১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মিলানে শীতকালীন অলিম্পিক ঘিরে বিক্ষোভে উত্তেজনা, জলকামান ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কেলেঙ্কারির ছায়ায় কিয়ার স্টারমার, ম্যান্ডেলসন বিতর্কে কাঁপছে ব্রিটিশ রাজনীতি ট্রাম্পের ভাষণে মূল্যস্ফীতি জয়ের দাবি, কিন্তু দামের চাপেই নাখোশ ভোটার ভারত কি রুশ তেল কেনা বন্ধ করছে? যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে জল্পনা, দিল্লির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অজানা রাজস্থানের কোটায় তিনতলা রেস্তোরাঁ ধসে মৃত্যু এক, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ বহুজন ইসলামাবাদ হামলার মূলহোতা গ্রেপ্তার, ভারতীয় মদদের অভিযোগে উত্তপ্ত পাকিস্তান এনসিপির আখতার হোসেনকে হত্যার হুমকি, থানায় সাধারণ ডায়েরি নির্বাচন প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট প্রধান উপদেষ্টা, আগামী এক সপ্তাহকে দেখছেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় সিলেটে জামায়াতের সমাবেশে নজিরবিহীন নারী অংশগ্রহণ, রাজনীতিতে নতুন বার্তা টঙ্গীতে ট্রেনের নিচে মা ও দুই বছরের শিশুর মৃত্যু, পরিবারের দাবি আত্মহত্যা

জার্মান সেনাবাহিনীর আকার দ্বিগুণ করার আহ্বান

সেনাপ্রধানের গোপন প্রতিবেদনের দাবি

জার্মান সেনাবাহিনীর প্রধান আলফন্স মাইস জানিয়েছেন, ন্যাটোর নতুন লক্ষ্য পূরণ করতে হলে জার্মান সেনাবাহিনীতে আরও এক লাখ সক্রিয় সদস্য যুক্ত করতে হবে। বর্তমানে সেনাবাহিনীতে ৬২ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। ফলে সেনাপ্রধানের হিসাব অনুযায়ী আকার দ্বিগুণেরও বেশি করতে হবে।
তিনি ২ সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষা প্রধান কার্স্টেন ব্রুয়েরকে লেখা এক চিঠিতে লিখেছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যাটোকে প্রতিশ্রুত সামরিক সক্ষমতা সরবরাহ করতে হবে।


ন্যাটোর নতুন লক্ষ্য ও রাশিয়ার হুমকি

ন্যাটো মনে করছে, ২০২৯ সাল নাগাদ রাশিয়া পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে বৃহৎ আকারের হামলা চালানোর সামর্থ্য অর্জন করতে পারে। এ কারণে সেনাপ্রধান মাইস ২০২৯ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার নতুন সক্রিয় সদস্য যোগ করার কথা বলেছেন। একইসঙ্গে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ৪৫ হাজার সৈন্য প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করেছেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়।
অতিরিক্তভাবে, দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে তিনি আরও ১০ হাজার সদস্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন।

মস্কো অবশ্য ন্যাটো বা তার সদস্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি বারবার অস্বীকার করেছে।


বর্তমান অগ্রগতি ও সংকট

জার্মানি ইতোমধ্যে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের সহযোগিতা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে লিথুয়ানিয়ায় প্রায় ৫ হাজার সদস্যের একটি জার্মান ব্রিগেড গঠন এবং বাল্টিক সাগরে সমুদ্রতল সুরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।
তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে নির্ধারিত ২ লাখ ৩ হাজার সদস্যের লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার জনবল ঘাটতি রয়েছে।


মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

বার্লিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি শুধু বলেছেন, রাশিয়ার ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর ন্যাটো তাদের সক্ষমতার লক্ষ্য নতুন করে নির্ধারণ করেছে।
প্রাথমিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, জার্মান সেনাবাহিনীতে মোট প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার সদস্য প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সৈন্য এবং প্রায় ২ লাখ রিজার্ভ সদস্য থাকবে।


