চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম মরুভূমিতে দ্রুত গড়ে উঠছে একটি বিশাল সামরিক অবকাঠামো, যা দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো ঘিরে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে অসংখ্য উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, বাঙ্কার, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং প্রতিরক্ষা স্থাপনা।
৮০টির বেশি উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম
চীনের হামি অঞ্চলের পারমাণবিক সাইলো ক্ষেত্রের আশপাশে ৮০টিরও বেশি নতুন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনা মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। পাশাপাশি এখানে উন্নত যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থা স্থাপনেরও ইঙ্গিত মিলেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করা, যাতে কোনো শত্রুপক্ষের প্রথম আঘাতের পরও চীন পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখতে পারে।
অষ্টভুজাকৃতির রহস্যময় স্থাপনা
এই নতুন অবকাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনা। গত ছয় বছরে নির্মিত এসব স্থাপনার চারপাশে রয়েছে সুরক্ষিত বাঙ্কার, অস্ত্র সংরক্ষণ এলাকা, বিমানঘাঁটি এবং রেল সংযোগ।
স্যাটেলাইট চিত্রে সামরিক যানবাহনের চলাচল, অস্থায়ী তাঁবু এবং ছদ্মবেশী অবস্থানও দেখা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকাটি শুধু সংরক্ষণ কেন্দ্র নয়, সক্রিয় সামরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
পারমাণবিক সক্ষমতা আরও জোরদার
চীনের পারমাণবিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার’ অবস্থান। তবে একই সঙ্গে দেশটি এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে চায় যাতে কোনো হামলার পরও কার্যকর পাল্টা আঘাত হানতে পারে।

বর্তমানে চীনের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শহরে পৌঁছাতে সক্ষম। নতুন অবকাঠামো সেই সক্ষমতাকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা
তাইওয়ান ইস্যু এবং বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের এই সামরিক সম্প্রসারণকে অনেক পর্যবেক্ষক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার নতুন ধাপ হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন মূল্যায়ন অনুযায়ী, চীন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তার পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে দেশটি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কও শক্তিশালী করছে।

নজর কেড়েছে বিশাল প্রকল্প
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিসরে মরুভূমিজুড়ে প্রতিরক্ষামূলক ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ বিশ্বের অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী। এর ব্যাপ্তি এবং জটিলতা অনেক অভিজ্ঞ বিশ্লেষককেও বিস্মিত করেছে।
তাদের মতে, এটি শুধু একটি সামরিক প্রকল্প নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে চীনের কৌশলগত নিরাপত্তা ও পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা।
চীনের মরুভূমিতে ৮০টির বেশি নতুন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















