০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ভোটের পর ফলাফল তৈরি হয় যেভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কী, নির্বাচন এলেই কেন এই কথা শোনা যায়? রাশিয়ার শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো বিপর্যস্ত রোবোট্যাক্সি সেবার বিস্তারে স্মার্ট যাতায়াতে নতুন গতি আবুধাবিতে সবার জীবনে সঙ্গীতের প্রয়োজনীয়তা, দুবাইয়ের অধ্যাপকের গবেষণায় নতুন দিগন্ত আল আইনে আলোকিত ফুলের মহোৎসব, দেড় হাজার ঝলমলে পাপড়িতে ফুটে উঠল ভিন্নতার বার্তা শিল্প ও ক্রীড়া ঐক্যে দুবাইয়ে সম্মাননা পেলেন আহমেদ আল জাসমি শারজাহর আল ধাইদে সাহিত্য পরিষদ উদ্বোধন, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সৃজনশীল চর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন জুনের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বৈঠকের প্রস্তাব ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় ওমানের ভূমিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশংসা, আঞ্চলিক শান্তির আশা জোরদার

প্রাচীন মিসরের ডিএনএ খুলে দিল নতুন ইতিহাসের দরজা, পিরামিড যুগে পশ্চিম এশিয়ার ছাপ

নাইল নদের তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতার শিকড় নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্নে নতুন আলোর দেখা মিলেছে। প্রাচীন মিসরের এক ব্যক্তির সম্পূর্ণ জিনগত মানচিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পিরামিড নির্মাণের সময়কার সমাজ শুধু উত্তর আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এর সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার মানুষেরও গভীর যোগ ছিল। এই গবেষণা প্রাচীন বিশ্বের মানুষের চলাচল ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে ।

ডিএনএ বিশ্লেষণে কী মিলল
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার হাজার পাঁচশ থেকে চার হাজার আটশ বছর আগের এক পুরুষের দেহাবশেষ থেকে নেওয়া ডিএনএতে দেখা গেছে, তার জিনগত পরিচয়ের প্রায় আশি শতাংশ উত্তর আফ্রিকার প্রাচীন জনগোষ্ঠী থেকে এসেছে। বাকি অংশের উৎস পশ্চিম এশিয়া ও মেসোপটেমিয়া অঞ্চল। এতদিন এই অঞ্চলের সঙ্গে মিশরের সম্পর্ক মূলত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে সীমিত ছিল, এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি জিনগত প্রমাণ মিলল।

সংরক্ষণের ব্যতিক্রমী সৌভাগ্য
এই ব্যক্তি মমি করা ছিলেন না। তাকে একটি মাটির পাত্রে সিল করে কবর দেওয়া হয়েছিল, যা ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য অপ্রত্যাশিতভাবে সহায়ক হয়েছে। গবেষকরা দাঁতের ভেতরের অংশ থেকে জিনগত উপাদান সংগ্রহ করেন। গরম আবহাওয়ার দেশ হওয়া সত্ত্বেও এই পদ্ধতির কারণে ডিএনএ অক্ষত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্রমজীবন আর সামাজিক মর্যাদার দ্বন্দ্ব
কঙ্কাল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যক্তি দীর্ঘদিন কঠোর শারীরিক পরিশ্রমে যুক্ত ছিলেন। হাড়ে বাত, অস্থিক্ষয় ও ভার বহনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। গবেষকদের মতে, তিনি সম্ভবত কুমার বা ভারী কাজে যুক্ত কারিগর ছিলেন। তবে তার দাফনের ধরন তুলনামূলক মর্যাদাপূর্ণ, যা সাধারণ শ্রমজীবীর ক্ষেত্রে বিরল। এতে সামাজিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইতিহাস বোঝার নতুন সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মাত্র একটি নমুনা হলেও প্রাচীন মিসরের জনগোষ্ঠীর উৎস ও চলাচল বোঝার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। ভবিষ্যতে আরও ডিএনএ বিশ্লেষণ হলে জানা যাবে, কখন এবং কীভাবে পশ্চিম এশিয়া থেকে মানুষ নীল নদের সভ্যতায় যুক্ত হয়েছিল।

#প্রাচীনমিসর #ডিএনএগবেষণা #পিরামিডযুগ #মানবইতিহাস #প্রত্নতত্ত্ব #বিজ্ঞানসংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটের পর ফলাফল তৈরি হয় যেভাবে

প্রাচীন মিসরের ডিএনএ খুলে দিল নতুন ইতিহাসের দরজা, পিরামিড যুগে পশ্চিম এশিয়ার ছাপ

০১:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

নাইল নদের তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতার শিকড় নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্নে নতুন আলোর দেখা মিলেছে। প্রাচীন মিসরের এক ব্যক্তির সম্পূর্ণ জিনগত মানচিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পিরামিড নির্মাণের সময়কার সমাজ শুধু উত্তর আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এর সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার মানুষেরও গভীর যোগ ছিল। এই গবেষণা প্রাচীন বিশ্বের মানুষের চলাচল ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে ।

ডিএনএ বিশ্লেষণে কী মিলল
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার হাজার পাঁচশ থেকে চার হাজার আটশ বছর আগের এক পুরুষের দেহাবশেষ থেকে নেওয়া ডিএনএতে দেখা গেছে, তার জিনগত পরিচয়ের প্রায় আশি শতাংশ উত্তর আফ্রিকার প্রাচীন জনগোষ্ঠী থেকে এসেছে। বাকি অংশের উৎস পশ্চিম এশিয়া ও মেসোপটেমিয়া অঞ্চল। এতদিন এই অঞ্চলের সঙ্গে মিশরের সম্পর্ক মূলত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে সীমিত ছিল, এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি জিনগত প্রমাণ মিলল।

সংরক্ষণের ব্যতিক্রমী সৌভাগ্য
এই ব্যক্তি মমি করা ছিলেন না। তাকে একটি মাটির পাত্রে সিল করে কবর দেওয়া হয়েছিল, যা ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য অপ্রত্যাশিতভাবে সহায়ক হয়েছে। গবেষকরা দাঁতের ভেতরের অংশ থেকে জিনগত উপাদান সংগ্রহ করেন। গরম আবহাওয়ার দেশ হওয়া সত্ত্বেও এই পদ্ধতির কারণে ডিএনএ অক্ষত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্রমজীবন আর সামাজিক মর্যাদার দ্বন্দ্ব
কঙ্কাল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যক্তি দীর্ঘদিন কঠোর শারীরিক পরিশ্রমে যুক্ত ছিলেন। হাড়ে বাত, অস্থিক্ষয় ও ভার বহনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। গবেষকদের মতে, তিনি সম্ভবত কুমার বা ভারী কাজে যুক্ত কারিগর ছিলেন। তবে তার দাফনের ধরন তুলনামূলক মর্যাদাপূর্ণ, যা সাধারণ শ্রমজীবীর ক্ষেত্রে বিরল। এতে সামাজিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইতিহাস বোঝার নতুন সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মাত্র একটি নমুনা হলেও প্রাচীন মিসরের জনগোষ্ঠীর উৎস ও চলাচল বোঝার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। ভবিষ্যতে আরও ডিএনএ বিশ্লেষণ হলে জানা যাবে, কখন এবং কীভাবে পশ্চিম এশিয়া থেকে মানুষ নীল নদের সভ্যতায় যুক্ত হয়েছিল।

#প্রাচীনমিসর #ডিএনএগবেষণা #পিরামিডযুগ #মানবইতিহাস #প্রত্নতত্ত্ব #বিজ্ঞানসংবাদ