০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
এলডিসি উত্তরণে চূড়ান্ত মতামত দিতে ডিসেম্বরেই ঢাকায় আসছে জাতিসংঘের স্বাধীন মূল্যায়ন দল ট্রাম্প পরিকল্পনা থামিয়ে সাময়িক স্বস্তি: ইউক্রেন সংকট আরও গভীর হচ্ছে টাইপ–১ ডায়াবেটিস নিরাময়ে বড় অগ্রগতি: মানবদেহে পরীক্ষার সম্ভাবনা উন্মুক্ত মঙ্গলগ্রহে বিদ্যুৎ চমক শনাক্ত: নাসা রোভার প্রথমবার বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ ধরেছে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেতাদের ঝোঁক যুক্তরাষ্ট্রের সোমালিয়ায় বিমান হামলা ব্যাপক বৃদ্ধি: আইএস ও আল-কায়েদা দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিযান হংকংয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কেন আগুন এত দ্রুত ছড়াল এবং কীভাবে তা রাজনীতিকে নাড়া দিচ্ছে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিঘ্ন না ঘটাতে হাসপাতালমুখী ভিড় এড়ানোর আহ্বান নাটোর চিনিকল শ্রমিকদের রোববার থেকে ধর্মঘট পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক চালু হচ্ছে এই সপ্তাহে

হংকংয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কেন আগুন এত দ্রুত ছড়াল এবং কীভাবে তা রাজনীতিকে নাড়া দিচ্ছে

হংকংয়ের ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাগুলোর একটি। এই ঘটনায় শহরের প্রশাসন ও বেইজিং সরকারকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। আগুনে ব্যাপক প্রাণহানি, উদ্ধার তৎপরতা, ভবন নিরাপত্তা মান, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং দুর্নীতির সম্ভাব্য অভিযোগ—সব মিলিয়ে হংকংয়ের জন্য এটি এক কঠিন পরীক্ষা।

অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ছড়াল এত দ্রুত
১৯৮৩ সালে নির্মিত ওয়াং ফুক কোর্টে বৃহৎ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প চলছিল। বুধবার দুপুর ২:৫১ মিনিটে একটি ভবনে আগুন লাগে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আরও ছয়টি ব্লকে। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
নিরাপত্তা সচিব ক্রিস ট্যাং জানান, আগুন সম্ভবত নিচতলার দিক থেকেই শুরু হয়েছে। তদন্তে তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগতে পারে।
প্রাথমিকভাবে সরকার বলেছে, বাসিন্দাদের জানালায় লাগানো প্লাস্টিক ফোম আগুনকে ঘরের ভেতরে দ্রুত ছড়াতে সাহায্য করেছে। সঙ্গে ছিল সুরক্ষামূলক নেট, ত্রিপল ও প্লাস্টিক শিট—যেগুলো যথাযথ অগ্নি-নিরাপত্তা মান পূরণ করেনি।
এছাড়া ভবনগুলো ঘিরে থাকা বাঁশের মাচাও আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ শিগগিরই বাঁশের বদলে ধাতব মাচার ব্যবহারে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ভবনের অগ্নি-সতর্কতা অ্যালার্ম ঠিকমতো কাজ করেনি। বহু বাসিন্দা জানান, তারা কোনো সংকেত শুনতে পাননি।

প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
ওয়াং ফুক কোর্টে প্রায় ৪,৬০০ বাসিন্দা ও প্রায় ২,০০০টি ইউনিট ছিল। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাসিন্দাদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি।
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১২৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, ৭৯ জন আহত এবং ১০০ জনের বেশি নিখোঁজ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী দমকলকর্মী হো ওয়াই-হো।
এছাড়া শতাধিক পোষা প্রাণীর নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে, যাদের উদ্ধারে প্রাণীকল্যাণ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে।
গৃহহারা বাসিন্দারা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ খাবার, পানি, শীতবস্ত্র ও বিছানাপত্র সরবরাহ করছেন।
প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০,০০০ হংকং ডলার জরুরি সহায়তা দেওয়া হবে।

