০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
৩৫ বছর পর প্রথম নিজস্ব চিপ বানাল আর্ম, এআই ডেটা সেন্টারের জন্য মেটা-ওপেনএআই প্রথম গ্রাহক মেক্সিকোয় মোনার্ক প্রজাপতির সংখ্যা ৬৪ শতাংশ বেড়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদি হুমকি কাটেনি আইওএস ২৭-এ প্রতিযোগী এআই সেবা যুক্ত করবে সিরি, নেটফ্লিক্সের সাবস্ক্রিপশন মূল্য বাড়ল আজ নেটফ্লিক্সে বিটিএসের ডকুমেন্টারি মুক্তি, কোরিয়ান গোয়েন্দা চলচ্চিত্র ‘হিউমিন্ট’ আসছে ৩১ মার্চ ইরান যুদ্ধের মোড়ে ট্রাম্প: এগোবেন না কি পিছু হটবেন—চাপে আমেরিকা, দোলাচলে বিশ্ব ট্রাম্পের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ইরান যুদ্ধ: বিভ্রান্ত বার্তা, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ইরান যুদ্ধের পরও মধ্যপ্রাচ্যে বদল আসবে না, সতর্ক বিশ্লেষণ মন্দা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব শিল্পবাজার, নিউইয়র্কের নিলামেই জোয়ার পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটেই মহাকাশ দৌড়ে বিপ্লব, খরচ কমিয়ে নতুন যুগের সূচনা ইরান সংকটে ট্রাম্পের অপ্রথাগত কূটনীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

শীতের আকাশে তারা কেন বেশি উজ্জ্বল দেখায়, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা

শীত এলেই রাতের আকাশ যেন আরও গভীর, আরও স্বচ্ছ। ডিসেম্বর, জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিতে খালি চোখেই বোঝা যায়, তারা গুলো অন্য সময়ের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল ও স্পষ্ট। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে রয়েছে পৃথিবীর অবস্থান আর আমাদের ছায়াপথের গঠনগত এক বিশেষ কারণ।

পৃথিবীর অবস্থান আর ছায়াপথের দিক
জেদ্দা জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শীতের রাতে পৃথিবীর অন্ধকার দিকটি ছায়াপথের সেই অংশের দিকে মুখ করে থাকে, যেখানে সূর্য অবস্থান করছে। এই অংশটি ছায়াপথের বাইরের প্রান্তের দিকে হওয়ায় সেখানে তারার সংখ্যা তুলনামূলক কম। ফলে পটভূমির আলো কম থাকে, আকাশ হয় আরও গাঢ় ও পরিষ্কার। এই অন্ধকার পটভূমিতে একেকটি তারা আলাদা করে উজ্জ্বল ভাবে চোখে পড়ে।

গ্রীষ্মের আকাশ কেন ঝাপসা লাগে
এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায় গ্রীষ্মকালে। জুন, জুলাই আর আগস্টে রাতের আকাশ মুখ করে থাকে ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের দিকে। এই অংশে রয়েছে অসংখ্য তারা, যাদের সম্মিলিত আলো আকাশকে বেশি উজ্জ্বল করে তোলে। অতিরিক্ত আলো ছড়িয়ে পড়ায় আকাশে এক ধরনের ঝাপসা ভাব তৈরি হয়, ফলে আলাদা করে কোনো তারা ততটা স্পষ্ট লাগে না।

ছায়াপথের বিস্তৃতি ও সূর্যের অবস্থান
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের ছায়াপথের ব্যাস প্রায় এক লাখ আলোকবর্ষ। এর কেন্দ্র পৃথিবী থেকে প্রায় পঁচিশ হাজার থেকে আটাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। তবে ঘন ধূলিকণার কারণে এই কেন্দ্রটি দৃশ্যমান আলোয় সরাসরি দেখা যায় না। সূর্য ও আমাদের সৌরজগৎ রয়েছে ছায়াপথের একটি ছোট বাহুতে, যাকে বলা হয় ওরিয়ন বাহু। এই বাহুর প্রস্থ প্রায় সাড়ে তিন হাজার আলোকবর্ষ এবং দৈর্ঘ্য প্রায় দশ হাজার আলোকবর্ষ।

