উপকূলের কাছে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অধীন দুটি তেলবাহী জাহাজে রহস্যজনক বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছে তুরস্ক। ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বাহ্যিক আঘাতকে দায়ী করা হচ্ছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার শুক্রবার কৃষ্ণসাগরে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উভয় জাহাজেই বড় ধরনের আগুন ধরে যায় এবং ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে দ্রুত অভিযান পরিচালিত হয়।
কাইরস ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ
গাম্বিয়া-ফ্ল্যাগযুক্ত ট্যাঙ্কার কাইরোস রুশ বন্দর নভোরোসিস্ক-এর উদ্দেশে যাত্রার সময় তুরস্কের উপকূল থেকে ২৮ নটিক্যাল মাইল দূরে বিস্ফোরণের শিকার হয়। তুরস্কের সামুদ্রিক বিষয়ক মহাপরিচালক জানান, জাহাজটিতে আগুন লাগে বাহ্যিক কারণের প্রভাবে। জাহাজটির ২৫ জন নাবিক—যাদের বেশিরভাগই চীনা নাগরিক—তুর্কি কোস্টগার্ড নিরাপদে উদ্ধার করে। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, পুরো জাহাজটি আগুনে ঘেরা। তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুলকাদির উরালওগলু বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মাইন বিস্ফোরণ হওয়ার সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে প্রাথমিক মূল্যায়নে বাহ্যিক আঘাতের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বিরাট ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার অভিযোগ
দ্বিতীয় জাহাজটি, গাম্বিয়া-ফ্ল্যাগযুক্ত ট্যাঙ্কার ভিরাট, তুরস্কের উপকূল থেকে ৩৫ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি আঘাত পাওয়ার কথা জানায়। স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, জাহাজটি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে ক্রুরা জানিয়েছে। উরালওগলু জানান, জাহাজটির ২০ জন নাবিককে উদ্ধারের জন্য বিশেষ উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানো হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ভিরাটের হালে বড় একটি ছিদ্র তৈরি হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার পটভূমি
উভয় ট্যাঙ্কারকেই পশ্চিমা দেশগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। অভিযোগ ছিল, তারা রাশিয়ার ওপর ইউক্রেন যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট তেল পরিবহনের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে। মস্কো অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ছায়া নৌবহর পরিচালনার কথাও নাকচ করেছে।
কৃষ্ণসাগরে উত্তেজনা বাড়ছে
এ বছর ফেব্রুয়ারি থেকে কৃষ্ণসাগর রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের কারণে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই দেশই একে অপরের নৌযান ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ভাসমান মাইন ইউক্রেন উপকূল ছাপিয়ে বসফরাস পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
#কৃষ্ণসাগর #বিস্ফোরণ # নিষেধাজ্ঞা #তুরস্ক # রাশিয়া #ইউক্রেন সংঘাত
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















