০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
এশীয় রান্নাঘরের আট অপরিহার্য সস, স্বাদের গভীরে ইতিহাসের ছোঁয়া উচ্চ অ্যাপার্টমেন্টের গল্প ভবিষ্যতের হাঁটু সুরক্ষায় আজই প্রস্তুতি নিন, ছোট অভ্যাসেই বড় স্বস্তির পথ বীজের তেল নিয়ে ভয় কতটা সত্য, কতটা ভুল: বিজ্ঞান কী বলছে ডিজনির ইতিহাসে নতুন মাইলফলক অ্যানিমেশন দুনিয়ায় রেকর্ড গড়ল জুটোপিয়া টু চীনের কারখানায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, আট মাসের মন্দা ভেঙে ডিসেম্বরে উৎপাদন বাড়ল তাইওয়ান ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের বার্তা ধান রপ্তানিতে ভারতের আধিপত্য, নীরবে গভীর হচ্ছে পানির সংকট সিগারেটে নতুন করের ধাক্কা, ধসে ভারতের তামাক শেয়ার বাজার মার্কিন শ্রমবাজারে বছরের শেষে স্বস্তির ইঙ্গিত, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি

দুর্গাপূজা ঘিরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করল ঐক্য পরিষদ

সাম্প্রতিক দুর্গোৎসবকে ঘিরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য এবং তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি আশঙ্কা জানিয়েছে, এমন পদক্ষেপ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

বক্তব্য ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে আশঙ্কা

৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাতশ তিরানব্বইটি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, পূজারি ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” হানার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘোষণার পরপরই কয়েকটি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

ঐক্য পরিষদের মতে, এই পদক্ষেপ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

ঐক্য পরিষদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের এমন বক্তব্য ও পদক্ষেপ দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোর সহিংসতাকে উৎসাহিত করতে পারে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও শিল্পীরা এর ফলে হয়রানি, হুমকি ও নিপীড়নের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যে দুর্গোৎসবের প্রতিমা তৈরির সময় শিল্পীরা অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে নানান অবয়ব ব্যবহার করে আসছেন, যা কখনোই ধর্মীয় অবমাননা নয়, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।

বিতর্কিত বক্তব্যের পটভূমি

দুর্গাপূজার ঠিক আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এক মন্তব্যে বলা হয়, কিছু প্রতিমার নকশা “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” করেছে। ঐ বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকটি ঘটনায়ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা দেয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো তখনই সতর্ক করে জানায়— এমন মন্তব্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যা সম্প্রীতির পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সরকারের প্রতি ঐক্য পরিষদের আহ্বান

ঐক্য পরিষদ তাদের বিবৃতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেছে—
সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিশেষ তকমা দিয়ে আইনের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আইন কখনোই নির্যাতনের হাতিয়ার হতে পারে না।

তারা আরও আহ্বান জানায়, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও মুক্তচিন্তার সামাজিক শক্তিগুলোকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সক্রিয় হয়ে সাম্প্রদায়িকতা ও ভয়ের পরিবেশ মোকাবিলায় একযোগে কাজ করতে হবে।

#দুর্গাপূজা #ঐক্যপরিষদ #সংখ্যালঘু_নিরাপত্তা #সাম্প্রদায়িকতা #বাংলাদেশ #সারাক্ষণরিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় রান্নাঘরের আট অপরিহার্য সস, স্বাদের গভীরে ইতিহাসের ছোঁয়া

দুর্গাপূজা ঘিরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করল ঐক্য পরিষদ

১০:৫৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

সাম্প্রতিক দুর্গোৎসবকে ঘিরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য এবং তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি আশঙ্কা জানিয়েছে, এমন পদক্ষেপ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

বক্তব্য ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে আশঙ্কা

৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাতশ তিরানব্বইটি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, পূজারি ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” হানার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘোষণার পরপরই কয়েকটি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

ঐক্য পরিষদের মতে, এই পদক্ষেপ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

ঐক্য পরিষদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের এমন বক্তব্য ও পদক্ষেপ দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোর সহিংসতাকে উৎসাহিত করতে পারে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও শিল্পীরা এর ফলে হয়রানি, হুমকি ও নিপীড়নের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যে দুর্গোৎসবের প্রতিমা তৈরির সময় শিল্পীরা অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে নানান অবয়ব ব্যবহার করে আসছেন, যা কখনোই ধর্মীয় অবমাননা নয়, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।

বিতর্কিত বক্তব্যের পটভূমি

দুর্গাপূজার ঠিক আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এক মন্তব্যে বলা হয়, কিছু প্রতিমার নকশা “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত” করেছে। ঐ বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকটি ঘটনায়ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা দেয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো তখনই সতর্ক করে জানায়— এমন মন্তব্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যা সম্প্রীতির পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সরকারের প্রতি ঐক্য পরিষদের আহ্বান

ঐক্য পরিষদ তাদের বিবৃতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেছে—
সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিশেষ তকমা দিয়ে আইনের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আইন কখনোই নির্যাতনের হাতিয়ার হতে পারে না।

তারা আরও আহ্বান জানায়, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও মুক্তচিন্তার সামাজিক শক্তিগুলোকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সক্রিয় হয়ে সাম্প্রদায়িকতা ও ভয়ের পরিবেশ মোকাবিলায় একযোগে কাজ করতে হবে।

#দুর্গাপূজা #ঐক্যপরিষদ #সংখ্যালঘু_নিরাপত্তা #সাম্প্রদায়িকতা #বাংলাদেশ #সারাক্ষণরিপোর্ট