০৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে মোদি সরকারকে নিশানা কংগ্রেসের, ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঢাকার বাইরে যাচ্ছে তিন প্রধান বাস টার্মিনাল, যানজট কমাতে নতুন পরিকল্পনা হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, শান্তি চুক্তির আগে রয়ে গেছে বড় শর্ত যুদ্ধ শেষের পথে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য পুনরুজ্জীবনের প্রস্তুতিতে ভারত; সার আমদানি ও চাবাহার বন্দর ব্যবহারে নতুন আশা হলফনামায় ‘মিথ্যা তথ্য’ বিতর্ক: হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের দাবি রাশেদ খাঁনের রূপপুরে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত, সাময়িক বন্ধ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ধর্ম, ভিনগ্রহের প্রাণ ও অজানার বিতর্ক: নতুন করে আলোচনায় বিশ্বাসের প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে ‘কোটি কোটি টাকা’ নিয়ে ঘোরার অভিযোগের প্রমাণ চাইলেন আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ, মন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি হান্টার বাইডেনের খোলামেলা পোস্টে নতুন জনপ্রিয়তা, রিপাবলিকানদের মধ্যেও বাড়ছে সমর্থন

১ লাখ ডলার এইচ-১বি ভিসা ফি: সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়রা

ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার জন্য বার্ষিক ১ লাখ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯০ লাখ) ফি চালু করার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভারতীয়রা। এই অর্থ দিতে হবে সেইসব মার্কিন কোম্পানিকে, যারা বিদেশি প্রযুক্তি দক্ষ কর্মীদের স্পনসর করে।

ভিসা কোটা অপরিবর্তিতকিন্তু চাপ বাড়বে

বর্তমান লটারি ব্যবস্থায় প্রতিবছর ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ভারতীয়দের দখলে। এরপর আসে চীন, প্রায় ১১-১২ শতাংশ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ লাখ ভারতীয় এই ভিসায় কাজ করছেন, বেশিরভাগই প্রযুক্তি খাতে।

আগে ভিসা ফি ছিল গড়ে ২১৫ ডলার, বিশেষ ক্ষেত্রে ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত। এখন ১ লাখ ডলার মানে ২০ থেকে ১০০ গুণ বেশি, যা নতুন আবেদন প্রক্রিয়াকে প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।

আয়ের চেয়ে বেশি ফি

এই ফি অনেক ক্ষেত্রেই একজন নতুন এইচ-১বি ভিসাধারীর বার্ষিক বেতনের চেয়েও বেশি। গড় বেতনের ৮০ শতাংশের সমান এই ফি কার্যত পুরো প্রোগ্রামকে ধ্বংস করবে।

সামাজিক প্রভাব

এই ভিসা ভারতীয়দের জন্য আমেরিকায় উন্নত জীবনের দরজা খুলেছে। পরিবারসহ হিসাব করলে ভারতীয়-আমেরিকান জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশের সঙ্গে এই ভিসার যোগ রয়েছে। আজকের দিনে তারা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক শিক্ষিত ও উচ্চ আয়ের অভিবাসী গোষ্ঠী।

ভারতের কোম্পানিগুলোও দীর্ঘদিন ধরে তাদের নবীন ও মধ্যম পর্যায়ের প্রকৌশলীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে এই ভিসা ব্যবহার করেছে। ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রোসহ বড় প্রতিষ্ঠান যেমন ভরসা করেছে, তেমনি অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও ভারতীয় তরুণদের আনার জন্য এটি ব্যবহার করেছে।

মার্কিন সরকারের যুক্তি

মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছেন, “ট্রেইনি পাঠানো আর সম্ভব নয়। প্রশিক্ষণ দিতে হলে আমেরিকানদেরই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।” তার দাবি, এভাবে “উচ্চ আয়ের কর্মী” আনা সম্ভব হবে, যেখানে আগের নীতিতে “নিম্ন আয়ের কর্মীরা আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিত।”

জরুরি নির্দেশনা

ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ভিসাধারী ও তাদের পরিবার যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তবে ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আইন কার্যকর হওয়ার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফিরতে হবে, নইলে আটকে পড়ার ঝুঁকি আছে।

প্রযুক্তি খাতের প্রতিক্রিয়া

এলন মাস্কসহ উদ্যোক্তারা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত দক্ষ লোক নেই। তাই এই ভিসা টার্গেট করা মার্কিন প্রযুক্তি খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে।

২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনে সর্বাধিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, প্রায় ৪ লাখ। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ছিল নবায়ন। অথচ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে বাতিলের হার পৌঁছেছিল ২৪ শতাংশে।

ভারতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ভারতে বিষয়টি রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কোনো শক্তি নেই।” কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, “বাহুবল প্রদর্শন, স্লোগান, কনসার্ট আর ‘মোদি, মোদি’ ধ্বনি বিদেশনীতি নয়।” তিনি এই ভিসা ফি-কে ব্যঙ্গ করে মোদির জন্মদিনে ট্রাম্পের দেওয়া “উপহার” আখ্যা দিয়েছেন।

