০৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় গম চালান, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূতের সফর ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব গোপন করলে ভোটের পরেও ব্যবস্থা নেবে ইসি গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী ও দুই শিশুর মৃত্যু শেখ হাসিনা থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলত: মির্জা ফখরুল সাদ্দামের জামিন: এবার স্ত্রী ও সন্তানের নীরব কবর দেখবে! পাকিস্তান–ভারত ম্যাচ বয়কটের ইঙ্গিত, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া অবস্থানে পিসিবি বাংলাদেশ প্রশাসন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি কানিজ মৌলা ও মহাসচিব বাবুল মিয়া সমালোচনার ঝড়ে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগ ভারতের মুসলমানদের কাছে সংস্কার আজ কোনো বিভ্রান্তি নয়, ন্যায়ের লড়াইয়েরই অংশ ইইউ চুক্তি কেন ভারতীয় কৃষকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি লাভজনক

বাংলাদেশে ভূমি অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারে নতুন সহযোগিতা উদ্যোগ

বাংলাদেশে ভূমি অধিকার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণে নতুন এক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা, কৃষকদের সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়
গ্লোবাল গ্রিন গ্রোথ ইনস্টিটিউট (GGGI) এবং সুইডেনের উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (Sida)-এর যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কৃষি, পরিবেশ ও ভূমি সম্পর্কিত একাধিক মন্ত্রণালয় অংশ নিচ্ছে। চুক্তির আওতায় ভূমি ব্যবহার, কৃষিজ উৎপাদন, এবং প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতি সহায়তা প্রদান করা হবে।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার
এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় টেকসই নীতি প্রণয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

 অংশীদারদের বক্তব্য
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আরও সক্ষম ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে। গ্লোবাল গ্রিন গ্রোথ ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা জানান, উন্নয়ন সহযোগিতার এই মডেল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করবে।

সুইডিশ উন্নয়ন সংস্থা Sida-এর কর্মকর্তারা বলেন, এই চুক্তি কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের সাথে টেকসই উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতীক।

 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা
প্রকল্পের আওতায় কৃষি ও ভূমি খাতে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ কোটি টাকা অবকাঠামোগত উন্নয়নে এবং ৪০০ কোটি টাকা কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি, নারীদের ভূমিকা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি গড়ে উঠবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে অবদান
এই উদ্যোগ জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) অর্জনে সরাসরি অবদান রাখবে। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে।

বাংলাদেশে ভূমি অধিকার ও কৃষি উন্নয়নের এই নতুন অধ্যায় কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

#বাংলাদেশ #ভূমি_অধিকার #কৃষি_উন্নয়ন #টেকসই_উন্নয়ন #GGGI #Sida #সামাজিক_ন্যায়বিচার #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় গম চালান, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূতের সফর

বাংলাদেশে ভূমি অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারে নতুন সহযোগিতা উদ্যোগ

০৪:৩৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে ভূমি অধিকার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণে নতুন এক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা, কৃষকদের সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়
গ্লোবাল গ্রিন গ্রোথ ইনস্টিটিউট (GGGI) এবং সুইডেনের উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (Sida)-এর যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কৃষি, পরিবেশ ও ভূমি সম্পর্কিত একাধিক মন্ত্রণালয় অংশ নিচ্ছে। চুক্তির আওতায় ভূমি ব্যবহার, কৃষিজ উৎপাদন, এবং প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতি সহায়তা প্রদান করা হবে।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার
এই সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় টেকসই নীতি প্রণয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

 অংশীদারদের বক্তব্য
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আরও সক্ষম ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে। গ্লোবাল গ্রিন গ্রোথ ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা জানান, উন্নয়ন সহযোগিতার এই মডেল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করবে।

সুইডিশ উন্নয়ন সংস্থা Sida-এর কর্মকর্তারা বলেন, এই চুক্তি কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের সাথে টেকসই উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতীক।

 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা
প্রকল্পের আওতায় কৃষি ও ভূমি খাতে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ কোটি টাকা অবকাঠামোগত উন্নয়নে এবং ৪০০ কোটি টাকা কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি, নারীদের ভূমিকা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি গড়ে উঠবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে অবদান
এই উদ্যোগ জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) অর্জনে সরাসরি অবদান রাখবে। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে।

বাংলাদেশে ভূমি অধিকার ও কৃষি উন্নয়নের এই নতুন অধ্যায় কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

#বাংলাদেশ #ভূমি_অধিকার #কৃষি_উন্নয়ন #টেকসই_উন্নয়ন #GGGI #Sida #সামাজিক_ন্যায়বিচার #সারাক্ষণ_রিপোর্ট