০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
এশীয় রান্নাঘরের আট অপরিহার্য সস, স্বাদের গভীরে ইতিহাসের ছোঁয়া উচ্চ অ্যাপার্টমেন্টের গল্প ভবিষ্যতের হাঁটু সুরক্ষায় আজই প্রস্তুতি নিন, ছোট অভ্যাসেই বড় স্বস্তির পথ বীজের তেল নিয়ে ভয় কতটা সত্য, কতটা ভুল: বিজ্ঞান কী বলছে ডিজনির ইতিহাসে নতুন মাইলফলক অ্যানিমেশন দুনিয়ায় রেকর্ড গড়ল জুটোপিয়া টু চীনের কারখানায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, আট মাসের মন্দা ভেঙে ডিসেম্বরে উৎপাদন বাড়ল তাইওয়ান ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের বার্তা ধান রপ্তানিতে ভারতের আধিপত্য, নীরবে গভীর হচ্ছে পানির সংকট সিগারেটে নতুন করের ধাক্কা, ধসে ভারতের তামাক শেয়ার বাজার মার্কিন শ্রমবাজারে বছরের শেষে স্বস্তির ইঙ্গিত, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি

সবার জন্য নিরাপদ অক্সিজেন: বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিটে জোরালো আহ্বান

দেশের প্রতিটি মানুষ যেন সহজে ও নিরাপদভাবে চিকিৎসায় অক্সিজেন পেতে পারে—এই লক্ষ্যেই ঢাকায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৫’-এ সুশাসন ও টেকসই বিনিয়োগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, শিগগিরই জাতীয় অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় অক্সিজেনকে কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ

সব মানুষের জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ অক্সিজেন নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী সুশাসন ও বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে “বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৫”-এ। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিডিডিআর,বি (ICDDR,B), যেখানে অংশ নেন নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “সবার জন্য নিরাপদ, সুলভ ও নির্ভরযোগ্য মেডিক্যাল অক্সিজেনের জাতীয় রোডম্যাপ।” এর উদ্দেশ্য ছিল একটি ঐক্যবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত অক্সিজেনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়।

প্রধান অতিথি ও গবেষণার প্রেক্ষাপট

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আইসিডিডিআর,বি-এর সিনিয়র বিজ্ঞানী ও দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ কমিশন অন মেডিক্যাল অক্সিজেন সিকিউরিটি-এর অন্যতম লেখক ড. শামস এল আরিফীন।

এই কমিশনটি ২০২২ সালে গঠিত হয় ড. আহমেদ এহসানুর রহমান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণার ভিত্তিতে। বর্তমানে এতে যুক্ত আছেন ১৮ জন বিশেষজ্ঞ ও ৪০ জন উপদেষ্টা, যারা বিভিন্ন দেশ ও খাত থেকে কাজ করছেন—বিশেষত মহামারির মতো বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটে অক্সিজেন ঘাটতি রোধে।

বৈশ্বিক চিত্র: অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুঝুঁকি

কমিশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৩৭৩ মিলিয়ন মানুষ চিকিৎসার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে—

  • ১০৫ মিলিয়ন তীব্র অসুস্থতার জন্য
  • ২৫৯ মিলিয়ন অস্ত্রোপচারের সময়
  • এবং ৯ মিলিয়ন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন নির্ভর

তবে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের ৮০ শতাংশ বাস করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।
হাইপোক্সেমিয়া (রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি) মৃত্যুঝুঁকি পাঁচগুণ বাড়িয়ে দেয়, অথচ প্রয়োজনের সময় অনেকেই অক্সিজেন পান না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অক্সিজেনকে “অপরিহার্য ওষুধ” হিসেবে ঘোষণা করলেও, এর প্রাপ্যতা এখনও অসম।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ

আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে পিএসএ (PSA), ভিএসএ (VSA) ও ভিআইই (VIE) অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনে অগ্রগতি হলেও, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে পদ্ধতিগত দুর্বলতা রয়েছে।
৯৯টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিচালিত জরিপে কারিগরি ত্রুটি, জনবল ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চোখে পড়ে।
গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে—

  • বায়োমেডিকেল কর্মী তৈরিতে বিনিয়োগ
  • বিকেন্দ্রীকৃত মেরামত সুবিধা
  • এবং অক্সিজেনকে জনস্বাস্থ্য পরিষেবা হিসেবে স্বীকৃতি

এছাড়া একটি জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিস্থাপক অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

সরকারি অবস্থান: জাতীয় নেটওয়ার্ক গঠনের পথে

অধ্যাপক ডা. সাইয়েদুর রহমান বলেন,
“অক্সিজেন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি আছে, তবে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
আমরা একটি জাতীয় অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গঠনে এগোচ্ছি এবং অক্সিজেনকে অপরিহার্য ওষুধ হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নিচ্ছি।
মেডিক্যাল অক্সিজেনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।”

