বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’ শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি করে ১২৩ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ভারতের তামিলনাড়ু–পুদুচেরি উপকূলে জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে, ঝড়টি বাংলাদেশের স্থলভাগে বা উপকূলে সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলছে না। সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টি বা শক্তিশালী বাতাসের ঝুঁকি আপাতত নেই।
ডিটওয়া কীভাবে তৈরি হলো
২০২৫ সালের ২৬–২৭ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ ধীরে ধীরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড় “ডিটওয়া”-তে রূপ নেয়। উত্তর ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে এটি ছিল বছরের চতুর্থ ঘূর্ণিঝড়। ‘ডিটওয়া’ নামটি দিয়েছে ইয়েমেন।
ভারতে প্রস্তুাবস্থা ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি শ্রীলঙ্কা সংলগ্ন অঞ্চল থেকে উত্তর–উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ৩০ নভেম্বর ভোরে তামিলনাড়ু–পুদুচেরি উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
এই দুই অঞ্চলে জারি করা হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’। উপকূলীয় জেলাগুলো — কুড্ডালোর, ময়িলাদুত্তুরাই, ভিল্লুপুরম, চেঙ্গালপট্টু ও পুদুচেরি — তে অত্যন্ত ভারী বর্ষণ, এবং ঘণ্টায় ৭০–৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এতে শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা, ঘরবাড়ির ক্ষতি, গাছ উপড়ে পড়া এবং ফসলের বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ
ডিটওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কাজুড়ে প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধস দেখা দেয়।
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী —
- এ পর্যন্ত ১২৩ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে,
- বহু মানুষ নিখোঁজ,
- হাজার হাজার পরিবার ঘরহারা হয়েছে,
- রাস্তা, সেতু, রেলপথ এবং বিদ্যুৎসংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে ডিটওয়ার প্রভাব—এখনই উদ্বেগ নেই
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া বাংলাদেশের উপকূল থেকে প্রায় ১৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।
বাংলাদেশে ঝড়টির কোনো সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই — বৃষ্টি বা শক্তিশালী বাতাসের ঝুঁকিও নেই।
তবে কেবল সমুদ্রবন্দরগুলোতে দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত নম্বর ২ দেখাতে বলা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার বা জাহাজ চলাচলে সতর্কতা বজায় রাখতে নির্দেশনা রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য প্রেক্ষিত ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা
যদিও ডিটওয়া বাংলাদেশকে প্রভাবিত করেনি, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে —
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের পথ, তীব্রতা ও আচরণ দিনে দিনে অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
- ভবিষ্যতে আকস্মিক ঝড় বা চরম বৃষ্টির ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
সেজন্য উপকূলীয় অঞ্চল, জেলে সম্প্রদায়, এবং সামুদ্রিক শিল্পের জন্য আগাম সতর্কতা, শক্তিশালী পূর্বাভাস ব্যবস্থা, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, উঁচু অবকাঠামো ও কার্যকর প্রতিরক্ষা–ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
ডিটওয়া এখনো বাংলাদেশের জন্য তেমন কোনো বিপদের কারণ না হলেও অঞ্চলটির সার্বিক আবহাওয়া অস্থিতিশীল। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় এর তীব্র প্রভাব প্রমাণ করে—একজন প্রতিবেশীর দুর্যোগ অন্য দেশের জন্যও সতর্কবার্তা হতে পারে।
বাংলাদেশকেও তাই ভবিষ্যতের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় আরও জোর দিতে হবে।
#CycloneDitwah #BangladeshWeather #StormUpdate #SouthAsiaClimate #SarakhanReport
সারাক্ষণ রিপোর্ট 




















