২০২৫ সালে চীন ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রেকর্ড ১৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বেইজিংয়ের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন। চীনা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এই বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশেরও বেশি, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগে নতুন গতি নির্দেশ করছে।
ভারতের রপ্তানি ও দ্রুত প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত
২০২৫ সালে চীনে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বছরের শেষ দুই মাসে প্রবৃদ্ধির হার আরও দ্রুত ছিল, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাষ্ট্রদূত ভারতীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উচ্চমানের পণ্য চীনা বাজারে প্রবেশ করলে বাণিজ্য ঘাটতি সহযোগিতামূলক উদ্বৃত্তে রূপ নিতে পারে।
![]()
শীর্ষ বৈঠকে সম্পর্কের নতুন সূচনা
তিয়ানজিনে চীনের প্রেসিডেন্ট ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি এনেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক পুনরায় শুরু হওয়ার পর্যায় থেকে উন্নয়নের নতুন স্তরে পৌঁছেছে। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে পরবর্তী একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে।
যোগাযোগ বৃদ্ধি ও বিধিনিষেধ শিথিল
২০২৫ সালের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু হয় এবং গত এক বছরে ভিসা বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চুক্তিতে চীনা কোম্পানির অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা প্রত্যাহারের বিষয়ে ও ভারত ভাবছে বলে জানা গেছে। এসব পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বৈশ্বিক সহযোগিতায় সমন্বয়ের বার্তা
চীন ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকে সমর্থন করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বয় জোরদারে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক দক্ষিণের সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