সুশাসনবিনিয়োগ ও টেকসই সমাধানের প্রয়োজন

আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন,
“বাংলাদেশ অক্সিজেন উৎপাদনে ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে সুশাসন ও টেকসই বিনিয়োগ ছাড়া এই অগ্রগতি স্থায়ী হবে না।
অক্সিজেন ব্যবস্থার সুশাসন জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
তাই প্রমাণ-ভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও গবেষণায় অবিচ্ছিন্ন বিনিয়োগ অপরিহার্য।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবুজাফর বলেন,
“অক্সিজেন কেবল একটি পণ্য নয়—এটি একটি জনসেবা।”
তিনি আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষণা অবদানকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন।

আলোচ্য সেশন ও উদ্ভাবন প্রদর্শনী

সম্মেলনে চারটি মূল বিষয় নিয়ে বৈজ্ঞানিক সেশন হয়—
১. অক্সিজেনের চাহিদা ও সরবরাহ
২. উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা
৩. নীতি ও বিনিয়োগ অগ্রাধিকার
৪. টেকসই সমাধানের উদ্ভাবন

এতে অংশ নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান ব্যুরো, ইউনিসেফ, ইউএনওপিএস, বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি।

সমাপনী পর্বে প্রদর্শন করা হয় স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি যেমন—
বাবল সিপ্যাপ, অক্সিজেট, নিঃশ্বাস ভেন্টিলেটর, কম খরচের অক্সিজেন কনসেনট্রেটর—যা নিম্ন-সম্পদ এলাকায় জীবনরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

অক্সিজেন ও এসডিজি: টেকসই উন্নয়নের মূলে

বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্সিজেন প্রাপ্তি জাতিসংঘের আটটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে—
যেমন মাতৃমৃত্যু (৩.১), নবজাতক মৃত্যু (৩.২), সংক্রামক রোগ (৩.৩), মানসিক স্বাস্থ্য (৩.৪), সড়ক দুর্ঘটনা (৩.৬), সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ (৩.৮) ইত্যাদি।

দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ, এভরি ব্রেথ কাউন্টস ও ইউনিটাড-এর সহায়তায় আয়োজিত এই সামিট শেষে গৃহীত আহ্বান ছিল—
“মেডিক্যাল অক্সিজেন শুধু ওষুধ নয়, এটি এক মানবাধিকার।”

অংশগ্রহণকারীরা একমত হন—অক্সিজেনের সমতাপূর্ণ প্রবেশাধিকার শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

#বাংলাদেশঅক্সিজেনসামিট #ICDDRB #মেডিক্যালঅক্সিজেন #স্বাস্থ্যনীতি #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় রান্নাঘরের আট অপরিহার্য সস, স্বাদের গভীরে ইতিহাসের ছোঁয়া

সবার জন্য নিরাপদ অক্সিজেন: বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিটে জোরালো আহ্বান

০৭:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

দেশের প্রতিটি মানুষ যেন সহজে ও নিরাপদভাবে চিকিৎসায় অক্সিজেন পেতে পারে—এই লক্ষ্যেই ঢাকায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৫’-এ সুশাসন ও টেকসই বিনিয়োগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, শিগগিরই জাতীয় অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় অক্সিজেনকে কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ

সব মানুষের জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ অক্সিজেন নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী সুশাসন ও বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে “বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৫”-এ। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের আয়োজন করে আইসিডিডিআর,বি (ICDDR,B), যেখানে অংশ নেন নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “সবার জন্য নিরাপদ, সুলভ ও নির্ভরযোগ্য মেডিক্যাল অক্সিজেনের জাতীয় রোডম্যাপ।” এর উদ্দেশ্য ছিল একটি ঐক্যবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত অক্সিজেনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়।

প্রধান অতিথি ও গবেষণার প্রেক্ষাপট

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আইসিডিডিআর,বি-এর সিনিয়র বিজ্ঞানী ও দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ কমিশন অন মেডিক্যাল অক্সিজেন সিকিউরিটি-এর অন্যতম লেখক ড. শামস এল আরিফীন।

এই কমিশনটি ২০২২ সালে গঠিত হয় ড. আহমেদ এহসানুর রহমান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণার ভিত্তিতে। বর্তমানে এতে যুক্ত আছেন ১৮ জন বিশেষজ্ঞ ও ৪০ জন উপদেষ্টা, যারা বিভিন্ন দেশ ও খাত থেকে কাজ করছেন—বিশেষত মহামারির মতো বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটে অক্সিজেন ঘাটতি রোধে।

