০৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভোটের পর ফলাফল তৈরি হয় যেভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কী, নির্বাচন এলেই কেন এই কথা শোনা যায়? রাশিয়ার শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো বিপর্যস্ত রোবোট্যাক্সি সেবার বিস্তারে স্মার্ট যাতায়াতে নতুন গতি আবুধাবিতে সবার জীবনে সঙ্গীতের প্রয়োজনীয়তা, দুবাইয়ের অধ্যাপকের গবেষণায় নতুন দিগন্ত আল আইনে আলোকিত ফুলের মহোৎসব, দেড় হাজার ঝলমলে পাপড়িতে ফুটে উঠল ভিন্নতার বার্তা শিল্প ও ক্রীড়া ঐক্যে দুবাইয়ে সম্মাননা পেলেন আহমেদ আল জাসমি শারজাহর আল ধাইদে সাহিত্য পরিষদ উদ্বোধন, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সৃজনশীল চর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন জুনের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বৈঠকের প্রস্তাব ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় ওমানের ভূমিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশংসা, আঞ্চলিক শান্তির আশা জোরদার

মেরু ভালুকের মমতা বিস্ময় জাগাল, পরের শাবক দত্তক নিয়ে নতুন আশার গল্প

আর্কটিকের হিমশীতল বাস্তবতায় যেখানে টিকে থাকাই সবচেয়ে বড় লড়াই, সেখানে এক মা মেরু ভালুক দেখাল ভিন্ন এক মানবিক আচরণ। কানাডার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি বিরল এক ঘটনার নথি করেছেন, যেখানে একটি স্ত্রী মেরু ভালুক নিজের সন্তানের পাশাপাশি আরেকটি অনাথ শাবককে দত্তক নিয়েছে। শীর্ষ শিকারি হিসেবে পরিচিত এই প্রাণীর জীবনে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও, তা প্রকৃতির ভেতরের কোমল সম্পর্কের দিকটি সামনে এনেছে।

দুর্লভ দত্তক নেওয়ার ঘটনা
আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা পোলার বিয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল জানায়, চলতি বছরের বসন্তে গবেষকেরা যখন ওই স্ত্রী ভালুকটির গলায় জিপিএস কলার লাগান, তখন তার সঙ্গে ছিল একটি শাবক। কিন্তু কয়েক মাস পর তাকে আবার দেখা যায় প্রায় সমবয়সী দুই শাবক নিয়ে। তখনই গবেষকদের কাছে স্পষ্ট হয়, এটি একটি ব্যতিক্রমী দত্তক নেওয়ার ঘটনা।

গবেষকের ব্যাখ্যা
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কানাডীয় গবেষক ইভান রিচার্ডসনের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী মেরু ভালুকেরা স্বভাবতই খুব যত্নশীল মা। উপকূলে কোনো হারানো বা কাঁদতে থাকা শাবক দেখলে তারা তাকে নিজের মতো করে আগলে নিতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি মেরু ভালুকের জীবনচক্রের এক কৌতূহলোদ্দীপক দিক, যা এখনও পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায়নি।

দীর্ঘ গবেষণার নজির
এই মা ভালুকটি গবেষকদের কাছে পরিচিত এক্স তিন তিন নয় নয় এক নম্বর হিসেবে। সে ও তার শাবকরা পশ্চিম হাডসন উপসাগরের মেরু ভালুক জনগোষ্ঠীর অংশ, যা পৃথিবীর সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত দলগুলোর একটি। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এখানে মেরু ভালুকের খাদ্যাভ্যাস ও চলাচল নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। এত দীর্ঘ গবেষণায় চার হাজার ছয়শোর বেশি ভালুক পর্যবেক্ষণের পরও এটি মাত্র ত্রয়োদশ দত্তক নেওয়ার ঘটনা।

শাবকদের ভবিষ্যৎ
দুই শাবকই বর্তমানে সুস্থ ও পুষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বয়স আনুমানিক দশ থেকে এগারো মাস। তারা আরও দেড় বছর মায়ের সঙ্গেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনটি ভালুকই সাগরের বরফে উঠে গেছে। সেখানে মা ভালুক সিল শিকার করবে, আর শাবকেরা তার দেওয়া খাবার ভাগ করে খাবে। ধীরে ধীরে তারা কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকার কৌশল শিখবে।

কঠিন বাস্তবতা ও টিকে থাকার লড়াই
মেরু বরফে দীর্ঘ শীতকালীন শিকার আর গ্রীষ্মের কয়েক মাস প্রায় না খেয়ে থাকা মেরু ভালুকদের জন্য ভীষণ কঠিন জীবন। পরিসংখ্যান বলছে, জন্ম নেওয়া প্রতি দুই শাবকের একজন প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে পৌঁছাতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দত্তক নেওয়া এই শাবকটির জন্য এখন একজন মা থাকা মানে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাওয়া। যদিও অতীতে নথিভুক্ত তেরটি ঘটনার মধ্যে মাত্র তিনটি শাবকই শেষ পর্যন্ত টিকে ছিল।

অজানা প্রশ্ন আর আশার বার্তা
গবেষকেরা শাবকটির জিনগত নমুনা পরীক্ষা করে জানতে চান, তার প্রকৃত মা এখনও জীবিত কি না। অতীতে কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, মা বেঁচে থাকলেও শাবক অদলবদল হয়ে গেছে। তবে এই ঘটনার পুরো সত্য হয়তো কখনোই জানা যাবে না। তবুও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই দত্তক নেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, প্রকৃতির নির্মমতার মাঝেও সহমর্মিতার জায়গা আছে। মেরু ভালুকেরা হয়তো একে অন্যের দিকে তাকিয়েই টিকে থাকার পথ খুঁজে নেয়।