নির্মাণসামগ্রী ও নিরাপত্তা মান নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত
বাঁশের মাচা হংকংয়ে হাজার বছরের ঐতিহ্য হলেও এটি দাহ্য এবং আগুন লাগার ঝুঁকি বেশি—বিশেষজ্ঞরা বলেন, ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাঁশ জ্বলে ওঠে।
তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছে জানালায় লাগানো প্লাস্টিক ফোম বোর্ড, যা আগুনকে ভবনের ভেতরে দ্রুত প্রবেশ করিয়েছে।
হিপ হিং কনস্ট্রাকশনের নির্বাহী পরিচালক টনি ডব্লিউ জি এ জা বলেন, ধাতব মাচা অবশ্যই বেশি নিরাপদ, তবে বাঁশকে সম্পূর্ণ অগ্নিদাহ্য বলা উচিত হবে না—এটি নির্ভর করে মানদণ্ডের ওপর।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোহ তাস ইয়ং বলেন, নিরাপত্তা বিধি অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়; ফলে সস্তা সামগ্রী ব্যবহারে ঠিকাদাররা আগ্রহী। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের আত্মতুষ্টি এই বিপর্যয়ের পেছনে বড় কারণ।

হংকং ও বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া
বুধবার দুর্ঘটনার পর অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শোক প্রকাশ করেন এবং হংকং সরকারকে নির্দেশ দেন প্রাণহানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামাতে সব ব্যবস্থা নিতে।
হংকং সরকার তড়িঘড়ি করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে, পরে দুর্নীতি দমন কমিশন আরও আটজনকে আটক করে।
প্রশাসন ৩০০ মিলিয়ন হংকং ডলার ত্রাণ তহবিলের ঘোষণা দেয়।
তবে অনলাইন আলোচনায় সমালোচনা উঠে—সরকার কি যথেষ্ট দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে? অনেকেই অভিযোগ করেন, জন লি প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জনগণের বদলে বেইজিংকে ধন্যবাদ জানানোতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও আসন্ন নির্বাচন
২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পর থেকে হংকং সরকার শহরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এই অগ্নিকাণ্ড সেই স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।
৭ ডিসেম্বরের আইনসভা নির্বাচন এখন বড় পরীক্ষা। প্রচার কার্যক্রম ইতিমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ভোট ১৪ দিন পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চায়, যদিও অধিকাংশ আসন সরাসরি নির্বাচিত নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলো—এটি সরল অবহেলার মামলা থেকে দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে রূপ নিতে পারে। আইসিএসি ১৩টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নথি ও ব্যাংক রেকর্ড জব্দ করেছে।
চীনে প্রেসিডেন্ট শি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন; ফলে হংকংয়ে এমন কোনো কেলেঙ্কারি রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।

‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির প্রশ্ন
সিনো–ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার আওতায় হংকং ২০৪৭ সাল পর্যন্ত উচ্চমাত্রার স্বায়ত্তশাসন ভোগ করার কথা। আগুন নিভানো বা দুর্ঘটনা মোকাবিলা—এসব স্থানীয় সরকারের আওতাধীন।
কিন্তু বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকা এই কাঠামোর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে—হংকং কি এখনও নিজস্বভাবে সংকট সামলানোর ক্ষমতা রাখে?

#tags #fire #hongkong #politics

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি উত্তরণে চূড়ান্ত মতামত দিতে ডিসেম্বরেই ঢাকায় আসছে জাতিসংঘের স্বাধীন মূল্যায়ন দল

হংকংয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: কেন আগুন এত দ্রুত ছড়াল এবং কীভাবে তা রাজনীতিকে নাড়া দিচ্ছে

০৪:৫৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

হংকংয়ের ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাগুলোর একটি। এই ঘটনায় শহরের প্রশাসন ও বেইজিং সরকারকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। আগুনে ব্যাপক প্রাণহানি, উদ্ধার তৎপরতা, ভবন নিরাপত্তা মান, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং দুর্নীতির সম্ভাব্য অভিযোগ—সব মিলিয়ে হংকংয়ের জন্য এটি এক কঠিন পরীক্ষা।

অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ছড়াল এত দ্রুত
১৯৮৩ সালে নির্মিত ওয়াং ফুক কোর্টে বৃহৎ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প চলছিল। বুধবার দুপুর ২:৫১ মিনিটে একটি ভবনে আগুন লাগে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আরও ছয়টি ব্লকে। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
নিরাপত্তা সচিব ক্রিস ট্যাং জানান, আগুন সম্ভবত নিচতলার দিক থেকেই শুরু হয়েছে। তদন্তে তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগতে পারে।
প্রাথমিকভাবে সরকার বলেছে, বাসিন্দাদের জানালায় লাগানো প্লাস্টিক ফোম আগুনকে ঘরের ভেতরে দ্রুত ছড়াতে সাহায্য করেছে। সঙ্গে ছিল সুরক্ষামূলক নেট, ত্রিপল ও প্লাস্টিক শিট—যেগুলো যথাযথ অগ্নি-নিরাপত্তা মান পূরণ করেনি।
এছাড়া ভবনগুলো ঘিরে থাকা বাঁশের মাচাও আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ শিগগিরই বাঁশের বদলে ধাতব মাচার ব্যবহারে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ভবনের অগ্নি-সতর্কতা অ্যালার্ম ঠিকমতো কাজ করেনি। বহু বাসিন্দা জানান, তারা কোনো সংকেত শুনতে পাননি।

প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
ওয়াং ফুক কোর্টে প্রায় ৪,৬০০ বাসিন্দা ও প্রায় ২,০০০টি ইউনিট ছিল। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাসিন্দাদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি।
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১২৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, ৭৯ জন আহত এবং ১০০ জনের বেশি নিখোঁজ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী দমকলকর্মী হো ওয়াই-হো।
এছাড়া শতাধিক পোষা প্রাণীর নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে, যাদের উদ্ধারে প্রাণীকল্যাণ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে।
গৃহহারা বাসিন্দারা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ খাবার, পানি, শীতবস্ত্র ও বিছানাপত্র সরবরাহ করছেন।
প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০,০০০ হংকং ডলার জরুরি সহায়তা দেওয়া হবে।

নির্মাণসামগ্রী ও নিরাপত্তা মান নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত
বাঁশের মাচা হংকংয়ে হাজার বছরের ঐতিহ্য হলেও এটি দাহ্য এবং আগুন লাগার ঝুঁকি বেশি—বিশেষজ্ঞরা বলেন, ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাঁশ জ্বলে ওঠে।
তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছে জানালায় লাগানো প্লাস্টিক ফোম বোর্ড, যা আগুনকে ভবনের ভেতরে দ্রুত প্রবেশ করিয়েছে।
হিপ হিং কনস্ট্রাকশনের নির্বাহী পরিচালক টনি ডব্লিউ জি এ জা বলেন, ধাতব মাচা অবশ্যই বেশি নিরাপদ, তবে বাঁশকে সম্পূর্ণ অগ্নিদাহ্য বলা উচিত হবে না—এটি নির্ভর করে মানদণ্ডের ওপর।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোহ তাস ইয়ং বলেন, নিরাপত্তা বিধি অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়; ফলে সস্তা সামগ্রী ব্যবহারে ঠিকাদাররা আগ্রহী। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের আত্মতুষ্টি এই বিপর্যয়ের পেছনে বড় কারণ।

হংকং ও বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া
বুধবার দুর্ঘটনার পর অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শোক প্রকাশ করেন এবং হংকং সরকারকে নির্দেশ দেন প্রাণহানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামাতে সব ব্যবস্থা নিতে।
হংকং সরকার তড়িঘড়ি করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে, পরে দুর্নীতি দমন কমিশন আরও আটজনকে আটক করে।
প্রশাসন ৩০০ মিলিয়ন হংকং ডলার ত্রাণ তহবিলের ঘোষণা দেয়।
তবে অনলাইন আলোচনায় সমালোচনা উঠে—সরকার কি যথেষ্ট দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে? অনেকেই অভিযোগ করেন, জন লি প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জনগণের বদলে বেইজিংকে ধন্যবাদ জানানোতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও আসন্ন নির্বাচন
২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পর থেকে হংকং সরকার শহরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এই অগ্নিকাণ্ড সেই স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।
৭ ডিসেম্বরের আইনসভা নির্বাচন এখন বড় পরীক্ষা। প্রচার কার্যক্রম ইতিমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ভোট ১৪ দিন পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চায়, যদিও অধিকাংশ আসন সরাসরি নির্বাচিত নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলো—এটি সরল অবহেলার মামলা থেকে দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে রূপ নিতে পারে। আইসিএসি ১৩টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নথি ও ব্যাংক রেকর্ড জব্দ করেছে।
চীনে প্রেসিডেন্ট শি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন; ফলে হংকংয়ে এমন কোনো কেলেঙ্কারি রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।

‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির প্রশ্ন
সিনো–ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার আওতায় হংকং ২০৪৭ সাল পর্যন্ত উচ্চমাত্রার স্বায়ত্তশাসন ভোগ করার কথা। আগুন নিভানো বা দুর্ঘটনা মোকাবিলা—এসব স্থানীয় সরকারের আওতাধীন।
কিন্তু বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকা এই কাঠামোর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে—হংকং কি এখনও নিজস্বভাবে সংকট সামলানোর ক্ষমতা রাখে?

#tags #fire #hongkong #politics