লন্ডন থেকে ভারতে উড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে সম্ভাব্য ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ থাকার অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়েছে যুক্তরাজ্যের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি সামনে আসার পর নতুন করে নজরদারির মুখে পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। গত বছরের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকেই সংস্থাটিকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা বজায় রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
রবিবার লন্ডন থেকে ছেড়ে আসা উড়োজাহাজটি ভারতে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য মাটিতে রাখা হয়। অবতরণের সময় পাইলট জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচে সম্ভাব্য ত্রুটির কথা জানান। এই সুইচের কাজ হলো ইঞ্জিনে জ্বালানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা, ফলে এতে সমস্যা দেখা দিলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের সতর্কবার্তা
যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক চিঠিতে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা না দিলে এয়ার ইন্ডিয়া এবং তাদের ড্রিমলাইনার বহরের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির উড্ডয়নযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণও চাওয়া হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার প্রতিক্রিয়া
সংস্থাটি জানিয়েছে, সতর্কতামূলক পুনরায় পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং জ্বালানি সুইচে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তারা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় জবাব দেবে বলেও নিশ্চিত করেছে। অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণে বহরের সব ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ পরীক্ষা করেও কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিয়ন্ত্রকদের অতিরিক্ত অনুসন্ধান
ভারতের বিমান চলাচল তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, লন্ডনে ইঞ্জিন চালুর সময় দুইবার সুইচ স্থির অবস্থায় না থাকলেও তৃতীয় চেষ্টায় স্বাভাবিক হয়। এরপরই যাত্রা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেন ক্রুরা। তবে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান, পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রতিরোধ পরিকল্পনা এবং পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
পূর্বের দুর্ঘটনার প্রভাব
গত বছরে গুজরাটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই সংস্থাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়তি নজরদারি চলছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই উদ্বেগ আরও জোরালো করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















