০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
উপসাগরের অমিল: ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিল আরব ঐক্যের সীমাবদ্ধতা  নিকোলাস ওতামেন্দি: এক বিদায়, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি যুগের সমাপ্তি ব্রাইটন অধিনায়ক মেইসি সিমন্ডসের সঙ্গে নতুন চুক্তি নর্ডিক ওয়াকিং: হাঁটলেই মিলবে শরীরের প্রায় সব পেশির ব্যায়াম থাইল্যান্ডে ইতালীয় শিক্ষার্থীদের অসদাচরণে তীব্র ক্ষোভ, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল ইতালির দূতাবাস ৯ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা প্যারিসে তিন নারীকে ছুরিকাঘাত, ‘আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন’ দাবি; তবু সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স প্রবীণদের ভুলে যাচ্ছে সমাজ, বাড়ছে স্মৃতিভ্রংশের ভয়াবহ বোঝা খাবার নিয়ে ‘খেলা’! মৃত মাছকে আঘাত করে টুকরো টুকরো করছে ঘাতক তিমি ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বিতর্কে আবারও আলোচনায় রেনে রিচার্ডস

প্রবাসী ভোটার; সুবিধাবাদী আমলারা

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন নির্বাচন কমিশন প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা স্বাভাবিকভাবেই খুব খুশি। আর এটা ছিল তাদের অনেক দিনের দাবি।

তবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে ভীষণভাবে খুশি হয়েছে আরেকটি গোষ্ঠী। এরা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং কর্মকর্তারা।

এই প্রবাসী ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সদস্য- কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণের একটা মোক্ষম সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধনের নামে তারা এখন ভ্রমণ শুরু করেছেন।

গতকাল টিভির খবরে দেখলাম কমিশনের সিনিয়র সচিব আক্তার আহমেদ ওয়াশিংটন ডিসিতে আমাদের দূতাবাসে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মাত্র সপ্তাহ দেড়েক আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন কানাডায় যেয়ে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। আমি মোটামুটি নিশ্চিত ভোটের আগে কমিশনের কর্মকর্তা সদস্যরা আরও কয়েকটা দেশে যাবেন একই কাজ করতে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ...

প্রশ্ন হল এটা উদ্বোধন করতে এই কর্মকর্তা বা সদস্যদের বিদেশে যেতে হবে কেন? এটাতো এমন কোন ব্যাপার না যে তাদের স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে সেখানে। আজকাল তো সবকিছু ভার্চুয়ালি করা যায়, বিশেষ করে এরকম একটি অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারে কেন তাদেরকে বিদেশে যেয়ে উদ্বোধনের নামে কোটি কোটি টাকা খরচা করতে হবে?

সপ্তাহ তিনেক আগে আমি একটা youtube ইন্টারভিউতে এই প্রশ্নটা তুলেছিলাম। ভেবেছিলাম আমার সাংবাদিক বন্ধুরা হয়তো এ ব্যাপারটি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন রাখবেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় তারা এটি না করে, উল্টো কর্মকর্তারা যে বিদেশে যাচ্ছেন এটা শুধু রিপোর্ট করছেন। এতে যে জনগণের টাকা খরচ হচ্ছে সেটা কি সাংবাদিকরা জানে না? সাংবাদিকদের মূল কাজই হলো ক্ষমতাবানদের জবাবদিহিতা আদায় করা। কারণ এটা এই কর্মকর্তা বা নির্বাচন কমিশন সদস্যদের কারো ব্যক্তিগত টাকা না। এরা কেউ একা যাচ্ছে না; তাদের সঙ্গে নিশ্চয়ই তাদের অফিসিয়াল স্টাফ বা অন্যরা যাচ্ছে। এই টাকা কে দেবে বা কেন দেবে? এই প্রশ্নতো সাংবাদিকদের সবার আগে করা উচিত।

অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল এটা বন্ধ করা। কিন্তু সেটা তারা করছে না। কারণ সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই কারণে-অকারণে বিদেশে যেয়ে বিশাল অংকের টাকা খরচ করছেন। আমি বেশ কয়েকবার লিখেছি এতে দেশ জনগণের কি মঙ্গল হচ্ছে সেটা আমরা কেউ জানিনা। কিন্তু তার ব্যক্তিগত লাভ হচ্ছে; সেই সঙ্গে তার সফর সঙ্গীদেরও। তিনি খুব দামি হোটেলে থাকছেন; বিশাল দলবল নিয়ে যাচ্ছেন এবং ফাস্ট ক্লাস, বিজনেস ক্লাসে ট্রাভেল করছেন।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ | বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে ৫ চ্যালেঞ্জ

অতি সম্প্রতি তিনি লন্ডন সফরে যেয়ে অত্যন্ত দামি ডরচেষ্টার হোটেলে থাকেন। সেখানে এক রাতের ভাড়া হলো ১০ লক্ষ টাকা। এরপর নিউইয়র্কে যেয়ে তিনি গ্রান্ড হায়াত হোটেলের প্রেসিডেন্টসিয়াল স্যুটে থাকেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখলাম সেখানে ভাড়া প্রতি রাতে প্রায় 5000 ডলার অর্থাৎ 6 লক্ষ টাকার উপরে। তার এই বিলাসিতা দেখে আমার বারবার মনে হয় তিনি কি একবারও এই গরীব দেশ বা দেশের গরিব জনগণের কথা ভাবেন? অথচ এই গরিব লোকদের স্বার্থ দেখাই ছিল তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। গ্রামীণ ব্যাংকের সৃষ্টি হয়েছিল তোর সে কারণেই।

তার এই নির্লজ্জ, সীমাহীন লোভের কারণেই আমলা বা উপদেষ্টারা এই সুযোগ নিচ্ছেন কোনরকম জবাবদিহিতা ছাড়াই।

একটা দেশের সরকার প্রধান যদি এই অনৈতিক কাজ করে রাষ্ট্রের টাকা এভাবে ব্যয় করেন, তবে তার তো কোন মোরাল রাইট নাই অন্যদেরকে এটা থেকে নিবৃত্ত করার।

আল্লাহ এই অভাগা দেশ এবং এর জনগণকে রক্ষা করুন।

( লেখাটি প্রখ্যাত সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। সেটাই পুরো অংশ এখানে প্রকাশ করা হলো)

জনপ্রিয় সংবাদ

উপসাগরের অমিল: ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিল আরব ঐক্যের সীমাবদ্ধতা

প্রবাসী ভোটার; সুবিধাবাদী আমলারা

০৩:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন নির্বাচন কমিশন প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা স্বাভাবিকভাবেই খুব খুশি। আর এটা ছিল তাদের অনেক দিনের দাবি।

তবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে ভীষণভাবে খুশি হয়েছে আরেকটি গোষ্ঠী। এরা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং কর্মকর্তারা।

এই প্রবাসী ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সদস্য- কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণের একটা মোক্ষম সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধনের নামে তারা এখন ভ্রমণ শুরু করেছেন।

গতকাল টিভির খবরে দেখলাম কমিশনের সিনিয়র সচিব আক্তার আহমেদ ওয়াশিংটন ডিসিতে আমাদের দূতাবাসে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মাত্র সপ্তাহ দেড়েক আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন কানাডায় যেয়ে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। আমি মোটামুটি নিশ্চিত ভোটের আগে কমিশনের কর্মকর্তা সদস্যরা আরও কয়েকটা দেশে যাবেন একই কাজ করতে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ...

প্রশ্ন হল এটা উদ্বোধন করতে এই কর্মকর্তা বা সদস্যদের বিদেশে যেতে হবে কেন? এটাতো এমন কোন ব্যাপার না যে তাদের স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে সেখানে। আজকাল তো সবকিছু ভার্চুয়ালি করা যায়, বিশেষ করে এরকম একটি অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারে কেন তাদেরকে বিদেশে যেয়ে উদ্বোধনের নামে কোটি কোটি টাকা খরচা করতে হবে?

