০১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ইউরোপীয় চাপ উপেক্ষা করে মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে অরবানের সাক্ষাৎ সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ১৪৪ ধারা জারি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়- আসিফ নজরুল বিশ্বজুড়ে ছয় হাজার ফ্লাইট চলাচলে সমস্য, দুভোর্গে যাত্রীরা রাজনৈতিক বাস্তবতা আমার দেশে ফেরা ঠেকিয়ে দিয়েছে: তারেক রহমান হোয়াটসঅ্যাপ আইন না মানলে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে রাশিয়াতে জাতিসংঘের অভিযোগ: জেনিনে দুই ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘বিচারবহির্ভূতভাবে’ হত্যা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় মৌসুম শুরুর আগেই বার্ড ফ্লুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব বাইডেন প্রশাসনের ভেটিং নিয়ে সমালোচনা, তবে আফগান হামলা-সন্দেহভাজনকে আশ্রয় দিয়েছিল ট্রাম্প সরকার

জাতিসংঘের অভিযোগ: জেনিনে দুই ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘বিচারবহির্ভূতভাবে’ হত্যা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে দুই ফিলিস্তিনি পুরুষকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে হত্যা করেছে, তা জাতিসংঘের মতে স্পষ্টভাবেই ‘সংক্ষিপ্ত বিচার করে হত্যা’ বা ‘সমারি এক্সিকিউশন’-এর মতো দেখা যাচ্ছে।

কী ঘটেছে?

প্যালেস্টাইন টিভির ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জেনিনের একটি ভবন থেকে বেরিয়ে আসা দুজন পুরুষ তাদের জামা তুলে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দেন এবং মাটিতে শুয়ে পড়েন। এরপর ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে আবার ভবনের ভেতরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং পরে গুলি চালায়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “জেনিনে ইসরায়েলি বর্ডার পুলিশের হাতে দুই ফিলিস্তিনি পুরুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস এবং আরেকটি স্পষ্ট সংক্ষিপ্ত বিচার করে হত্যা।”

ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও দেশটির পুলিশ জানিয়েছে যে তারা ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। তাদের দাবি, ভবন থেকে বের হওয়া ‘সন্দেহভাজনদের’ দিকে গুলি ছোড়া হয়েছিল।

তারা আরও বলেছে, নিহত দুই ব্যক্তি ছিল একটি “সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের” সঙ্গে যুক্ত।

ঘটনার পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, “যোদ্ধারা ঠিক যা করা উচিত ছিল তাই করেছে—সন্ত্রাসীদের মরতেই হবে!”

জাতিসংঘের মুখপাত্র লরেন্স বেন গভির এই মন্তব্যকে “ঘৃণ্য” বলে বর্ণনা করেছেন।

নিহতদের পরিচয় ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ দাবি করেছে, নিহতদের একজন ছিল তাদের এক কমান্ডার এবং অন্যজন একজন যোদ্ধা।

নিহত ইউসুফ আসাসা’র ভাই মাহমুদ আসাসা বলেন, “কেউ যখন আত্মসমর্পণ করে, তাকে গ্রেপ্তার করা যায়। কিন্তু এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা নিষ্ঠুর ও ভুল।”

চলমান অভিযান ও মানবাধিকার উদ্বেগ

ঘটনার দিন জেনিনে অভিযান চালাচ্ছিল ইসরায়েলি বাহিনী; এর আগের দিন টুবাস শহরেও একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু হয়। বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর পশ্চিম তীরের শহরগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেতসেলেমের শাই পারনেস বলেন, “ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় তারা কোনো হুমকি সৃষ্টি করছিল না। তারপরও সেনারা তাদের হত্যা করেছে। এটি ছিল ক্যামেরার সামনেই এক ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।”

জাতিসংঘ বলেছে, শুধুমাত্র নভেম্বর মাসেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন শিশু।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

পশ্চিম তীরে সীমিত প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে “জঘন্য বিচারবহির্ভূত হত্যা” ও যুদ্ধাপরাধ বলে নিন্দা জানিয়েছে।


# আন্তর্জাতিক_সংবাদ #মধ্যপ্রাচ্য #ইসরায়েল_ফিলিস্তিন #জাতিসংঘ #পশ্চিম_তীর #জেনিন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপীয় চাপ উপেক্ষা করে মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে অরবানের সাক্ষাৎ

জাতিসংঘের অভিযোগ: জেনিনে দুই ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘বিচারবহির্ভূতভাবে’ হত্যা

১১:৫০:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে দুই ফিলিস্তিনি পুরুষকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে হত্যা করেছে, তা জাতিসংঘের মতে স্পষ্টভাবেই ‘সংক্ষিপ্ত বিচার করে হত্যা’ বা ‘সমারি এক্সিকিউশন’-এর মতো দেখা যাচ্ছে।

কী ঘটেছে?

প্যালেস্টাইন টিভির ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জেনিনের একটি ভবন থেকে বেরিয়ে আসা দুজন পুরুষ তাদের জামা তুলে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দেন এবং মাটিতে শুয়ে পড়েন। এরপর ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে আবার ভবনের ভেতরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং পরে গুলি চালায়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “জেনিনে ইসরায়েলি বর্ডার পুলিশের হাতে দুই ফিলিস্তিনি পুরুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস এবং আরেকটি স্পষ্ট সংক্ষিপ্ত বিচার করে হত্যা।”

ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও দেশটির পুলিশ জানিয়েছে যে তারা ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। তাদের দাবি, ভবন থেকে বের হওয়া ‘সন্দেহভাজনদের’ দিকে গুলি ছোড়া হয়েছিল।

তারা আরও বলেছে, নিহত দুই ব্যক্তি ছিল একটি “সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের” সঙ্গে যুক্ত।

ঘটনার পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, “যোদ্ধারা ঠিক যা করা উচিত ছিল তাই করেছে—সন্ত্রাসীদের মরতেই হবে!”

জাতিসংঘের মুখপাত্র লরেন্স বেন গভির এই মন্তব্যকে “ঘৃণ্য” বলে বর্ণনা করেছেন।

নিহতদের পরিচয় ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ দাবি করেছে, নিহতদের একজন ছিল তাদের এক কমান্ডার এবং অন্যজন একজন যোদ্ধা।

নিহত ইউসুফ আসাসা’র ভাই মাহমুদ আসাসা বলেন, “কেউ যখন আত্মসমর্পণ করে, তাকে গ্রেপ্তার করা যায়। কিন্তু এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা নিষ্ঠুর ও ভুল।”

চলমান অভিযান ও মানবাধিকার উদ্বেগ

ঘটনার দিন জেনিনে অভিযান চালাচ্ছিল ইসরায়েলি বাহিনী; এর আগের দিন টুবাস শহরেও একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু হয়। বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর পশ্চিম তীরের শহরগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেতসেলেমের শাই পারনেস বলেন, “ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় তারা কোনো হুমকি সৃষ্টি করছিল না। তারপরও সেনারা তাদের হত্যা করেছে। এটি ছিল ক্যামেরার সামনেই এক ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।”

জাতিসংঘ বলেছে, শুধুমাত্র নভেম্বর মাসেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন শিশু।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

পশ্চিম তীরে সীমিত প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে “জঘন্য বিচারবহির্ভূত হত্যা” ও যুদ্ধাপরাধ বলে নিন্দা জানিয়েছে।


# আন্তর্জাতিক_সংবাদ #মধ্যপ্রাচ্য #ইসরায়েল_ফিলিস্তিন #জাতিসংঘ #পশ্চিম_তীর #জেনিন