টেম্পারিং কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
কে-পপ জগতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে আলোচিত সংকট হয়ে উঠেছে ‘টেম্পারিং’। এই শব্দটি বোঝায়, যখন কোনো শিল্পী এখনও চুক্তিবদ্ধ অবস্থায় থাকেন, তখন প্রতিদ্বন্দ্বী এজেন্সি বা প্রযোজকরা অবৈধভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে।
আগে এমন ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া হতো, কিন্তু বর্তমানে একটি আইডল গ্রুপ গড়ে তুলতে যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় এবং যে বড় মুনাফার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাতে এ ধরনের মামলা আপসে মীমাংসা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফিফটি ফিফটি: শিল্পকে নাড়িয়ে দেওয়া ঘটনা
২০২৩ সালে মেয়েদের ব্যান্ড ফিফটি ফিফটি তাদের গান ‘কিউপিড’-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। কিন্তু একই বছরের জুনে তারা এজেন্সি অ্যাট্রাক্ট-এর সঙ্গে চুক্তি স্থগিতের জন্য আদালতে আবেদন করে।

অ্যাট্রাক্ট পাল্টা অভিযোগ তোলে, বাহ্যিক শক্তি সদস্যদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে। অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন ‘কিউপিড’-এর প্রযোজক আন সাং-ইল এবং তাঁর সহযোগীরা। শেষ পর্যন্ত আদালত ফিফটি ফিফটির আবেদন খারিজ করে জানায়, চুক্তি ভঙ্গের যথেষ্ট কারণ নেই।
এক্সও-সিবিএক্স: আরেকটি বড় বিরোধ
একই বছর এক্সও-সিবিএক্স সদস্যরা তাদের সংস্থা এসএম এন্টারটেইনমেন্ট-এর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়, লাভের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতার অভাব উল্লেখ করে।
এসএম পাল্টা অভিযোগ আনে, গায়ক এমসি মং এবং ব্যবসায়ী চা গা-উন বহু শিল্পীর সঙ্গে অবৈধভাবে যোগাযোগ করছিলেন। পরবর্তীতে জানা যায়, সিবিএক্স-এর প্রতিষ্ঠান আইএনবি১০০ আসলে এমসি মং ও চা গা-উনের অধীনস্থ হয়ে গেছে। এসএম এটিকে টেম্পারিংয়ের প্রমাণ হিসেবে দেখায়।
তবে সিবিএক্স এখনও এক্সও-র যৌথ কার্যক্রমে এসএমের অধীনে কাজ করছে এবং একটি গ্রুপ কমব্যাকের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিউজিনস: সাম্প্রতিক ও সবচেয়ে বিস্ফোরক বিরোধ
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা এখন নিউজিনস নিয়ে। তাদের সঙ্গে সংস্থা অ্যাডর-এর দ্বন্দ্ব আদালতে গড়িয়েছে।
অভিযোগ, অ্যাডরের সাবেক সিইও মিন হি-জিন চেয়েছিলেন গ্রুপটিকে হাইব (অ্যাডরের মূল কোম্পানি) থেকে আলাদা করে স্বাধীন করতে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নিউজিনসের আইনি দল অ্যাডরকে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে নোটিশ পাঠায় এবং ১৪ দিনের মধ্যে তা বাতিলের হুমকি দেয়।
পরে নিউজিনস ঘোষণা করে, অ্যাডরের সঙ্গে তাদের চুক্তি আর কার্যকর নয় এবং তারা স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করবে। এর জবাবে অ্যাডর মামলা করে জানায়, চুক্তি এখনও বহাল আছে এবং আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত নিউজিনসকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া যাবে না।
দুই দফা মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ার পর আদালত আংশিকভাবে অ্যাডরের পক্ষে রায় দিয়ে নিউজিনসকে অনুমতি ছাড়া কাজ করা থেকে বিরত রাখে। এখন ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে।

মূল প্রশ্ন: বিশ্বাস ভঙ্গ না চুক্তি ভঙ্গ?
নিউজিনস দাবি করছে, মিন হি-জিনকে সরিয়ে দেওয়ায় বিশ্বাসের ভিত্তি নষ্ট হয়ে গেছে, তাই চুক্তি আর টেকসই নয়। অ্যাডর পাল্টা বলছে, সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে এবং চুক্তি ভাঙার বৈধ কোনো কারণ নেই।
ইন্ডাস্ট্রির অবস্থান
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচটি বড় সংগীত সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, কে-পপ টেকসইভাবে এগোতে হলে প্রতিশ্রুতি মানা অপরিহার্য। আদালতের রায়ের আগেই কোনো শিল্পী একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করতে পারে না।
একজন সংস্থা কর্মকর্তা বলেন, একটি আইডল গ্রুপ গড়ে তুলতে ডেবিউ অ্যালবামের আগেই ১ থেকে ১০ বিলিয়ন উন (ওন) খরচ হয়। যদি শিল্পীরা বিনিয়োগ ফেরার আগেই চুক্তি ভেঙে চলে যায়, তাহলে পুরো ব্যবসার ভিত্তিই নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি আরও যোগ করেন, কে-পপের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য টেম্পারিং কখনোই সহ্য করা যাবে না এবং যারা চুক্তি মানবে না তাদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