শীতের আকাশে মিথুন রাশির আধিপত্য
শীতকালের আকাশে মিথুন রাশি বিশেষভাবে চোখে পড়ে। এই রাশির উজ্জ্বল তারাগুলোও সৌরজগতের মতো একই বাহুর অংশ। ফলে শীতের রাতের আকাশে তারাদের ঝলমলে উপস্থিতি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৫ বছর পর প্রথম নিজস্ব চিপ বানাল আর্ম, এআই ডেটা সেন্টারের জন্য মেটা-ওপেনএআই প্রথম গ্রাহক

শীতের আকাশে তারা কেন বেশি উজ্জ্বল দেখায়, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা

০১:১৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

শীত এলেই রাতের আকাশ যেন আরও গভীর, আরও স্বচ্ছ। ডিসেম্বর, জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিতে খালি চোখেই বোঝা যায়, তারা গুলো অন্য সময়ের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল ও স্পষ্ট। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে রয়েছে পৃথিবীর অবস্থান আর আমাদের ছায়াপথের গঠনগত এক বিশেষ কারণ।

পৃথিবীর অবস্থান আর ছায়াপথের দিক
জেদ্দা জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শীতের রাতে পৃথিবীর অন্ধকার দিকটি ছায়াপথের সেই অংশের দিকে মুখ করে থাকে, যেখানে সূর্য অবস্থান করছে। এই অংশটি ছায়াপথের বাইরের প্রান্তের দিকে হওয়ায় সেখানে তারার সংখ্যা তুলনামূলক কম। ফলে পটভূমির আলো কম থাকে, আকাশ হয় আরও গাঢ় ও পরিষ্কার। এই অন্ধকার পটভূমিতে একেকটি তারা আলাদা করে উজ্জ্বল ভাবে চোখে পড়ে।

গ্রীষ্মের আকাশ কেন ঝাপসা লাগে
এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায় গ্রীষ্মকালে। জুন, জুলাই আর আগস্টে রাতের আকাশ মুখ করে থাকে ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের দিকে। এই অংশে রয়েছে অসংখ্য তারা, যাদের সম্মিলিত আলো আকাশকে বেশি উজ্জ্বল করে তোলে। অতিরিক্ত আলো ছড়িয়ে পড়ায় আকাশে এক ধরনের ঝাপসা ভাব তৈরি হয়, ফলে আলাদা করে কোনো তারা ততটা স্পষ্ট লাগে না।

ছায়াপথের বিস্তৃতি ও সূর্যের অবস্থান
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের ছায়াপথের ব্যাস প্রায় এক লাখ আলোকবর্ষ। এর কেন্দ্র পৃথিবী থেকে প্রায় পঁচিশ হাজার থেকে আটাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। তবে ঘন ধূলিকণার কারণে এই কেন্দ্রটি দৃশ্যমান আলোয় সরাসরি দেখা যায় না। সূর্য ও আমাদের সৌরজগৎ রয়েছে ছায়াপথের একটি ছোট বাহুতে, যাকে বলা হয় ওরিয়ন বাহু। এই বাহুর প্রস্থ প্রায় সাড়ে তিন হাজার আলোকবর্ষ এবং দৈর্ঘ্য প্রায় দশ হাজার আলোকবর্ষ।

শীতের আকাশে মিথুন রাশির আধিপত্য
শীতকালের আকাশে মিথুন রাশি বিশেষভাবে চোখে পড়ে। এই রাশির উজ্জ্বল তারাগুলোও সৌরজগতের মতো একই বাহুর অংশ। ফলে শীতের রাতের আকাশে তারাদের ঝলমলে উপস্থিতি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।