#মেরু_ভালুক #আর্কটিক_প্রকৃতি #বন্যপ্রাণী_সংরক্ষণ #প্রকৃতির_গল্প #বন্যপ্রাণী_গবেষণা #মায়ের_মমতা

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটের পর ফলাফল তৈরি হয় যেভাবে

মেরু ভালুকের মমতা বিস্ময় জাগাল, পরের শাবক দত্তক নিয়ে নতুন আশার গল্প

১২:১৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

আর্কটিকের হিমশীতল বাস্তবতায় যেখানে টিকে থাকাই সবচেয়ে বড় লড়াই, সেখানে এক মা মেরু ভালুক দেখাল ভিন্ন এক মানবিক আচরণ। কানাডার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি বিরল এক ঘটনার নথি করেছেন, যেখানে একটি স্ত্রী মেরু ভালুক নিজের সন্তানের পাশাপাশি আরেকটি অনাথ শাবককে দত্তক নিয়েছে। শীর্ষ শিকারি হিসেবে পরিচিত এই প্রাণীর জীবনে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও, তা প্রকৃতির ভেতরের কোমল সম্পর্কের দিকটি সামনে এনেছে।

দুর্লভ দত্তক নেওয়ার ঘটনা
আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা পোলার বিয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল জানায়, চলতি বছরের বসন্তে গবেষকেরা যখন ওই স্ত্রী ভালুকটির গলায় জিপিএস কলার লাগান, তখন তার সঙ্গে ছিল একটি শাবক। কিন্তু কয়েক মাস পর তাকে আবার দেখা যায় প্রায় সমবয়সী দুই শাবক নিয়ে। তখনই গবেষকদের কাছে স্পষ্ট হয়, এটি একটি ব্যতিক্রমী দত্তক নেওয়ার ঘটনা।

গবেষকের ব্যাখ্যা
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কানাডীয় গবেষক ইভান রিচার্ডসনের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী মেরু ভালুকেরা স্বভাবতই খুব যত্নশীল মা। উপকূলে কোনো হারানো বা কাঁদতে থাকা শাবক দেখলে তারা তাকে নিজের মতো করে আগলে নিতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি মেরু ভালুকের জীবনচক্রের এক কৌতূহলোদ্দীপক দিক, যা এখনও পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায়নি।

দীর্ঘ গবেষণার নজির
এই মা ভালুকটি গবেষকদের কাছে পরিচিত এক্স তিন তিন নয় নয় এক নম্বর হিসেবে। সে ও তার শাবকরা পশ্চিম হাডসন উপসাগরের মেরু ভালুক জনগোষ্ঠীর অংশ, যা পৃথিবীর সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত দলগুলোর একটি। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এখানে মেরু ভালুকের খাদ্যাভ্যাস ও চলাচল নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। এত দীর্ঘ গবেষণায় চার হাজার ছয়শোর বেশি ভালুক পর্যবেক্ষণের পরও এটি মাত্র ত্রয়োদশ দত্তক নেওয়ার ঘটনা।

শাবকদের ভবিষ্যৎ
দুই শাবকই বর্তমানে সুস্থ ও পুষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বয়স আনুমানিক দশ থেকে এগারো মাস। তারা আরও দেড় বছর মায়ের সঙ্গেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনটি ভালুকই সাগরের বরফে উঠে গেছে। সেখানে মা ভালুক সিল শিকার করবে, আর শাবকেরা তার দেওয়া খাবার ভাগ করে খাবে। ধীরে ধীরে তারা কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকার কৌশল শিখবে।

কঠিন বাস্তবতা ও টিকে থাকার লড়াই
মেরু বরফে দীর্ঘ শীতকালীন শিকার আর গ্রীষ্মের কয়েক মাস প্রায় না খেয়ে থাকা মেরু ভালুকদের জন্য ভীষণ কঠিন জীবন। পরিসংখ্যান বলছে, জন্ম নেওয়া প্রতি দুই শাবকের একজন প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে পৌঁছাতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দত্তক নেওয়া এই শাবকটির জন্য এখন একজন মা থাকা মানে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাওয়া। যদিও অতীতে নথিভুক্ত তেরটি ঘটনার মধ্যে মাত্র তিনটি শাবকই শেষ পর্যন্ত টিকে ছিল।

অজানা প্রশ্ন আর আশার বার্তা
গবেষকেরা শাবকটির জিনগত নমুনা পরীক্ষা করে জানতে চান, তার প্রকৃত মা এখনও জীবিত কি না। অতীতে কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, মা বেঁচে থাকলেও শাবক অদলবদল হয়ে গেছে। তবে এই ঘটনার পুরো সত্য হয়তো কখনোই জানা যাবে না। তবুও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই দত্তক নেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, প্রকৃতির নির্মমতার মাঝেও সহমর্মিতার জায়গা আছে। মেরু ভালুকেরা হয়তো একে অন্যের দিকে তাকিয়েই টিকে থাকার পথ খুঁজে নেয়।

#মেরু_ভালুক #আর্কটিক_প্রকৃতি #বন্যপ্রাণী_সংরক্ষণ #প্রকৃতির_গল্প #বন্যপ্রাণী_গবেষণা #মায়ের_মমতা