ভোগ যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সংখ্যায় নারীর পরিচয়, দৃষ্টি ও ক্ষমতার প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফ্যাশন ফটোগ্রাফির ইতিহাসে নারীর অবস্থান কীভাবে বদলেছে, সেই গল্পই উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে, যেখানে অ্যানি লাইবোভিট্জ ও স্টিভেন ক্লাইনের কাজের ভেতর দিয়ে নারীর বহুমাত্রিক সত্তা খোঁজা হয়েছে।
ক্যামেরার পেছনে নারীর লড়াই
নারী ফটোগ্রাফারদের শুরুটা সহজ ছিল না। রাস্তার দৃশ্য ধারণ করা গেলেও স্টুডিও, আলো ও ব্যয়বহুল সরঞ্জামের অভাবে অনেকেই প্রতিকৃতি ফটোগ্রাফিতে প্রবেশ করতে পারেননি। সেই বাস্তবতার মধ্যেই অ্যানি লাইবোভিট্জ ভিন্ন পথে হাঁটেন। পুরুষশাসিত ফটোগ্রাফির জগতে তিনি এমন মানুষদের সামনে আনেন, যাদের গুরুত্ব আগে তেমনভাবে স্বীকৃত ছিল না। তাঁর ক্যামেরার দৃষ্টি সেই বিষয়গুলোকেই বৈধতা দেয়, যেগুলো এতদিন প্রান্তে ছিল।

স্টিভেন ক্লাইনের অস্বস্তিকর সৌন্দর্য
এই মৌসুমে প্রকাশিত স্টিভেন ক্লাইন ভোগ শীর্ষক বইটি নারীর প্রশ্নকে নিয়ে গেছে আরও অদ্ভুত এক জগতে। দুই দশকের কাজ নিয়ে তৈরি এই সংকলনে দেখা যায় শহরতলির বিকৃত বাস্তবতা, পরিত্যক্ত মোটেল, মাংসের হিমাগার কিংবা অস্বাভাবিক নীরবতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা নারীরা। এসব ছবি শুধু ফ্যাশনের নয়, বরং গল্প বলে। একেকটি ফ্রেম যেন একেকটি মনস্তাত্ত্বিক দৃশ্য, যেখানে নারীর শরীর, মুখ আর পরিচয় কখনো আড়ালে, কখনো চরমভাবে উন্মুক্ত।
ভাঙন আর মুক্তির মাঝখানে নারী
ক্লাইনের ছবিতে কৃত্রিম সৌন্দর্যের চাপ স্পষ্ট। অতিরঞ্জিত ঠোঁট, কৃত্রিম স্তন কিংবা মুখোশে ঢাকা মুখ যেন সমাজের আরোপিত সৌন্দর্যের প্রতীক। আবার সেই ছবির মধ্যেই দেখা যায় মুক্তির ইঙ্গিত। পাহাড়ের খাঁজে ঝুলে থাকা নারী, ঘোড়ার পাশে নগ্ন সাঁতার কিংবা উপচে পড়া সিঙ্কের বিশৃঙ্খলাকে উপেক্ষা করা এক অবাধ্য দৃষ্টি। সৌন্দর্যের নিয়ম সেখানে গুরুত্ব হারায়।

ফ্যাশনের বাইরে সমাজের মুখোমুখি
স্টিভেন ক্লাইনের মতে ক্যামেরা আর বিষয়ের মাঝখানের জগৎ একদিকে পবিত্র, অন্যদিকে বিপজ্জনক। সেটি এক মানসিক মঞ্চ, যেখানে ক্যামেরা কখনো আয়না, কখনো অস্ত্র। ভোগের জন্য তোলা এই ছবিগুলো পোশাকের চেয়েও বড় প্রশ্ন তোলে। সমাজে নারীর শরীর কীভাবে বর্ম, প্রলোভন কিংবা অতিরঞ্জনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, সেটাই সামনে আনে। নারী হওয়ার প্রশ্নে এখানে কোনো সহজ উত্তর নেই, আছে শুধু টানাপোড়েন আর অনিশ্চয়তা।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















