বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (বিজেইপিএ) সইয়ের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের মতে, এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
সবচেয়ে বড় বিষয়, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় থাকবে। নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের রপ্তানি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবাহের জন্য একটি কৌশলগত সুরক্ষা।
এলডিসি-পরবর্তী বাজার প্রবেশের নিশ্চয়তা
চুক্তি কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই ৭,৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের বাজারে ১,০৩৯টি জাপানি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটি। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ছাড়াও সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন সুবিধা এই খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সেবাখাতে বিস্তৃত কাঠামো
বিজেইপিএতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, শুল্ক, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষাসহ বিস্তৃত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাপানের সঙ্গে এটিই বাংলাদেশের প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যৌথ গবেষণা দলের প্রতিবেদনের মাধ্যমে আলোচনার কাঠামো নির্ধারিত হয়। ২০২৪ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় এবং সাত দফা বৈঠকের পর চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়। আলোচনার পুরো সময়জুড়ে বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া হয়।

সেবা খাতে বাংলাদেশ ১২টি খাতের আওতায় ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত খুলে দেবে। এর ফলে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও মানসম্পন্ন বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ ও সামনের পথ
আলোচনার গতি বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ও জাপান সফরের মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলোর সমাধান হয়েছে।
চুক্তি সইয়ের প্রস্তাব ইতোমধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। জাপান জানিয়েছে, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চুক্তিটি সই করার লক্ষ্য রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















