মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফ্রিকার অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য কর্মসূচির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে মহাদেশজুড়ে কেবল অস্থায়ী স্বস্তিই মিলবে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্তর্ভুক্তি এখনো অনিশ্চয়তার ছায়ায় রয়েছে, কারণ ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রিটোরিয়ার কূটনৈতিক টানাপোড়েন পুরো পরিস্থিতিকে নাজুক করে রেখেছে।
এক বছরের বর্ধিত সুবিধা, তবু রয়ে গেছে সংশয়
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত আইনের মাধ্যমে আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্টের মেয়াদ বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দুই হাজার সালে চালু হওয়া এই ব্যবস্থার আওতায় নির্বাচিত আফ্রিকান দেশগুলো হাজারো পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে থাকে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন শুল্কনীতি কার্যত এই সুবিধার প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে এবং যে কোনো সময় দেশ বাদ দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা তৈরি হয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন
ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বর্ণবৈষম্য মোকাবিলায় দক্ষিণ আফ্রিকার নীতির সমালোচনা, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে মার্কিন অনুপস্থিতি এবং রপ্তানির ওপর উচ্চ শুল্ক—সব মিলিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাপের মুখে। তবু কিছু পণ্য এখনো শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় থাকায় সম্পূর্ণ নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মত বিশ্লেষকদের।
অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
দক্ষিণ আফ্রিকা বাদ পড়লে দেশটির গাড়ি শিল্প সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারে, কৃষি খাতেও প্রভাব পড়বে। সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি সামান্য কমলেও দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ আফ্রিকা সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগের সংকেত দেবে—এমনটাই ধারণা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের। দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যমন্ত্রী সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, অন্তর্ভুক্তি বজায় থাকায় গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিকল্প বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকছে আফ্রিকা
জাতিসংঘের বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে এই কর্মসূচির আওতায় আফ্রিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলো বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। নাইজেরিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে, কেনিয়া চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে। আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ মুক্ত বাণিজ্য জোরদার করার আহ্বানও জোরালো হচ্ছে, যাতে মহাদেশের অর্থনীতি অন্যের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল না থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















