দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেছেন বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে। তিনি বলেছেন, বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে বিমসটেক সচিবালয় বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
রমজানের চেতনায় ইফতার আয়োজন
সোমবার সন্ধ্যায় রমজানের চেতনা উদযাপন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে এক ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বিমসটেক মহাসচিব। এই অনুষ্ঠানে সরকার, কূটনৈতিক মহল, গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে বিমসটেক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে মানবিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক সচিব ড. নজরুল ইসলামও ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রমজানের শিক্ষা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বিমসটেক মহাসচিব বলেন, পবিত্র রমজান মাস মানুষকে আত্মসংযম, সহমর্মিতা এবং দয়ার মতো সার্বজনীন মূল্যবোধ শেখায়। এই মূল্যবোধ মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনে উৎসাহিত করে এবং একটি আরও সুন্দর পৃথিবী গঠনে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে যখন অস্থিরতা বাড়ছে, তখন বিমসটেক একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত সম্পর্ক এবং উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিমসটেকের সদস্য দেশ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র
বঙ্গোপসাগর অঞ্চলভিত্তিক এই আঞ্চলিক জোটে সাতটি দেশ রয়েছে—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।
বিমসটেকের আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন এবং নীল অর্থনীতি; পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পাহাড়ি অর্থনীতি; নিরাপত্তা, জ্বালানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা; কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, পর্যটন, সংস্কৃতি, দারিদ্র্য বিমোচন ও ভিসা বিষয়ক সহযোগিতা; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়ন; এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















