০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
নতুন “সিকাডা” কোভিড ভ্যারিয়েন্ট প্রধানত শিশুদের আক্রমণ করছে, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন টাইগার উডসের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর গ্রেফতারের বডিক্যাম ভিডিও প্রকাশ ইতালিতে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু, রিসিন বিষক্রিয়ার সন্দেহে দ্বৈত হত্যা মামলা ইতালিতে মাফিয়া গডফাদার গ্রেফতার, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি পুলিশের প্রশংসা করেছেন উত্তরপ্রদেশে মেলায় ৬০ ফুট দোলনা ভেঙে পড়ে ৩০ জনের বেশি আহত, শিশুসহ মোটরসাইকেলের বিক্রয় কমেছে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব স্পষ্ট ইরানের দাবী: তিন দিনে তিনটি আমেরিকার সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল খাতে হামলা বাড়ানোর হুমকি ইসরায়েলের ইরানের ভেতরে দুঃসাহসিক অভিযানে মার্কিন পাইলট উদ্ধার, যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত ভারতের ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ পরিকল্পনার অভিযোগ, কড়া সতর্কবার্তা পাকিস্তানের

ড্রোন হামলায় সুদানের মসজিদে নিহত ৭৮ জন

ভয়াবহ হামলার ঘটনা

সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহরে নামাজরত মানুষের ওপর ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ৭৮ জন নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় এক চিকিৎসক জানিয়েছেন। ভোরের নামাজ চলাকালে হামলাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ড্রোনটি মসজিদের ছাদ ভেদ করে ভেতরে আঘাত হানে এবং মুহূর্তের মধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

দায়ী পক্ষ ও গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপট

এই হামলার জন্য দায়ী করা হচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ), যদিও তারা এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। সুদানে প্রায় দুই বছর ধরে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলছে। বর্তমানে এল-ফাশের শহর দখলের জন্য আরএসএফ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি দারফুরে সেনাদের শেষ ঘাঁটি, যেখানে তিন লাখের বেশি সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আটকা পড়ে আছেন।

হতাহতের সংখ্যা ও উদ্ধার অভিযান

চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনো মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। বিবিসি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মসজিদের বাইরে কাপড়ে মোড়ানো অন্তত ৩০টি মরদেহ সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।

 

আরএসএফ-এর সামরিক অগ্রযাত্রা

সম্প্রতি আরএসএফ নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে। শহরের কাছের আবু শৌক শরণার্থী শিবিরেও তীব্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, শিবিরের বড় অংশ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। একইসঙ্গে তারা যৌথ বাহিনীর সদর দপ্তরেও প্রবেশ করেছে, যা জাতিসংঘের পুরোনো কম্পাউন্ড হিসেবে সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র ছিল। যদিও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

এই অবস্থায় এল-ফাশেরের বিমানবন্দর ও সেনা সদর দপ্তর সরাসরি আরএসএফ-এর গোলাবর্ষণের আওতায় চলে এসেছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব সতর্ক করেছে, দ্রুত সেনা সহায়তা না এলে পুরো শহর আরএসএফ-এর দখলে যেতে পারে। এতে দেশ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে—উত্তর ও পূর্ব সেনাদের হাতে, আর পশ্চিম অংশ আরএসএফ-এর দখলে।

জাতিগত নিধনের শঙ্কা

মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, শহরে থাকা বেসামরিক মানুষদের ওপর আরএসএফ টার্গেট হামলা চালাতে পারে। কারণ অধিকাংশ মানুষ এমন জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যাদের আরএসএফ শত্রু মনে করে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত ক্রমেই জাতিগত রূপ নিচ্ছে। উভয় পক্ষ একে অপরের সমর্থক সন্দেহে সাধারণ মানুষদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নথি বলছে, আরএসএফ দখলকৃত এলাকায় অ-আরব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডাক্তারস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, আরএসএফ সৈন্যরা প্রকাশ্যে বলেছে তারা এল-ফাশেরকে অ-আরব জনগোষ্ঠী থেকে ‘পরিষ্কার’ করবে। তবে আরএসএফ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের কোনো উপজাতীয় সংঘাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই।

