জার্মানির একটি আদালত নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সংঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই ব্যক্তি একটি ছোট ইউক্রেনীয় নাশকতা দলের নেতৃত্ব দিয়ে পাইপলাইন ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স ৪৯ বছর। গণমাধ্যম তাকে সাবেক ইউক্রেনীয় সেনা কর্মকর্তা সের্গেই কুজনেৎসভ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জার্মান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি নাশকতা দলের সদস্যদের নিয়ে একটি ইয়ট ভাড়া করেন এবং বাণিজ্যিক ডাইভিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে সমুদ্রের নিচে পাইপলাইনে বিস্ফোরক স্থাপন করেন। বিস্ফোরণে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে গ্যাস সরবরাহের জন্য নির্মিত চারটি পাইপলাইনের মধ্যে তিনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
![]()
এই ঘটনার জবাবে মস্কো জার্মান তদন্তকারীদের দাবি “হাস্যকর” বলে উল্লেখ করেছে। রাশিয়ার মতে, এ ধরনের জটিল নাশকতার সক্ষমতা শুধু ন্যাটো দেশগুলোরই থাকতে পারে।
ফেডারেল পাবলিক প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর শুক্রবার জানায়, ফেডারেল কোর্টের তদন্ত বিচারক ২৮ নভেম্বর ইউক্রেনীয় নাগরিক সের্গেই কে–এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করেছেন।
সন্দেহভাজনকে আগস্টে ইতালিতে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার তাকে জার্মানিতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।
আরেক সন্দেহভাজন ভ্লাদিমির জেড–কে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু অক্টোবর মাসে ওয়ারশ জেলা আদালত জার্মানির প্রত্যর্পণ অনুরোধ বাতিল করে তাকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ দেয়। বিচারক দারিউস লুবভস্কি যুক্তি দেন, বিস্ফোরণটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটায় জার্মানির এখতিয়ার নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, এই বিস্ফোরণ ছিল “যৌক্তিক, প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত।” বিচারকের মতে, “ন্যায়সঙ্গত প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উড়িয়ে দেওয়া নাশকতা নয়, বরং সামরিক পদক্ষেপ।”
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও ‘এক্স’–এ পোস্ট করে নাশকতাকে ন্যায্যতা দেন। তিনি লেখেন, “নর্ড স্ট্রিম ২–এর সমস্যা এটি ধ্বংস হওয়া নয়; সমস্যা হলো এটি নির্মিত হয়েছিল।”
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ টাস্কের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পোল্যান্ড প্রকাশ্যে দেখিয়েছে যে, রাশিয়ার ক্ষতি হলে তারা ‘সন্ত্রাসবাদের’ পক্ষে অবস্থান নিতে প্রস্তুত।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