ভবিষ্যৎ চিত্র

জুন মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেছিলেন, নতুন ন্যাটো লক্ষ্য পূরণ করতে জার্মান সেনাবাহিনীকে অন্তত ৬০ হাজার নতুন সদস্য নিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে জার্মান সশস্ত্র বাহিনী, অর্থাৎ বুন্ডেসভেয়ার-এর মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজারে।
কিন্তু এখনো লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, বরং জনবল ঘাটতিই ক্রমশ চাপে ফেলছে জার্মান সেনাবাহিনীকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিলানে শীতকালীন অলিম্পিক ঘিরে বিক্ষোভে উত্তেজনা, জলকামান ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

জার্মান সেনাবাহিনীর আকার দ্বিগুণ করার আহ্বান

০৩:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সেনাপ্রধানের গোপন প্রতিবেদনের দাবি

জার্মান সেনাবাহিনীর প্রধান আলফন্স মাইস জানিয়েছেন, ন্যাটোর নতুন লক্ষ্য পূরণ করতে হলে জার্মান সেনাবাহিনীতে আরও এক লাখ সক্রিয় সদস্য যুক্ত করতে হবে। বর্তমানে সেনাবাহিনীতে ৬২ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। ফলে সেনাপ্রধানের হিসাব অনুযায়ী আকার দ্বিগুণেরও বেশি করতে হবে।
তিনি ২ সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষা প্রধান কার্স্টেন ব্রুয়েরকে লেখা এক চিঠিতে লিখেছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যাটোকে প্রতিশ্রুত সামরিক সক্ষমতা সরবরাহ করতে হবে।


ন্যাটোর নতুন লক্ষ্য ও রাশিয়ার হুমকি

ন্যাটো মনে করছে, ২০২৯ সাল নাগাদ রাশিয়া পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে বৃহৎ আকারের হামলা চালানোর সামর্থ্য অর্জন করতে পারে। এ কারণে সেনাপ্রধান মাইস ২০২৯ সালের মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার নতুন সক্রিয় সদস্য যোগ করার কথা বলেছেন। একইসঙ্গে, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ৪৫ হাজার সৈন্য প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করেছেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়।
অতিরিক্তভাবে, দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে তিনি আরও ১০ হাজার সদস্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন।

মস্কো অবশ্য ন্যাটো বা তার সদস্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি বারবার অস্বীকার করেছে।


বর্তমান অগ্রগতি ও সংকট

জার্মানি ইতোমধ্যে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের সহযোগিতা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে লিথুয়ানিয়ায় প্রায় ৫ হাজার সদস্যের একটি জার্মান ব্রিগেড গঠন এবং বাল্টিক সাগরে সমুদ্রতল সুরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।
তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে নির্ধারিত ২ লাখ ৩ হাজার সদস্যের লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার জনবল ঘাটতি রয়েছে।


মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

বার্লিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি শুধু বলেছেন, রাশিয়ার ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর ন্যাটো তাদের সক্ষমতার লক্ষ্য নতুন করে নির্ধারণ করেছে।
প্রাথমিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, জার্মান সেনাবাহিনীতে মোট প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার সদস্য প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সৈন্য এবং প্রায় ২ লাখ রিজার্ভ সদস্য থাকবে।


ভবিষ্যৎ চিত্র

জুন মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেছিলেন, নতুন ন্যাটো লক্ষ্য পূরণ করতে জার্মান সেনাবাহিনীকে অন্তত ৬০ হাজার নতুন সদস্য নিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে জার্মান সশস্ত্র বাহিনী, অর্থাৎ বুন্ডেসভেয়ার-এর মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজারে।
কিন্তু এখনো লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, বরং জনবল ঘাটতিই ক্রমশ চাপে ফেলছে জার্মান সেনাবাহিনীকে।