বৈশ্বিক চিত্র: অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুঝুঁকি

কমিশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৩৭৩ মিলিয়ন মানুষ চিকিৎসার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে—

  • ১০৫ মিলিয়ন তীব্র অসুস্থতার জন্য
  • ২৫৯ মিলিয়ন অস্ত্রোপচারের সময়
  • এবং ৯ মিলিয়ন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন নির্ভর

তবে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের ৮০ শতাংশ বাস করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।
হাইপোক্সেমিয়া (রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি) মৃত্যুঝুঁকি পাঁচগুণ বাড়িয়ে দেয়, অথচ প্রয়োজনের সময় অনেকেই অক্সিজেন পান না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অক্সিজেনকে “অপরিহার্য ওষুধ” হিসেবে ঘোষণা করলেও, এর প্রাপ্যতা এখনও অসম।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ

আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে পিএসএ (PSA), ভিএসএ (VSA) ও ভিআইই (VIE) অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনে অগ্রগতি হলেও, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে পদ্ধতিগত দুর্বলতা রয়েছে।
৯৯টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিচালিত জরিপে কারিগরি ত্রুটি, জনবল ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চোখে পড়ে।
গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে—

  • বায়োমেডিকেল কর্মী তৈরিতে বিনিয়োগ
  • বিকেন্দ্রীকৃত মেরামত সুবিধা
  • এবং অক্সিজেনকে জনস্বাস্থ্য পরিষেবা হিসেবে স্বীকৃতি

এছাড়া একটি জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিস্থাপক অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

সরকারি অবস্থান: জাতীয় নেটওয়ার্ক গঠনের পথে

অধ্যাপক ডা. সাইয়েদুর রহমান বলেন,
“অক্সিজেন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি আছে, তবে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
আমরা একটি জাতীয় অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গঠনে এগোচ্ছি এবং অক্সিজেনকে অপরিহার্য ওষুধ হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নিচ্ছি।
মেডিক্যাল অক্সিজেনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।”

সুশাসনবিনিয়োগ ও টেকসই সমাধানের প্রয়োজন

আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন,
“বাংলাদেশ অক্সিজেন উৎপাদনে ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে সুশাসন ও টেকসই বিনিয়োগ ছাড়া এই অগ্রগতি স্থায়ী হবে না।
অক্সিজেন ব্যবস্থার সুশাসন জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
তাই প্রমাণ-ভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও গবেষণায় অবিচ্ছিন্ন বিনিয়োগ অপরিহার্য।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবুজাফর বলেন,
“অক্সিজেন কেবল একটি পণ্য নয়—এটি একটি জনসেবা।”
তিনি আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষণা অবদানকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন।

আলোচ্য সেশন ও উদ্ভাবন প্রদর্শনী

সম্মেলনে চারটি মূল বিষয় নিয়ে বৈজ্ঞানিক সেশন হয়—
১. অক্সিজেনের চাহিদা ও সরবরাহ
২. উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা
৩. নীতি ও বিনিয়োগ অগ্রাধিকার
৪. টেকসই সমাধানের উদ্ভাবন

এতে অংশ নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান ব্যুরো, ইউনিসেফ, ইউএনওপিএস, বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি।

সমাপনী পর্বে প্রদর্শন করা হয় স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি যেমন—
বাবল সিপ্যাপ, অক্সিজেট, নিঃশ্বাস ভেন্টিলেটর, কম খরচের অক্সিজেন কনসেনট্রেটর—যা নিম্ন-সম্পদ এলাকায় জীবনরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

অক্সিজেন ও এসডিজি: টেকসই উন্নয়নের মূলে

বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্সিজেন প্রাপ্তি জাতিসংঘের আটটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে—
যেমন মাতৃমৃত্যু (৩.১), নবজাতক মৃত্যু (৩.২), সংক্রামক রোগ (৩.৩), মানসিক স্বাস্থ্য (৩.৪), সড়ক দুর্ঘটনা (৩.৬), সার্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ (৩.৮) ইত্যাদি।

দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ, এভরি ব্রেথ কাউন্টস ও ইউনিটাড-এর সহায়তায় আয়োজিত এই সামিট শেষে গৃহীত আহ্বান ছিল—
“মেডিক্যাল অক্সিজেন শুধু ওষুধ নয়, এটি এক মানবাধিকার।”

অংশগ্রহণকারীরা একমত হন—অক্সিজেনের সমতাপূর্ণ প্রবেশাধিকার শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

#বাংলাদেশঅক্সিজেনসামিট #ICDDRB #মেডিক্যালঅক্সিজেন #স্বাস্থ্যনীতি #সারাক্ষণরিপোর্ট