০২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর শিল্পের পুরোনো শক্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, ইতালিতে শুরু ‘শিল্প পুনর্জাগরণ’ এআইকে মানুষ যতটা ভাবছে, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও বড় ব্যক্তিত্বের গড়নে জিনের প্রভাব কতটা? ১০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য থেকে মিলল নতুন উত্তর ঘুম আসছে না? বিছানায় পড়ে না থেকে উঠে পড়ুন, বলছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমারে ১০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্ত অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী বাবাকে হারিয়ে বদলে যাওয়ার লড়াই, অভিবাসী পরিবারের কণ্ঠ হয়ে উঠছেন সালগাদো ভাইয়েরা ঢাকা মেডিকেলে দুই হাজতির মৃত্যু

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ঘিরে তেহরানে রক্ষণশীলদের চাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথে অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশটির কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রকাশ্যে আলোচনার বিরোধিতা করে সরকার ও আলোচক দলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। তাদের অবস্থান এখন ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

চুক্তির সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা

এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে উভয় পক্ষের আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে, অন্যদিকে ইরানের আলোচকরা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না এবং অপর পক্ষ পদক্ষেপ না নিলে তেহরানও কোনো অগ্রগতি দেখাবে না। এই অবস্থার মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরে চুক্তি নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও কট্টরপন্থীদের প্রচার

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, যা দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণশীল প্রভাবের অধীনে রয়েছে, আলোচনাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিভাজনমূলক প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে দেশের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একসময় সম্মতি দিয়েছিলেন। অথচ এখন দেশের কিছু মহল আলোচনাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

রাস্তায় প্রতিবাদ, সংসদে আপত্তি

তেহরানে সাম্প্রতিক এক সমাবেশে কট্টরপন্থী সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি জানায়। তারা সরকারকে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে যুদ্ধকালীন মনোভাব বজায় রাখার কথা বলে।

সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন যে ইরানই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং চূড়ান্ত শর্ত নির্ধারণের অধিকার তারই। এসব বক্তব্য আলোচনার পক্ষে থাকা রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংখ্যালঘু হলেও প্রভাবশালী

তেহরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কট্টরপন্থী এই গোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। তবুও তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রভাব ধরে রেখেছে এবং তাদের উপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। যদিও বর্তমান আলোচনাপ্রক্রিয়া তাদের আপত্তি সত্ত্বেও এগিয়ে চলছে, তবুও সরকারের জন্য এটি একটি স্পর্শকাতর ভারসাম্যের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতাকেও ঘিরে বিতর্ক

নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকেও কট্টরপন্থী কিছু মহল সমালোচনার বাইরে রাখছে না। এক রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি মন্তব্য করেন, যা অনেকেই সর্বোচ্চ নেতার প্রতি পরোক্ষ আক্রমণ হিসেবে দেখেন। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হন।

এদিকে আলোচনাবিরোধী একটি অংশ আলোচক দলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নমনীয়তার অভিযোগ তুলেছে। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা আলোচক দলের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন এবং রাজনৈতিক বিভাজন এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ঐক্যের আহ্বান

যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা ইরানে রাজনৈতিক ঐক্য এখন বড় একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ নেতা সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া সাম্প্রতিক বার্তায় অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিভাজন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি দেশের প্রতিপক্ষদের কৌশলকে শক্তিশালী করতে পারে।

সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি তেহরানকে নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধও সামাল দিতে হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ঘিরে কট্টরপন্থীদের বিরোধিতা নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা ঘিরে তেহরানে রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কেন বিরোধিতা করছে কট্টরপন্থীরা, পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদনে।

#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #তেহরান #খামেনি #পারমাণবিকআলোচনা #মধ্যপ্রাচ্য #কূটনীতি #আন্তর্জাতিকরাজনীতি #বিশ্বরাজনীতি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ঘিরে তেহরানে রক্ষণশীলদের চাপ

০৭:১০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথে অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশটির কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রকাশ্যে আলোচনার বিরোধিতা করে সরকার ও আলোচক দলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। তাদের অবস্থান এখন ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

চুক্তির সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা

এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে উভয় পক্ষের আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে, অন্যদিকে ইরানের আলোচকরা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না এবং অপর পক্ষ পদক্ষেপ না নিলে তেহরানও কোনো অগ্রগতি দেখাবে না। এই অবস্থার মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরে চুক্তি নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও কট্টরপন্থীদের প্রচার

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, যা দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণশীল প্রভাবের অধীনে রয়েছে, আলোচনাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিভাজনমূলক প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে দেশের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একসময় সম্মতি দিয়েছিলেন। অথচ এখন দেশের কিছু মহল আলোচনাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

রাস্তায় প্রতিবাদ, সংসদে আপত্তি

তেহরানে সাম্প্রতিক এক সমাবেশে কট্টরপন্থী সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি জানায়। তারা সরকারকে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে যুদ্ধকালীন মনোভাব বজায় রাখার কথা বলে।

সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন যে ইরানই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং চূড়ান্ত শর্ত নির্ধারণের অধিকার তারই। এসব বক্তব্য আলোচনার পক্ষে থাকা রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংখ্যালঘু হলেও প্রভাবশালী

তেহরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কট্টরপন্থী এই গোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। তবুও তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রভাব ধরে রেখেছে এবং তাদের উপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। যদিও বর্তমান আলোচনাপ্রক্রিয়া তাদের আপত্তি সত্ত্বেও এগিয়ে চলছে, তবুও সরকারের জন্য এটি একটি স্পর্শকাতর ভারসাম্যের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতাকেও ঘিরে বিতর্ক

নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকেও কট্টরপন্থী কিছু মহল সমালোচনার বাইরে রাখছে না। এক রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি মন্তব্য করেন, যা অনেকেই সর্বোচ্চ নেতার প্রতি পরোক্ষ আক্রমণ হিসেবে দেখেন। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তিনি নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হন।

এদিকে আলোচনাবিরোধী একটি অংশ আলোচক দলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নমনীয়তার অভিযোগ তুলেছে। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা আলোচক দলের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন এবং রাজনৈতিক বিভাজন এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ঐক্যের আহ্বান

যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা ইরানে রাজনৈতিক ঐক্য এখন বড় একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ নেতা সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া সাম্প্রতিক বার্তায় অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিভাজন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি দেশের প্রতিপক্ষদের কৌশলকে শক্তিশালী করতে পারে।

সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি তেহরানকে নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধও সামাল দিতে হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ঘিরে কট্টরপন্থীদের বিরোধিতা নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা ঘিরে তেহরানে রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কেন বিরোধিতা করছে কট্টরপন্থীরা, পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদনে।

#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #তেহরান #খামেনি #পারমাণবিকআলোচনা #মধ্যপ্রাচ্য #কূটনীতি #আন্তর্জাতিকরাজনীতি #বিশ্বরাজনীতি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট