০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
এআই-চালিত আয়ে শক্ত বার্তা দিল অ্যামাজন, চিপ ব্যবসাও ২০ বিলিয়ন ডলারের পথে সিডনির আলো-ছায়ায় রোজি হান্টিংটন-হোয়াইটলি, নতুন প্রচ্ছদে নজরকাড়া উপস্থিতি চার বছরের বিরতির পর মঞ্চে বিটিএস, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুরু বিশাল বিশ্ব সফর এআই চাহিদায় তেজি টিএসএমসি, প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ ক্যাটসআই: পর্দার বাইরে গড়া এক উন্মাদনা, নতুন যুগের মেয়েদের দলে ভক্তির নতুন ভাষা হলিউডের ভাটা, বিশ্ব সিনেমার জোর—কান উৎসব ২০২৬-এ আর্টহাউস ঝলক এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা

ট্রাম্পের নীতিতে গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত, সতর্ক করল মানবাধিকার সংস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির বার্ষিক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন দমননীতি, ভোটাধিকার নিয়ে হুমকি এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নীতিগত পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র কে চাপে ফেলছে এবং এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে ও পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতির মূল্যায়ন

এক শতাধিক দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভূমিকায় সংস্থাটির প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার মতে, মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র এখন স্বৈরশাসকদের প্রশংসা করছে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এতে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

Understanding democratic decline in the United States | Brookings

গণতন্ত্রের মান দ্রুত অবনতি

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই বৈরী হয়ে উঠছে এবং গণতন্ত্রের মান দ্রুত নিম্নমুখী হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানবাধিকার রক্ষার ভবিষ্যৎ লড়াই এখন সবচেয়ে তীব্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রেই নির্ধারিত হবে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও।

হোয়াইট হাউসের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন মানবাধিকার রক্ষায় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক যুদ্ধের অবসান, ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং সরকারের অপব্যবহার বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ মানবাধিকারের পক্ষে ইতিবাচক অবদান। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

Trump's immigration policies have only gotten more extreme in 2024 | Vox

অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনা

প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণ, ব্যাপক আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রম এবং কঠোর কারাগারে পাঠানোর মতো পদক্ষেপ মানবাধিকার পরিপন্থী। দেশজুড়ে সামরিক ধাঁচের সরঞ্জাম ধারী অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ পরিস্থিতির উত্তেজনাও তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীন মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করছে এবং রাশিয়া ভিন্নমত দমনে কঠোরতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতাও মানবাধিকার পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অবশ্য নিজেদের পদক্ষেপকে আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে।

UN agency for Palestine refugees suspends teacher in Lebanon | Reuters

সংস্থার ভেতরেও বিতর্ক

এদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন এর অধিকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ স্থগিত করাকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির দুই সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এতে সংস্থার ভেতরের মতবিরোধ ও প্রকাশ্যে এসেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই-চালিত আয়ে শক্ত বার্তা দিল অ্যামাজন, চিপ ব্যবসাও ২০ বিলিয়ন ডলারের পথে

ট্রাম্পের নীতিতে গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত, সতর্ক করল মানবাধিকার সংস্থা

১২:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির বার্ষিক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন দমননীতি, ভোটাধিকার নিয়ে হুমকি এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নীতিগত পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র কে চাপে ফেলছে এবং এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে ও পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতির মূল্যায়ন

এক শতাধিক দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভূমিকায় সংস্থাটির প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার মতে, মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র এখন স্বৈরশাসকদের প্রশংসা করছে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এতে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

Understanding democratic decline in the United States | Brookings

গণতন্ত্রের মান দ্রুত অবনতি

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই বৈরী হয়ে উঠছে এবং গণতন্ত্রের মান দ্রুত নিম্নমুখী হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানবাধিকার রক্ষার ভবিষ্যৎ লড়াই এখন সবচেয়ে তীব্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রেই নির্ধারিত হবে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও।

হোয়াইট হাউসের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন মানবাধিকার রক্ষায় আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক যুদ্ধের অবসান, ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং সরকারের অপব্যবহার বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ মানবাধিকারের পক্ষে ইতিবাচক অবদান। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

Trump's immigration policies have only gotten more extreme in 2024 | Vox

অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনা

প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণ, ব্যাপক আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রম এবং কঠোর কারাগারে পাঠানোর মতো পদক্ষেপ মানবাধিকার পরিপন্থী। দেশজুড়ে সামরিক ধাঁচের সরঞ্জাম ধারী অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ পরিস্থিতির উত্তেজনাও তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীন মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করছে এবং রাশিয়া ভিন্নমত দমনে কঠোরতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতাও মানবাধিকার পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অবশ্য নিজেদের পদক্ষেপকে আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে।

UN agency for Palestine refugees suspends teacher in Lebanon | Reuters

সংস্থার ভেতরেও বিতর্ক

এদিকে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন এর অধিকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ স্থগিত করাকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির দুই সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এতে সংস্থার ভেতরের মতবিরোধ ও প্রকাশ্যে এসেছে।