০৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে বিরোধী দল অত্যন্ত সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করছে- স্পিকার হুতি আন্দোলনের সংযমী পদক্ষেপ: ইরান যুদ্ধে সীমিত হামলা ও কৌশল কান্দির খাবারের ফিরিস্তি: পর্ব-২: জনার নিরামিষ সিঙ্গারা শিরীন শারমিনকে ঘিরে আইনজীবীদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আদালতের সিঁড়িতে পড়ে গেলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্র অনুপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালালে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি: সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে, কূটনৈতিক সমাধানের কোনো অগ্রগতি নেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ইসরায়েল-ইরানের নতুন হামলা, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি কোচেলার সময়সূচি প্রকাশ, উৎসবের কাউন্টডাউন এখন সত্যিকারের পরিকল্পনার লড়াই

ইন্দোনেশিয়ায় প্রাণঘাতী ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা: মৃত ২৭৯

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে প্রবল মৌসুমি বৃষ্টির পর ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে লড়ছে উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি
উত্তর সুমাত্রার বহু অঞ্চল সড়ক ধসে ও যোগাযোগব্যবস্থা নষ্ট হয়ে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এসব অঞ্চলে শুধুমাত্র ত্রাণবাহী বিমান দিয়ে সাহায্য পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ আরও ধীরগতির হতে বাধ্য হয়েছে।

প্রাদেশিক পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার আরও ৩১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৯ জনে।
প্রায় ৩,৫০০ পুলিশ সদস্য মাঠে নেমে ১৭৪ জন নিখোঁজ মানুষের সন্ধান চালাচ্ছেন এবং ২৮,৪০০-র বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছেন।

বন্যা–ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতি
টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে পড়ে পাহাড়ি জনপদগুলো ভেসে গেছে। অত্যন্ত দ্রুত স্রোত বহু মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং হাজারো ঘরবাড়ি ধ্বংস করে।

পশ্চিম সুমাত্রার আগাম জেলায় তিনটি গ্রামে প্রায় ৮০ জন মানুষ কাদামাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ। সেখানেও উদ্ধারকাজে জরুরি ভিত্তিতে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। সালারেহ আইয়া গ্রামে একটি চাপা পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ তুলতে গিয়ে আত্মীয়রা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Indonesian rescuers search for survivors as the death toll from floods and landslides  rises to 279 | weareiowa.com

অন্যদিকে, পশ্চিম সুমাত্রার আইর তাওয়ার সৈকতে বিপুল পরিমাণ কাঠের গুঁড়ি ভেসে আসতে দেখা গেছে, যা বন উজাড় বা অবৈধ কাঠ কাটা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আচেহ প্রদেশে উদ্ধারকাজ
সুমাত্রার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত আচেহ প্রদেশেও ট্র্যাক্টর বা এক্সকাভেটর পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শত শত পুলিশ, সেনা সদস্য ও স্থানীয় মানুষ ভারী বৃষ্টির মধ্যেও হাতে কোদাল, বেলচা কিংবা খালি হাতে মাটি সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান সুহারিয়ান্তো বলেন, “মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ অনেক এলাকা এখনো উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি এবং বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।”

টেলিভিশন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দু’জন উদ্ধারকর্মী একটি ছোট রাবারের নৌকা নিয়ে তীব্র স্রোতের মধ্যে দুলতে দুলতে নারকেল গাছে ঝুলে থাকা একজন মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

আচেহ প্রদেশের গভর্নর মুজাকির মানাফ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেছেন, “আমাদের অনেক কিছু দ্রুত করতে হবে, কিন্তু পরিস্থিতি একেবারেই সহায়ক নয়।”
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আচেহর বিরেউন জেলায় আকস্মিক বন্যায় একটি সেতু ধসে পড়ে এবং উত্তর সুমাত্রার মেদান থেকে বান্দা আচেহ পর্যন্ত দুই দিকের যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গ্রাম থেকে গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে নৌকা।