সপ্তাহ তিনেক আগে আমি একটা youtube ইন্টারভিউতে এই প্রশ্নটা তুলেছিলাম। ভেবেছিলাম আমার সাংবাদিক বন্ধুরা হয়তো এ ব্যাপারটি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন রাখবেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় তারা এটি না করে, উল্টো কর্মকর্তারা যে বিদেশে যাচ্ছেন এটা শুধু রিপোর্ট করছেন। এতে যে জনগণের টাকা খরচ হচ্ছে সেটা কি সাংবাদিকরা জানে না? সাংবাদিকদের মূল কাজই হলো ক্ষমতাবানদের জবাবদিহিতা আদায় করা। কারণ এটা এই কর্মকর্তা বা নির্বাচন কমিশন সদস্যদের কারো ব্যক্তিগত টাকা না। এরা কেউ একা যাচ্ছে না; তাদের সঙ্গে নিশ্চয়ই তাদের অফিসিয়াল স্টাফ বা অন্যরা যাচ্ছে। এই টাকা কে দেবে বা কেন দেবে? এই প্রশ্নতো সাংবাদিকদের সবার আগে করা উচিত।

অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল এটা বন্ধ করা। কিন্তু সেটা তারা করছে না। কারণ সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই কারণে-অকারণে বিদেশে যেয়ে বিশাল অংকের টাকা খরচ করছেন। আমি বেশ কয়েকবার লিখেছি এতে দেশ জনগণের কি মঙ্গল হচ্ছে সেটা আমরা কেউ জানিনা। কিন্তু তার ব্যক্তিগত লাভ হচ্ছে; সেই সঙ্গে তার সফর সঙ্গীদেরও। তিনি খুব দামি হোটেলে থাকছেন; বিশাল দলবল নিয়ে যাচ্ছেন এবং ফাস্ট ক্লাস, বিজনেস ক্লাসে ট্রাভেল করছেন।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ | বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে ৫ চ্যালেঞ্জ

অতি সম্প্রতি তিনি লন্ডন সফরে যেয়ে অত্যন্ত দামি ডরচেষ্টার হোটেলে থাকেন। সেখানে এক রাতের ভাড়া হলো ১০ লক্ষ টাকা। এরপর নিউইয়র্কে যেয়ে তিনি গ্রান্ড হায়াত হোটেলের প্রেসিডেন্টসিয়াল স্যুটে থাকেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখলাম সেখানে ভাড়া প্রতি রাতে প্রায় 5000 ডলার অর্থাৎ 6 লক্ষ টাকার উপরে। তার এই বিলাসিতা দেখে আমার বারবার মনে হয় তিনি কি একবারও এই গরীব দেশ বা দেশের গরিব জনগণের কথা ভাবেন? অথচ এই গরিব লোকদের স্বার্থ দেখাই ছিল তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। গ্রামীণ ব্যাংকের সৃষ্টি হয়েছিল তোর সে কারণেই।

তার এই নির্লজ্জ, সীমাহীন লোভের কারণেই আমলা বা উপদেষ্টারা এই সুযোগ নিচ্ছেন কোনরকম জবাবদিহিতা ছাড়াই।

একটা দেশের সরকার প্রধান যদি এই অনৈতিক কাজ করে রাষ্ট্রের টাকা এভাবে ব্যয় করেন, তবে তার তো কোন মোরাল রাইট নাই অন্যদেরকে এটা থেকে নিবৃত্ত করার।

আল্লাহ এই অভাগা দেশ এবং এর জনগণকে রক্ষা করুন।

( লেখাটি প্রখ্যাত সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। সেটাই পুরো অংশ এখানে প্রকাশ করা হলো)