করেন, অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের মানে হলো সংস্কৃতির অভাব। তবে বাস্তব চিত্র বলে, এটি মূলত পরিবেশগত প্রভাব। দরিদ্র পাড়া-মহল্লায় বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরেরা প্রতিদিন এই ধরনের ভাষা শুনে এবং ব্যবহার করে। ধীরে ধীরে তা একধরনের উপ-সংস্কৃতিতে রূপ নেয়। ফলে তাদের কাছে এসব শব্দচয়ন অস্বাভাবিক নয়, বরং পরিবেশের প্রভাবে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ

কেবল পারিবারিক বা ব্যক্তিগত হতাশাই নয়, দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের কটু ভাষা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবিচারের বিরুদ্ধেও একপ্রকার প্রতীকী প্রতিবাদ। বৈষম্য, অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে তারা প্রায়ই নিজেদের অক্ষম অবস্থানে আবিষ্কার করে। এমন বাস্তবতায় কটু ভাষা হয়ে ওঠে কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিরোধ। এটি একধরনের মৌখিক প্রতিবাদ, যা সামগ্রিক বৈষম্যের চিত্রও ফুটিয়ে তোলে।

অতএব, দরিদ্র মানুষের স্ল্যাং বা কটু ভাষা ব্যবহারকে কেবলমাত্র ‘অসাংস্কৃতিক আচরণ’ হিসেবে দেখা সঠিক নয়। এটি মানসিক চাপ, দারিদ্র্যজনিত হতাশা এবং সামাজিক অবিচারের বহিঃপ্রকাশ। এই ভাষা তাদের ক্ষোভ, অবহেলার অনুভূতি এবং টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিফলন। সমাজের মূলধারায় এটিকে কেবল নেতিবাচক দৃষ্টিতে বিচার করলে সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে না। বরং দরকার দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক নিয়ে বিভ্রান্তি কাটান, সুস্থ অন্ত্রের গোপন রহস্য জানালেন বিশেষজ্ঞরা

স্ল্যাং কি আসলেই দরিদ্রের ক্ষোভ প্রকাশের অস্ত্র ?

০৫:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

দারিদ্র্যের চাপ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ

বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা ব্যবহারে অশ্লীলতা বা কটু শব্দ প্রায়ই চোখে পড়ে। সমাজের শিক্ষিত অংশ এটিকে অসভ্যতা বা অসাংস্কৃতিক আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গবেষকরা মনে করেন, এসব শব্দচয়ন মূলত দারিদ্র্যের চাপ, মানসিক ক্লান্তি ও সামাজিক অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। প্রতিদিন খাদ্যের অনিশ্চয়তা, চিকিৎসার অপ্রাপ্যতা এবং জীবিকার সংকট মানুষকে যে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে, তার ফলাফল প্রায়শই প্রকাশ পায় কটু বা আক্রমণাত্মক ভাষার মাধ্যমে।

বিকল্পের অভাব ও আবেগের নির্গমন

মানুষের রাগ হয় কেন?

দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনে বিনোদন, পরামর্শ কিংবা মানসিক প্রশান্তির নিরাপদ মাধ্যম প্রায় অনুপস্থিত। এ কারণে রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশের সহজতম উপায় হয়ে ওঠে কটু ভাষা। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, এটি অনেকটা আত্মরক্ষার কৌশল—সংক্ষিপ্ত, সরাসরি এবং তৎক্ষণাৎ প্রভাব বিস্তারকারী। প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার সংগ্রামে এ ধরনের ভাষা প্রায়ই একধরনের সামাজিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সংস্কৃতি নয়পরিবেশের প্রভাব

অনেকে মনে করেন, অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের মানে হলো সংস্কৃতির অভাব। তবে বাস্তব চিত্র বলে, এটি মূলত পরিবেশগত প্রভাব। দরিদ্র পাড়া-মহল্লায় বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরেরা প্রতিদিন এই ধরনের ভাষা শুনে এবং ব্যবহার করে। ধীরে ধীরে তা একধরনের উপ-সংস্কৃতিতে রূপ নেয়। ফলে তাদের কাছে এসব শব্দচয়ন অস্বাভাবিক নয়, বরং পরিবেশের প্রভাবে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ

কেবল পারিবারিক বা ব্যক্তিগত হতাশাই নয়, দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের কটু ভাষা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবিচারের বিরুদ্ধেও একপ্রকার প্রতীকী প্রতিবাদ। বৈষম্য, অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে তারা প্রায়ই নিজেদের অক্ষম অবস্থানে আবিষ্কার করে। এমন বাস্তবতায় কটু ভাষা হয়ে ওঠে কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিরোধ। এটি একধরনের মৌখিক প্রতিবাদ, যা সামগ্রিক বৈষম্যের চিত্রও ফুটিয়ে তোলে।

অতএব, দরিদ্র মানুষের স্ল্যাং বা কটু ভাষা ব্যবহারকে কেবলমাত্র ‘অসাংস্কৃতিক আচরণ’ হিসেবে দেখা সঠিক নয়। এটি মানসিক চাপ, দারিদ্র্যজনিত হতাশা এবং সামাজিক অবিচারের বহিঃপ্রকাশ। এই ভাষা তাদের ক্ষোভ, অবহেলার অনুভূতি এবং টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিফলন। সমাজের মূলধারায় এটিকে কেবল নেতিবাচক দৃষ্টিতে বিচার করলে সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে না। বরং দরকার দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।