ইন্দোনেশিয়ার প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাস্তবতা
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থান করার কারণে ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামির ঝুঁকিতে থাকে। মৌসুমি বৃষ্টির সময় দেশটিতে প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধস ঘটে।
১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ পাহাড়ি অঞ্চল বা নদীর নিকটবর্তী উর্বর সমতলে বাস করে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও ঘন ঘন ঘটায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে বিরোধী দল অত্যন্ত সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করছে- স্পিকার

ইন্দোনেশিয়ায় প্রাণঘাতী ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা: মৃত ২৭৯

০৮:০০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে প্রবল মৌসুমি বৃষ্টির পর ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে লড়ছে উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি
উত্তর সুমাত্রার বহু অঞ্চল সড়ক ধসে ও যোগাযোগব্যবস্থা নষ্ট হয়ে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এসব অঞ্চলে শুধুমাত্র ত্রাণবাহী বিমান দিয়ে সাহায্য পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ আরও ধীরগতির হতে বাধ্য হয়েছে।

প্রাদেশিক পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার আরও ৩১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৯ জনে।
প্রায় ৩,৫০০ পুলিশ সদস্য মাঠে নেমে ১৭৪ জন নিখোঁজ মানুষের সন্ধান চালাচ্ছেন এবং ২৮,৪০০-র বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছেন।

বন্যা–ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতি
টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে পড়ে পাহাড়ি জনপদগুলো ভেসে গেছে। অত্যন্ত দ্রুত স্রোত বহু মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং হাজারো ঘরবাড়ি ধ্বংস করে।

পশ্চিম সুমাত্রার আগাম জেলায় তিনটি গ্রামে প্রায় ৮০ জন মানুষ কাদামাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ। সেখানেও উদ্ধারকাজে জরুরি ভিত্তিতে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। সালারেহ আইয়া গ্রামে একটি চাপা পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ তুলতে গিয়ে আত্মীয়রা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Indonesian rescuers search for survivors as the death toll from floods and landslides  rises to 279 | weareiowa.com

অন্যদিকে, পশ্চিম সুমাত্রার আইর তাওয়ার সৈকতে বিপুল পরিমাণ কাঠের গুঁড়ি ভেসে আসতে দেখা গেছে, যা বন উজাড় বা অবৈধ কাঠ কাটা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আচেহ প্রদেশে উদ্ধারকাজ
সুমাত্রার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত আচেহ প্রদেশেও ট্র্যাক্টর বা এক্সকাভেটর পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শত শত পুলিশ, সেনা সদস্য ও স্থানীয় মানুষ ভারী বৃষ্টির মধ্যেও হাতে কোদাল, বেলচা কিংবা খালি হাতে মাটি সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান সুহারিয়ান্তো বলেন, “মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ অনেক এলাকা এখনো উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি এবং বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।”

টেলিভিশন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দু’জন উদ্ধারকর্মী একটি ছোট রাবারের নৌকা নিয়ে তীব্র স্রোতের মধ্যে দুলতে দুলতে নারকেল গাছে ঝুলে থাকা একজন মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

আচেহ প্রদেশের গভর্নর মুজাকির মানাফ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেছেন, “আমাদের অনেক কিছু দ্রুত করতে হবে, কিন্তু পরিস্থিতি একেবারেই সহায়ক নয়।”
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আচেহর বিরেউন জেলায় আকস্মিক বন্যায় একটি সেতু ধসে পড়ে এবং উত্তর সুমাত্রার মেদান থেকে বান্দা আচেহ পর্যন্ত দুই দিকের যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গ্রাম থেকে গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে নৌকা।

ইন্দোনেশিয়ার প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাস্তবতা
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থান করার কারণে ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামির ঝুঁকিতে থাকে। মৌসুমি বৃষ্টির সময় দেশটিতে প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধস ঘটে।
১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ পাহাড়ি অঞ্চল বা নদীর নিকটবর্তী উর্বর সমতলে বাস করে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও ঘন ঘন ঘটায়।