০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
পাকিস্তানে জুনে কমেছে সন্ত্রাসী হামলা, তবু উচ্চপ্রোফাইল হামলার উদ্বেগ কাটেনি আপত্তিকর মন্তব্যে ভারতের জবাব প্রত্যাখ্যান করল পাকিস্তান, আফগান সীমান্তে অভিযানের পক্ষে ইসলামাবাদের অবস্থান ফিলিপ স্টার্নের মৃত্যু: সুইস বিলাসবহুল ঘড়ি শিল্পের এক যুগের অবসান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন, ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তায় সরকারের নতুন উদ্যোগ বৈরুতের ধ্বংসস্তূপে ফিরছে জীবন, যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়েও নতুন আশায় দাহিয়া এবার ব্রডওয়েতে মায়া রুডলফের বাজিমাত, ‘ওহ, মেরি!’ নাটকে দর্শক মাতাচ্ছেন নতুন রূপে রাশিয়ায় যুদ্ধের বাস্তবতা বাড়লেও ঝুঁকি আড়াল করছে সরকার, বাড়ছে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব অর্থনীতির দৃষ্টি হরমুজে: শান্তি আলোচনার মাঝেও কৌশলগত চাপ বাড়াচ্ছে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম কিনছে সরকার, ব্যয় ১,০৫২ কোটি টাকা আপন আপন দেশ, এক হৃদয়ের টান: জাপানের ‘লিটল ব্রাজিল’-এ বিশ্বকাপ ঘিরে আবেগের লড়াই

১১ নভেম্বর ঢাকায় ভিন্ন পরিস্থিতি ভিন্ন হবে: জামায়াত ও মিত্র দলের হুশিয়ারি

আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়ে সরকারকে পাঁচ দফা দাবি মানার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী আট রাজনৈতিক দল। দলগুলো প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সতর্ক করেছে— দাবি না মানলে ঢাকার পরিস্থিতি সেদিন “ভিন্ন” হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে আট দলের স্মারকলিপি জমা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সাত সহযোগী রাজনৈতিক দল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঁচ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। তারা জুলাই চুক্তির বাস্তবায়ন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।

দুপুরে এসব দলের যৌথ প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।

এর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার সাংবাদিকদের কাছে দলের দাবিগুলো তুলে ধরেন।

পাঁচ দফা দাবির মূল বিষয়
দলগুলোর স্মারকলিপিতে পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়—

১. জুলাই চার্টার বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা জারি করা।
২. নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা।
৩. আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা।
৪. অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
৫. অতীতের দমন-পীড়ন, হত্যা ও দুর্নীতির ঘটনায় দৃশ্যমান জবাবদিহি ব্যবস্থা গ্রহণ।

এছাড়া দলগুলো জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলে।

পাঁচ দফা মেনে নিন, না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে

পুলিশি বাধা ও স্মারকলিপি জমা
প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে আট দলের নেতাকর্মীরা পল্টন মোড়ে পৃথক সমাবেশ করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। তবে পুলিশ তাদের মৎস্যভবন এলাকায় আটকে দেয়। পরে জোটের নয়জন প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-য় গিয়ে স্মারকলিপিটি জমা দেন।

প্রতিনিধি দলে যারা ছিলেন
প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের মিয়া গোলাম পারওয়ার ও ড. হামিদুর রহমান আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল বারী মাসুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক মুসা ও নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হাক্কানি, নিজাম-ই-ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাগপা’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি একেএম আনোয়ারুল ইসলাম।

১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়া গোলাম পারওয়ার। তিনি জানান, আট দল আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে। সরকারকে অনুরোধ করা হচ্ছে, ওই তারিখের আগে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হোক।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি ১১ নভেম্বরের আগে দাবিগুলো মানা না হয়, সেদিন ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।”

‘সোজা পথে না এলে অন্য পথে আনা হবে’
পল্টনের সমাবেশে জামায়াতের নায়েবে আমির সায়েদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “যদি সোজা পথে বিষয়গুলো এগোতে না চায়, তবে অন্য পথে এগিয়ে নিতে বাধ্য করা হবে।”

তিনি পুনরায় নির্বাচনপূর্ব গণভোটের দাবি জানান এবং সতর্ক করেন যে, এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সংকটে পড়বে।


#জামায়াত #স্মারকলিপি #ড_মুহাম্মদ_ইউনূস #ঢাকা_মহাসমাবেশ #বাংলাদেশ_রাজনীতি #১১_নভেম্বর #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে জুনে কমেছে সন্ত্রাসী হামলা, তবু উচ্চপ্রোফাইল হামলার উদ্বেগ কাটেনি

১১ নভেম্বর ঢাকায় ভিন্ন পরিস্থিতি ভিন্ন হবে: জামায়াত ও মিত্র দলের হুশিয়ারি

০৭:৫১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়ে সরকারকে পাঁচ দফা দাবি মানার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী আট রাজনৈতিক দল। দলগুলো প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সতর্ক করেছে— দাবি না মানলে ঢাকার পরিস্থিতি সেদিন “ভিন্ন” হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে আট দলের স্মারকলিপি জমা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সাত সহযোগী রাজনৈতিক দল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঁচ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। তারা জুলাই চুক্তির বাস্তবায়ন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।

দুপুরে এসব দলের যৌথ প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।

এর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার সাংবাদিকদের কাছে দলের দাবিগুলো তুলে ধরেন।

পাঁচ দফা দাবির মূল বিষয়
দলগুলোর স্মারকলিপিতে পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়—

১. জুলাই চার্টার বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা জারি করা।
২. নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা।
৩. আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা।
৪. অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
৫. অতীতের দমন-পীড়ন, হত্যা ও দুর্নীতির ঘটনায় দৃশ্যমান জবাবদিহি ব্যবস্থা গ্রহণ।

এছাড়া দলগুলো জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলে।

পাঁচ দফা মেনে নিন, না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে

পুলিশি বাধা ও স্মারকলিপি জমা
প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে আট দলের নেতাকর্মীরা পল্টন মোড়ে পৃথক সমাবেশ করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। তবে পুলিশ তাদের মৎস্যভবন এলাকায় আটকে দেয়। পরে জোটের নয়জন প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-য় গিয়ে স্মারকলিপিটি জমা দেন।

প্রতিনিধি দলে যারা ছিলেন
প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের মিয়া গোলাম পারওয়ার ও ড. হামিদুর রহমান আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল বারী মাসুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক মুসা ও নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হাক্কানি, নিজাম-ই-ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাগপা’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি একেএম আনোয়ারুল ইসলাম।

১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়া গোলাম পারওয়ার। তিনি জানান, আট দল আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে। সরকারকে অনুরোধ করা হচ্ছে, ওই তারিখের আগে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হোক।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি ১১ নভেম্বরের আগে দাবিগুলো মানা না হয়, সেদিন ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।”

‘সোজা পথে না এলে অন্য পথে আনা হবে’
পল্টনের সমাবেশে জামায়াতের নায়েবে আমির সায়েদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “যদি সোজা পথে বিষয়গুলো এগোতে না চায়, তবে অন্য পথে এগিয়ে নিতে বাধ্য করা হবে।”

তিনি পুনরায় নির্বাচনপূর্ব গণভোটের দাবি জানান এবং সতর্ক করেন যে, এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সংকটে পড়বে।


#জামায়াত #স্মারকলিপি #ড_মুহাম্মদ_ইউনূস #ঢাকা_মহাসমাবেশ #বাংলাদেশ_রাজনীতি #১১_নভেম্বর #সারাক্ষণ_রিপোর্ট