প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ২ জানুয়ারির লিখিত পরীক্ষাকে ঘিরে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে পরীক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিষিদ্ধ সামগ্রী এবং পরীক্ষার নিয়মাবলি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিতি ও প্রবেশবিধি
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে অর্থাৎ সকাল ৯টার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর আর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।
নিরাপত্তা তল্লাশি ও নজরদারি
কেন্দ্রে প্রবেশের সময় নারী ও পুরুষ পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে তল্লাশি করা হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। ব্লুটুথ বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্তের জন্য পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে। কানে কোনো স্পাইক ইয়ারফোন রয়েছে কি না, তা প্রয়োজনে টর্চলাইট ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হবে।
নিষিদ্ধ সামগ্রী ও শাস্তির বিধান
পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ঘড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স কিংবা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব সামগ্রী সঙ্গে আনলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

উত্তরপত্র পূরণ ও জমাদান
পরীক্ষার্থীদের একটি ওএমআর শিট দেওয়া হবে, যা কালো বলপয়েন্ট কলম দিয়ে পূরণ করতে হবে। পেনসিল ব্যবহার করলে উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট উভয়ই পরিদর্শকের কাছে জমা দিতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন না।
পরীক্ষা পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা
সুষ্ঠু ও শৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না। ভুয়া পরীক্ষার্থী বা অসদুপায় অবলম্বনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবেদন ও প্রতিযোগিতার চিত্র
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার শূন্য পদের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের জন্য আবেদন করেছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করবেন প্রায় ৭৫ জন পরীক্ষার্থী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















