০২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
রপ্তানি কম, আমদানি বেশি: বাংলাদেশের বহিঃখাতে চাপ বাড়ছে কেন ট্রাম্পের অস্থির কৌশল নিয়ে বেইজিংয়ের চিন্তা, শি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক হিসাব চীনের ইউয়ান লেনদেনে রেকর্ড, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন গতি দিল হরমুজ প্রণালিতে টোল নিয়ে নতুন ভাবনা, ফি বা চীনা টোকেনে নিষ্পত্তির প্রস্তাব এক কিশোরের বেঁচে ওঠার গল্প অভিজাত স্কুলের একাকিত্ব থেকে ইমোর ভিড়ে— সার উৎপাদনে গতি ফিরিয়ে আনতে বড় পদক্ষেপ, কৃষি ও শিল্প খাতে বাড়ানো হলো বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ কেরালার ভোটে লম্বা লাইন, নীরব বার্তা আর তৃতীয় মেয়াদের কঠিন পরীক্ষা গ্লোবাল ভিলেজ কবে খুলবে, এখনো নেই নিশ্চিত তারিখ ফুয়েল পাসে ঢাকার দুই পাম্পে জ্বালানি বিক্রি শুরু পরীক্ষামূলকভাবে শ্রম আইন সংশোধনী পাস, ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারে বড় পরিবর্তন

থাই–মালয়েশিয়া উপকূলে রোহিঙ্গা নৌডুবি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১

উদ্ধার তৎপরতা ও বিপজ্জনক যাত্রাপথ
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি সাগরে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে, কিন্তু নৌকায় থাকা আরও বহুজনের খোঁজ নেই। তাদের ধারণা, প্রায় ৭০ জনকে নিয়ে নৌকাটি মিয়ানমারের উপকূল থেকে মালয়েশিয়ার দিকে যাচ্ছিল এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবই দুর্ঘটনাকে মারণঘাতী করেছে। উদ্ধারকর্মীরা সোমবার সকাল পর্যন্ত সাগর থেকে কয়েকজনকে জীবিত তুলতে সক্ষম হন, তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, সময় যত গড়াবে ততই জীবিত কারও দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বছরের এ সময়টায় সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকায় দালালচক্রগুলো বেশি যাত্রী ঠেলে দেয়, ফলে পাড়ি দেওয়া যেমন বাড়ে, বিপদও ততই বাড়ে। থাইল্যান্ড গত কয়েক বছরে মানবপাচারবিরোধী কয়েকটি অভিযান চালালেও আন্দামান সাগরের সরু ও ব্যস্ত রুটে প্রতিটি নৌকা চিহ্নিত করা কঠিন। রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিতি বরাবরের মতোই অনিরাপদ—রাখাইনে থাকা মানে সহিংসতা আর দারিদ্র্যের ঝুঁকি, আর সমুদ্রপথে নামলে জীবন বাজি।
আঞ্চলিক সমন্বয়ের ঘাটতি
এই নৌডুবি আবারও দেখাল, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া দুই দেশই সমুদ্রপথে আসা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় ও দ্রুত যাচাই-বাছাইয়ের একটি যৌথ পদ্ধতি করতে পারেনি। ব্যাংকক একদিকে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে কঠোরতার কথা বলছে, আবার অন্যদিকে নিঃশব্দে কিছু যাত্রীকে মালয়েশিয়ার দিকে যেতে দিচ্ছে, কারণ গন্তব্যদেশে একই ভাষাভাষী ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি। কুয়ালালামপুরের অভিযোগ, তাদের ওপরই শেষ পর্যন্ত উদ্ধার ও আশ্রয়ের বোঝা পড়ে, বিশেষ করে যখন নৌকাগুলো বাংলাদেশি ক্যাম্প বা মিয়ানমারের উপকূল থেকে ভেসে আসে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মিয়ানমারের রাজনৈতিক অচলাবস্থা না বদলালে আসিয়ান পর্যায়ের কোনো স্থায়ী সমাধান সামনে আসবে না; ফলে দেশগুলো আগের মতোই কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবে। ইতিমধ্যে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাতে এই রুটে সক্রিয় দালালদের শনাক্ত করা যায়। তবে নিরাপদ ও বৈধ রুট তৈরি না হলে বছরের বাকি সময়েও এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থামবে না—এই আশঙ্কাই এখন সামনে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি কম, আমদানি বেশি: বাংলাদেশের বহিঃখাতে চাপ বাড়ছে কেন

থাই–মালয়েশিয়া উপকূলে রোহিঙ্গা নৌডুবি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১

০৬:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

উদ্ধার তৎপরতা ও বিপজ্জনক যাত্রাপথ
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি সাগরে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে, কিন্তু নৌকায় থাকা আরও বহুজনের খোঁজ নেই। তাদের ধারণা, প্রায় ৭০ জনকে নিয়ে নৌকাটি মিয়ানমারের উপকূল থেকে মালয়েশিয়ার দিকে যাচ্ছিল এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবই দুর্ঘটনাকে মারণঘাতী করেছে। উদ্ধারকর্মীরা সোমবার সকাল পর্যন্ত সাগর থেকে কয়েকজনকে জীবিত তুলতে সক্ষম হন, তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, সময় যত গড়াবে ততই জীবিত কারও দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বছরের এ সময়টায় সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকায় দালালচক্রগুলো বেশি যাত্রী ঠেলে দেয়, ফলে পাড়ি দেওয়া যেমন বাড়ে, বিপদও ততই বাড়ে। থাইল্যান্ড গত কয়েক বছরে মানবপাচারবিরোধী কয়েকটি অভিযান চালালেও আন্দামান সাগরের সরু ও ব্যস্ত রুটে প্রতিটি নৌকা চিহ্নিত করা কঠিন। রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিতি বরাবরের মতোই অনিরাপদ—রাখাইনে থাকা মানে সহিংসতা আর দারিদ্র্যের ঝুঁকি, আর সমুদ্রপথে নামলে জীবন বাজি।
আঞ্চলিক সমন্বয়ের ঘাটতি
এই নৌডুবি আবারও দেখাল, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া দুই দেশই সমুদ্রপথে আসা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় ও দ্রুত যাচাই-বাছাইয়ের একটি যৌথ পদ্ধতি করতে পারেনি। ব্যাংকক একদিকে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে কঠোরতার কথা বলছে, আবার অন্যদিকে নিঃশব্দে কিছু যাত্রীকে মালয়েশিয়ার দিকে যেতে দিচ্ছে, কারণ গন্তব্যদেশে একই ভাষাভাষী ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি। কুয়ালালামপুরের অভিযোগ, তাদের ওপরই শেষ পর্যন্ত উদ্ধার ও আশ্রয়ের বোঝা পড়ে, বিশেষ করে যখন নৌকাগুলো বাংলাদেশি ক্যাম্প বা মিয়ানমারের উপকূল থেকে ভেসে আসে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মিয়ানমারের রাজনৈতিক অচলাবস্থা না বদলালে আসিয়ান পর্যায়ের কোনো স্থায়ী সমাধান সামনে আসবে না; ফলে দেশগুলো আগের মতোই কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবে। ইতিমধ্যে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাতে এই রুটে সক্রিয় দালালদের শনাক্ত করা যায়। তবে নিরাপদ ও বৈধ রুট তৈরি না হলে বছরের বাকি সময়েও এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা থামবে না—এই আশঙ্কাই এখন সামনে।