সম্ভাব্য সুযোগ

কিছু প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ী মনে করছেন, এতে ভারত থেকে প্রতিভা চলে যাওয়ার প্রবণতা কমবে, কিংবা যারা গিয়েছিলেন তারা ফিরে আসতে পারেন। তবে সেটি বাস্তবে কতটা ঘটবে, তা সময়ই বলবে।

মোদির প্রতিক্রিয়া

মোদী সরাসরি ভিসা ফি প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। তবে বারবার “আত্মনির্ভর ভারত”-এর কথা বলেছেন। গুজরাটে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো বিদেশ নির্ভরতা। এই শত্রুকেই একসঙ্গে পরাজিত করতে হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে মোদি সরকারকে নিশানা কংগ্রেসের, ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

১ লাখ ডলার এইচ-১বি ভিসা ফি: সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়রা

০৮:৫৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার জন্য বার্ষিক ১ লাখ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯০ লাখ) ফি চালু করার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভারতীয়রা। এই অর্থ দিতে হবে সেইসব মার্কিন কোম্পানিকে, যারা বিদেশি প্রযুক্তি দক্ষ কর্মীদের স্পনসর করে।

ভিসা কোটা অপরিবর্তিতকিন্তু চাপ বাড়বে

বর্তমান লটারি ব্যবস্থায় প্রতিবছর ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ভারতীয়দের দখলে। এরপর আসে চীন, প্রায় ১১-১২ শতাংশ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ লাখ ভারতীয় এই ভিসায় কাজ করছেন, বেশিরভাগই প্রযুক্তি খাতে।

আগে ভিসা ফি ছিল গড়ে ২১৫ ডলার, বিশেষ ক্ষেত্রে ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত। এখন ১ লাখ ডলার মানে ২০ থেকে ১০০ গুণ বেশি, যা নতুন আবেদন প্রক্রিয়াকে প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।

আয়ের চেয়ে বেশি ফি

এই ফি অনেক ক্ষেত্রেই একজন নতুন এইচ-১বি ভিসাধারীর বার্ষিক বেতনের চেয়েও বেশি। গড় বেতনের ৮০ শতাংশের সমান এই ফি কার্যত পুরো প্রোগ্রামকে ধ্বংস করবে।

সামাজিক প্রভাব

এই ভিসা ভারতীয়দের জন্য আমেরিকায় উন্নত জীবনের দরজা খুলেছে। পরিবারসহ হিসাব করলে ভারতীয়-আমেরিকান জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশের সঙ্গে এই ভিসার যোগ রয়েছে। আজকের দিনে তারা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক শিক্ষিত ও উচ্চ আয়ের অভিবাসী গোষ্ঠী।

ভারতের কোম্পানিগুলোও দীর্ঘদিন ধরে তাদের নবীন ও মধ্যম পর্যায়ের প্রকৌশলীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে এই ভিসা ব্যবহার করেছে। ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রোসহ বড় প্রতিষ্ঠান যেমন ভরসা করেছে, তেমনি অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটও ভারতীয় তরুণদের আনার জন্য এটি ব্যবহার করেছে।

মার্কিন সরকারের যুক্তি

মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছেন, “ট্রেইনি পাঠানো আর সম্ভব নয়। প্রশিক্ষণ দিতে হলে আমেরিকানদেরই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।” তার দাবি, এভাবে “উচ্চ আয়ের কর্মী” আনা সম্ভব হবে, যেখানে আগের নীতিতে “নিম্ন আয়ের কর্মীরা আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিত।”

জরুরি নির্দেশনা

ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ভিসাধারী ও তাদের পরিবার যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তবে ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আইন কার্যকর হওয়ার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফিরতে হবে, নইলে আটকে পড়ার ঝুঁকি আছে।

প্রযুক্তি খাতের প্রতিক্রিয়া

এলন মাস্কসহ উদ্যোক্তারা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত দক্ষ লোক নেই। তাই এই ভিসা টার্গেট করা মার্কিন প্রযুক্তি খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে।

২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনে সর্বাধিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, প্রায় ৪ লাখ। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ছিল নবায়ন। অথচ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে বাতিলের হার পৌঁছেছিল ২৪ শতাংশে।

ভারতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ভারতে বিষয়টি রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কোনো শক্তি নেই।” কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, “বাহুবল প্রদর্শন, স্লোগান, কনসার্ট আর ‘মোদি, মোদি’ ধ্বনি বিদেশনীতি নয়।” তিনি এই ভিসা ফি-কে ব্যঙ্গ করে মোদির জন্মদিনে ট্রাম্পের দেওয়া “উপহার” আখ্যা দিয়েছেন।

সম্ভাব্য সুযোগ

কিছু প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ী মনে করছেন, এতে ভারত থেকে প্রতিভা চলে যাওয়ার প্রবণতা কমবে, কিংবা যারা গিয়েছিলেন তারা ফিরে আসতে পারেন। তবে সেটি বাস্তবে কতটা ঘটবে, তা সময়ই বলবে।

মোদির প্রতিক্রিয়া

মোদী সরাসরি ভিসা ফি প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। তবে বারবার “আত্মনির্ভর ভারত”-এর কথা বলেছেন। গুজরাটে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো বিদেশ নির্ভরতা। এই শত্রুকেই একসঙ্গে পরাজিত করতে হবে।”