সুদানের দারফুর এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। মসজিদে একক হামলায় এত মানুষের মৃত্যু প্রমাণ করে, পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। যদি দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ও সহায়তা না আসে, তবে এল-ফাশেরের পতনের সঙ্গে দারফুরে আরও রক্তপাত এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন “সিকাডা” কোভিড ভ্যারিয়েন্ট প্রধানত শিশুদের আক্রমণ করছে, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন

ড্রোন হামলায় সুদানের মসজিদে নিহত ৭৮ জন

০৮:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভয়াবহ হামলার ঘটনা

সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহরে নামাজরত মানুষের ওপর ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ৭৮ জন নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় এক চিকিৎসক জানিয়েছেন। ভোরের নামাজ চলাকালে হামলাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ড্রোনটি মসজিদের ছাদ ভেদ করে ভেতরে আঘাত হানে এবং মুহূর্তের মধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

দায়ী পক্ষ ও গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপট

এই হামলার জন্য দায়ী করা হচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ), যদিও তারা এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। সুদানে প্রায় দুই বছর ধরে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে তীব্র গৃহযুদ্ধ চলছে। বর্তমানে এল-ফাশের শহর দখলের জন্য আরএসএফ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি দারফুরে সেনাদের শেষ ঘাঁটি, যেখানে তিন লাখের বেশি সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আটকা পড়ে আছেন।

হতাহতের সংখ্যা ও উদ্ধার অভিযান

চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনো মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। বিবিসি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মসজিদের বাইরে কাপড়ে মোড়ানো অন্তত ৩০টি মরদেহ সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।

 

আরএসএফ-এর সামরিক অগ্রযাত্রা

সম্প্রতি আরএসএফ নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে। শহরের কাছের আবু শৌক শরণার্থী শিবিরেও তীব্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, শিবিরের বড় অংশ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। একইসঙ্গে তারা যৌথ বাহিনীর সদর দপ্তরেও প্রবেশ করেছে, যা জাতিসংঘের পুরোনো কম্পাউন্ড হিসেবে সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র ছিল। যদিও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

এই অবস্থায় এল-ফাশেরের বিমানবন্দর ও সেনা সদর দপ্তর সরাসরি আরএসএফ-এর গোলাবর্ষণের আওতায় চলে এসেছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব সতর্ক করেছে, দ্রুত সেনা সহায়তা না এলে পুরো শহর আরএসএফ-এর দখলে যেতে পারে। এতে দেশ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে—উত্তর ও পূর্ব সেনাদের হাতে, আর পশ্চিম অংশ আরএসএফ-এর দখলে।

জাতিগত নিধনের শঙ্কা

মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, শহরে থাকা বেসামরিক মানুষদের ওপর আরএসএফ টার্গেট হামলা চালাতে পারে। কারণ অধিকাংশ মানুষ এমন জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যাদের আরএসএফ শত্রু মনে করে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত ক্রমেই জাতিগত রূপ নিচ্ছে। উভয় পক্ষ একে অপরের সমর্থক সন্দেহে সাধারণ মানুষদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নথি বলছে, আরএসএফ দখলকৃত এলাকায় অ-আরব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডাক্তারস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, আরএসএফ সৈন্যরা প্রকাশ্যে বলেছে তারা এল-ফাশেরকে অ-আরব জনগোষ্ঠী থেকে ‘পরিষ্কার’ করবে। তবে আরএসএফ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের কোনো উপজাতীয় সংঘাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই।

সুদানের দারফুর এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। মসজিদে একক হামলায় এত মানুষের মৃত্যু প্রমাণ করে, পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। যদি দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ও সহায়তা না আসে, তবে এল-ফাশেরের পতনের সঙ্গে দারফুরে আরও রক্তপাত এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।