সোমালিয়ায় জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা চলতি বছরে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই হামলার পরিমাণ গত বছরের তুলনায় দশ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আইএস, আইএস-সোমালিয়া এবং আল-কায়েদা-সংযুক্ত আল-শাবাবকে লক্ষ্য করেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত বছর বাইডেন প্রশাসনের সময় তুলনামূলক কম হামলার পর এ বছরের এই ব্যাপক বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করেছে।
বিমান হামলার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ১০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছিল, কিন্তু চলতি বছরে ইতোমধ্যেই ১০০–এর বেশি হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯টি হামলা সরাসরি আইএস-সোমালিয়াকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। আফ্রিকম বলছে, সোমালিয়ার ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে, যাতে আইএস-সোমালিয়া ও আল-শাবাবের হামলায় সক্ষমতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিক এবং মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখা যায়।

সর্বশেষ অভিযান ও সংঘর্ষ
মঙ্গলবার পরিচালিত সর্বশেষ অভিযানে পুন্তল্যান্ড অঞ্চলে আইএস-সোমালিয়া জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তীব্র হামলা চালানো হয়। চার ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে প্রথমে মার্কিন এমকিউ–৯ রিপার ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, এরপর ১০টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আরও আক্রমণ চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীরা একটি বড় গুহার ভেতর এবং আশপাশে অবস্থান করছিল। কিছু সূত্র দাবি করে, হেলিকপ্টার থেকে মার্কিন সেনারা নেমেছিল, যদিও আফ্রিকম জোর দিয়ে বলেছে—স্থলভাগে কোনো মার্কিন অভিযান চালানো হয়নি এবং এমন তথ্য সঠিক নয়। নিরাপত্তার কারণে সংশ্লিষ্ট ইউনিট বা ব্যবহৃত সম্পদের অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ না করার কথাও জানিয়েছে তারা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, অভিযানে একজন গুরুত্বপূর্ণ আইএস নেতা নিহত বা গ্রেপ্তার হয়েছে এবং প্রায় ১০ জন জঙ্গি মারা গেছে। তবে মার্কিন বাহিনীর কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সোমালিয়ায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা—যার লক্ষ্য মূলত আইএস, আইএস-সোমালিয়া এবং আল-শাবাব।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও আফ্রিকার ব্যাখ্যা
আগস্টে আফ্রিকম জানিয়েছেন, তারা একাধিক হামলা পরিচালনা করেছেন এবং এসব অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আফ্রিকম কমান্ডার জেনারেল ড্যাগভিন অ্যান্ডারসন বলেন, এসব প্রাণঘাতী হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, হামলাগুলোর লক্ষ্য এমন এক সংগঠন, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস রপ্তানি করতে চায়। এই বিবৃতির সঙ্গে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ থেকে বিমান উড্ডয়নের সরকারি ছবি প্রকাশ করা হয়।

বিশেষজ্ঞ মতামত ও সোমালিয়ার জটিল পরিস্থিতি
চ্যাট হ্যাম হাউসের আফ্রিকা প্রোগ্রাম গবেষক আহমদ সোলিমান বলেন, পুন্য ল্যান্ড অঞ্চলে আইএস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি মনোযোগের কারণ হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরেকটি আইএস ঘাঁটি তৈরি হওয়া রোধ করা এবং আইএস-সোমালিয়ার বিদেশি যোদ্ধা নিয়োগের ঝুঁকি প্রতিহত করা। তবে তিনি সতর্ক করেন যে এই মনোযোগের ভারসাম্যহীনতা আল-শাবাবের পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে—বিশেষ করে সোমালিয়ার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে তাদের কার্যক্রম বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, সোমালিয়ার রাজনীতিতে ক্রমাগত বিভক্তি—বিশেষ করে ফেডারেল সরকার (এফজিএস) এবং পুন্দ ল্যান্ড ও জুবাল্যান্ডের মতো আঞ্চলিক প্রশাসনের মধ্যে ক্ষমতার টানাপোড়েন—সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে এবং সমন্বয়হীনতা বাড়াচ্ছে।
পূর্ববর্তী সামরিক মন্তব্য
মে মাসে আফ্রিকার তৎকালীন কমান্ডার জেনারেল মাইকেল ই. ল্যাংলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সোমালিয়ায় সক্রিয়ভাবে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে এবং তাদের নির্মূলের চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সোমালিয়ায় বিমান হামলার ব্যাপক বৃদ্ধি সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের তীব্রতা বাড়লে, দেশটির রাজনীতিতে অস্থিরতা ও আল-শাবাবের পুনরুত্থান পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। আইএস-সোমালিয়া ও আল-শাবাব কে প্রতিহত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, অঞ্চলটির অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এসব পদক্ষেপের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
#ট্রাম্প_প্রশাসন #সোমালিয়া #মার্কিন_বিমান_হামলা #আইএস #আলশাবাব #সন্ত্রাসবিরোধী_অভিযান #আফ্রিকা #আফ্রিকম
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















