০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
মেধা পাচার নাকি নতুন বৈজ্ঞানিক মানচিত্র? গবেষণা তহবিল কমতেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা হলিউডে অর্ধশতকের সংগ্রাম শেষে তারকার মর্যাদা, শেরিল লি রালফের অনুপ্রেরণার গল্প ফর্মুলা ওয়ানে নতুন প্রজন্মের ঝড়, তরুণ দর্শক টানতে বদলে যাচ্ছে মোটর রেসিংয়ের দুনিয়া অস্কারের দৌড়ে অপ্রতিরোধ্য তেয়ানা টেইলর: অভিনয়, সংগীত ও পরিচালনায় এক সৃজনশীল বিস্ময় ইউরোপের প্রযুক্তিখাতে নতুন ভোর: বিনিয়োগ, প্রতিভা ও উদ্ভাবনে বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ ‘ধুরন্ধর ২’ পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হতে পারে—তবু চিন্তিত নন পরিচালক আদিত্য ধর জার্মানির শিল্পশক্তি ব্যাডেন-ভুর্টেমবার্গে নির্বাচনী আতঙ্ক, গাড়ি শিল্পের সংকটে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ব্রিটেনের অর্থনীতিতে ঝড়ের ইঙ্গিত, শান্ত ঘোষণার আড়ালে বাড়ছে বড় সংকটের আশঙ্কা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন শ্রেণি বিভাজন: মূলধারার দল ছেড়ে জনতার ঝোঁক নতুন শক্তির দিকে ভারতের ‘পিছিয়ে পড়া’ মেয়েদের স্কুলে ফেরানোর লড়াই, সাফিনা হুসাইনের আন্দোলনে বদলাচ্ছে লক্ষ জীবন

ডাভোসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে ‘সমাধানের কাছাকাছি’ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ডাভোসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধটি এখন কার্যত একটি মাত্র অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে সীমিত হয়ে এসেছে। তার মতে, বিষয়টি এখন “সমাধানযোগ্য”। উইটকফ মস্কো সফরে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করার কথা রয়েছে।

ডনবাস ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা আলোচনার কেন্দ্রে

যদিও উইটকফ প্রকাশ্যে সেই একক জটিল বিষয়টি নির্দিষ্ট করে বলেননি, তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলই প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিল্পসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের কিছু অংশকে নিরস্ত্রীকৃত মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা, যার বিনিময়ে কিয়েভ পাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।

Republican presidential nominee and former U.S. President Donald Trump and Ukraine's President Volodymyr Zelenskiy meet in New York

জেলেনস্কি এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডোনেৎস্ক অঞ্চলের যে অংশ এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে—শর্ত হলো, রাশিয়াকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে গত এক বছরে রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনে ধীরগতিতে হলেও অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং পুরো অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মনে করেন দুই নেতা এখন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে জেলেনস্কির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন, পুতিন তুলনামূলকভাবে আলোচনায় বেশি আগ্রহী।

জ্বালানি হামলা ও পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ে জটিলতা

জেলেনস্কি ডাভোসে পৌঁছান এমন এক সময়, যখন কিয়েভে নতুন করে রুশ হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো গরম, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রায় চার বছরে চলমান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে এটিই ইউক্রেনের অন্যতম কঠিন শীত।

Kremlin says any peace conference on Ukraine without Russia lacks 'result-oriented approach'

আলোচনার আরেকটি বড় বাধা হলো ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ। ২০২২ সালের শুরুতে কেন্দ্রটি রাশিয়ার দখলে যায়। জেলেনস্কি এই ইস্যুটিকে আলোচনার অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি চুক্তি নিয়ে দ্রুত কোনো অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এদিকে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই বৈঠকে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে সই হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্টভাবেই গতি পাচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মেধা পাচার নাকি নতুন বৈজ্ঞানিক মানচিত্র? গবেষণা তহবিল কমতেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা

ডাভোসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে ‘সমাধানের কাছাকাছি’ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি

০৬:১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ডাভোসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধটি এখন কার্যত একটি মাত্র অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে সীমিত হয়ে এসেছে। তার মতে, বিষয়টি এখন “সমাধানযোগ্য”। উইটকফ মস্কো সফরে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করার কথা রয়েছে।

ডনবাস ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা আলোচনার কেন্দ্রে

যদিও উইটকফ প্রকাশ্যে সেই একক জটিল বিষয়টি নির্দিষ্ট করে বলেননি, তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলই প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিল্পসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের কিছু অংশকে নিরস্ত্রীকৃত মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা, যার বিনিময়ে কিয়েভ পাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।

Republican presidential nominee and former U.S. President Donald Trump and Ukraine's President Volodymyr Zelenskiy meet in New York

জেলেনস্কি এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ডোনেৎস্ক অঞ্চলের যে অংশ এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে—শর্ত হলো, রাশিয়াকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে গত এক বছরে রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনে ধীরগতিতে হলেও অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং পুরো অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে।

ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মনে করেন দুই নেতা এখন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে জেলেনস্কির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন, পুতিন তুলনামূলকভাবে আলোচনায় বেশি আগ্রহী।

জ্বালানি হামলা ও পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ে জটিলতা

জেলেনস্কি ডাভোসে পৌঁছান এমন এক সময়, যখন কিয়েভে নতুন করে রুশ হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো গরম, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রায় চার বছরে চলমান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে এটিই ইউক্রেনের অন্যতম কঠিন শীত।

Kremlin says any peace conference on Ukraine without Russia lacks 'result-oriented approach'

আলোচনার আরেকটি বড় বাধা হলো ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ। ২০২২ সালের শুরুতে কেন্দ্রটি রাশিয়ার দখলে যায়। জেলেনস্কি এই ইস্যুটিকে আলোচনার অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে তিনি চুক্তি নিয়ে দ্রুত কোনো অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এদিকে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এই বৈঠকে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে সই হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা স্পষ্টভাবেই গতি পাচ্ছে।