০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
ডেনমার্কে চিঠির শেষ যাত্রা: ৪০১ বছরের ঐতিহ্যে ইতি এক দশকের ছিনতাই ইশান খট্টরের আবেগী স্বীকারোক্তি, অস্কারের মঞ্চে না পৌঁছালেও ‘হোমবাউন্ড’ চিরকাল হৃদয়ের কাছেই বিরল রোগে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ওষুধ: ব্রিটেনের সাহসী সিদ্ধান্তে খুলছে নতুন চিকিৎসার দিগন্ত জাপানে আগাম ভোটের বড় বাজি, তাকাইচির ক্ষমতা পরীক্ষার দিনক্ষণ সিরিয়ার কুর্দিদের পতন: উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় স্বায়ত্তশাসনের শেষ অধ্যায় কিশোরগঞ্জে গরুবাহী পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত অন্তত ১২ যশোরে বিয়ের বাস খাদে, আহত অন্তত ১২ জন গাজীপুরে শ্রমিক–পুলিশ সংঘর্ষ, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল কেমন আছেন?’— দাভোসে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজকে জিজ্ঞেস করলেন ট্রাম্প

সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনের মৃত্যু, ও চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন (৬৫) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানিয়েছেন, রবিবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তবে পরদিন সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অসুস্থতা ও চিকিৎসার প্রশ্ন

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বারবার তার জামিন চাওয়া হলেও আদালত থেকে তিনি মুক্তি পাননি। ফলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি কারাগারেই ছিলেন। এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—তিনি কি যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছিলেন? জামিন না পাওয়ায় তার চিকিৎসা কতটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে? মৃত্যুর পর এ নিয়ে জনমনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

মামলার কারণে কারাগারে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নরসিংদীতে সংঘটিত হত্যা, আক্রমণ ও ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মামলাকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।

রাজনৈতিক জীবন

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ১৯৮৬ সালে, যখন তিনি নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি চারবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন—২০০৮, ২০১৪, ২০১৯ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে।

মন্ত্রিত্ব ও দায়িত্ব

  • ২০১৯ সালে তিনি প্রথমবার শিল্পমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।
  • ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার একই দায়িত্ব পান।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের শিল্প খাতের নীতি, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান এবং শিল্পায়নের নানা উদ্যোগে তার ভূমিকা আলোচিত হয়।

মৃত্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক

তার মৃত্যুর পর মূলত দুটি বিষয় আলোচনায় এসেছে:

কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়া।

জামিন না পেয়ে চিকিৎসা বঞ্চিত হওয়া।

এ দুটি প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষকেও ভাবাচ্ছে। একজন সাবেক মন্ত্রী যদি যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান, তবে সাধারণ বন্দিদের অবস্থা আরও করুণ হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেনমার্কে চিঠির শেষ যাত্রা: ৪০১ বছরের ঐতিহ্যে ইতি

সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনের মৃত্যু, ও চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন

১১:২৫:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন (৬৫) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানিয়েছেন, রবিবার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তবে পরদিন সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অসুস্থতা ও চিকিৎসার প্রশ্ন

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহল থেকে বারবার তার জামিন চাওয়া হলেও আদালত থেকে তিনি মুক্তি পাননি। ফলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি কারাগারেই ছিলেন। এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—তিনি কি যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছিলেন? জামিন না পাওয়ায় তার চিকিৎসা কতটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে? মৃত্যুর পর এ নিয়ে জনমনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

মামলার কারণে কারাগারে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নরসিংদীতে সংঘটিত হত্যা, আক্রমণ ও ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মামলাকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।

রাজনৈতিক জীবন

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ১৯৮৬ সালে, যখন তিনি নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি চারবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন—২০০৮, ২০১৪, ২০১৯ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে।

মন্ত্রিত্ব ও দায়িত্ব

  • ২০১৯ সালে তিনি প্রথমবার শিল্পমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।
  • ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার একই দায়িত্ব পান।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের শিল্প খাতের নীতি, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান এবং শিল্পায়নের নানা উদ্যোগে তার ভূমিকা আলোচিত হয়।

মৃত্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক

তার মৃত্যুর পর মূলত দুটি বিষয় আলোচনায় এসেছে:

কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়া।

জামিন না পেয়ে চিকিৎসা বঞ্চিত হওয়া।

এ দুটি প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষকেও ভাবাচ্ছে। একজন সাবেক মন্ত্রী যদি যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান, তবে সাধারণ বন্দিদের অবস্থা আরও করুণ হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।