দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানের একটি মরু শহর তিন দিন ধরে চলা তীব্র সংঘর্ষের পর পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই সহিংসতায় বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা সদস্য মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে।
সমন্বিত হামলায় অচল প্রদেশ
শনিবার ভোরে বেলুচ লিবারেশন আর্মির সমন্বিত হামলায় পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ, গুলি ও গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, পাল্টা অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৯৭ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে হামলার আগের দিন পরিচালিত সামরিক অভিযানে নিহত হয় ৪১ জন।

এই হামলায় স্কুল, ব্যাংক, বাজার ও নিরাপত্তা স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। এতে ২২ জনের বেশি নিরাপত্তা সদস্য এবং ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের দিকে মোটরসাইকেলে করে সশস্ত্র হামলাকারীরা শহরে ঢুকে পড়ে এবং একযোগে আক্রমণ শুরু করে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সমন্বিত সহিংসতার ঘটনা।
শহরে আতঙ্ক, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
হামলার পর থেকে কোয়েটা হয়ে চলাচলকারী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং প্রদেশের বহু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হামলাকারীরা কয়েকটি পুলিশ স্টেশনেও আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সামরিক হেলিকপ্টার থেকে গোলাবর্ষণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। যদিও শহরে সরাসরি সংঘর্ষ থেমেছে, বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
মরু শহরে অবরোধ ও পাল্টা অভিযান

প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের বাস নুশকি শহরে হামলাকারীরা পুলিশ স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা দখল করে তিন দিনের অচলাবস্থা তৈরি করে। সরকারি কমপ্লেক্স দখল করে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিম্মিও করা হয়। সংঘর্ষে সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর সোমবার রাতের দিকে শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় সেখানকার বাসিন্দারা এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অভিযান চালানো হয়েছে এবং প্রদেশের অন্যান্য এলাকায়ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ বেলুচিস্তান বহু দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহে অস্থির। বিদ্রোহীরা অধিক স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদের ন্যায্য অংশ দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক হামলায় শতাধিক সেনা নিহত হয়েছে বলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি থাকলেও এর পক্ষে প্রমাণ মেলেনি।
এদিকে পাকিস্তান এই হামলার জন্য ভারতের দিকে অভিযোগ তুলেছে, যদিও কোনো প্রমাণ দেয়নি। ভারত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ইসলামাবাদের উচিত অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে বিদ্রোহের ধরন বদলেছে এবং সামনে আরও সহিংসতা ও অচলাবস্থার পালাবদল দেখা যেতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















