০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইন শিক্ষায় বাবা-মায়ের নতুন কৌশল: বাড়িতে ইউনিফর্ম, ব্যায়াম ও ফলের খোঁজ চাঁদে ফেরার নতুন ইতিহাস: অর্ধশতাব্দী পর মানুষের মহাকাশযাত্রায় বড় পদক্ষেপ চীনের চিপ শিল্পে নতুন মার্কিন চাপ ইউএই-তে পরিবারকেন্দ্রিক ইস্টার উদযাপন: ডিনার থেকে ডিম খোঁজা, সবকিছুই মিলেমিশে উৎসবের আনন্দ বাড়াচ্ছে দামার হ্যামলিনের জীবন বদলে দেওয়া হৃদরোগ সচেতনতার সংগ্রাম: বাঁচার লড়াই থেকে অন্যদের জীবন বাঁচানো পর্যন্ত আত্মার বন্ধুত্বের রহস্যে হারানো: ইমপারফেক্ট উইমেন-এর শোবিশ্লেষণ চাকরি ও শ্রমিকের সমন্বয়, তবে সন্তুষ্টি নেই কম্বোডিয়ার সাইবার অপরাধ দমন আইন প্যাম বন্ডি চেয়ার করেছিলেন মার্জিত বিদায়, কিন্তু ট্রাম্প চাইলেন তাকে বিদায় দিতে কিউবায় দুই হাজারের বেশি বন্দি মুক্তি

কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে রেললাইনের পাশে আগুনে চার পরিবার নিঃস্ব

কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার রেললাইনের পাশে বসবাসরত চারটি দরিদ্র পরিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে আগুনে টিনশেডের চারটি ঘর পুড়ে যায়। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও জীবিকার সব উপকরণ ছাই হয়ে গেছে।

বয়স্ক নারীর কান্না আর অসহায়ত্ব
শনিবার দুপুরে চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না জাহুরা খাতুন। তিনি বলেন, দুই ছেলের মৃত্যুর পর মানুষ যে কাপড়চোপড়, কম্বল, শাড়ি আর একটি খাট দিয়েছিল, সবই পুড়ে গেছে। এখন কিছুই নেই। কয়েকটি টিনের চাদর জোগাড় করতে পারলে নাতিকে নিয়ে কোথাও মাথা গুঁজে থাকতে পারতেন বলে জানান তিনি।

জাহুরা খাতুন ছিলেন প্রয়াত কিয়ামুদ্দিন শেখের স্ত্রী। তিনি কুমারখালি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকান্দি এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী রেললাইনের পাশে টিনশেড ঘরে নাতি আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে থাকতেন। শুক্রবার গভীর রাতে সেই ঘরেই আগুন লাগে। তাঁর বড় ছেলে মারা যান প্রায় ২০ বছর আগে, ছোট ছেলে তিন বছর আগে।

ক্ষতিগ্রস্ত আরও তিন পরিবার
জাহুরা খাতুনের পাশাপাশি আগুনে পুড়ে যায় তাঁর ভ্যানচালক ভাতিজা কামাল হোসেন, তাঁর ছেলে হৃদয় হোসেন এবং প্রতিবেশী নজিম উদ্দিনের টিনশেড ঘর। এই চার পরিবারের চারটি ঘর, দুটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান, চারটি ছাগল, নয়টি হাঁস, ৩৫টি মুরগি এবং ঘরের সব আসবাব ও মালামাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

আগুনে নিঃস্ব রেললাইনের ধারে বসবাসকারী অসহায় ৪ পরিবার

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে চার পরিবারের মোট ক্ষতির পরিমাণ অন্তত আট লাখ টাকা।

ঘটনাস্থলের ভয়াবহ দৃশ্য
শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে ঘনবসতিপূর্ণ কয়েকটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত। পুড়ে যাওয়া ভ্যানের অংশবিশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। শুধু ইট-সিমেন্টের স্তম্ভগুলো দাঁড়িয়ে আছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাতাসে পোড়া গন্ধ আর ধোঁয়ার রেশ ছিল। কৌতূহলী স্থানীয় মানুষ ও স্বজনেরা ভিড় করেছিলেন ঘটনাস্থলে।

রাতের সেই মুহূর্তের বর্ণনা
নজিম উদ্দিন জানান, রাত আড়াইটার দিকে ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে তাঁর ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই আগুন ঢুকে পড়ে। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেওয়ার সুযোগ পাননি। ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি নিয়ে তিনি বাইরে বের হন। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘর আগুনে ঢেকে যায়। তাঁর ধারণা, হৃদয়ের ভ্যান চার্জ দেওয়ার ঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

হৃদয় হোসেন বলেন, রাত একটার দিকে ভ্যান ও ছাগল দেখে ঘুমাতে যান। এক ঘণ্টা পর আগুন আগুন চিৎকারে ঘুম ভাঙে। বের হয়ে দেখেন চারদিকে আগুন।

স্থানীয়দের চেষ্টা ও ফায়ার সার্ভিস
হৃদয় জানান, স্থানীয়রা পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে দুটি ভ্যান, চারটি ছাগল, নয়টি হাঁস, ৩৫টি মুরগি, দুটি ঘরসহ সব মালামাল পুড়ে যায়।

প্রতিবেশী সাজু শেখের অভিযোগ, ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ চেষ্টা করেও ফায়ার সার্ভিস আসার আগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। তাঁর দাবি, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাত্র দুই-তিন মিনিটের দূরত্বে হলেও পৌঁছাতে অন্তত ৪৫ মিনিট লেগেছে। তাই সবকিছু পুড়ে গেছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া পরিবারগুলোর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে কুমারখালি ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা আলী হোসেন দেরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রাত তিনটার দিকে ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে খবর পান এবং তিনটা তিন মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তদন্ত শেষে আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

প্রশাসনের তাৎক্ষণিক সহায়তা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শীতবস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। লিখিত আবেদন ও বরাদ্দ অনুমোদনের সাপেক্ষে আরও সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

অনলাইন শিক্ষায় বাবা-মায়ের নতুন কৌশল: বাড়িতে ইউনিফর্ম, ব্যায়াম ও ফলের খোঁজ

কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে রেললাইনের পাশে আগুনে চার পরিবার নিঃস্ব

১২:৪৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার রেললাইনের পাশে বসবাসরত চারটি দরিদ্র পরিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে আগুনে টিনশেডের চারটি ঘর পুড়ে যায়। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও জীবিকার সব উপকরণ ছাই হয়ে গেছে।

বয়স্ক নারীর কান্না আর অসহায়ত্ব
শনিবার দুপুরে চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না জাহুরা খাতুন। তিনি বলেন, দুই ছেলের মৃত্যুর পর মানুষ যে কাপড়চোপড়, কম্বল, শাড়ি আর একটি খাট দিয়েছিল, সবই পুড়ে গেছে। এখন কিছুই নেই। কয়েকটি টিনের চাদর জোগাড় করতে পারলে নাতিকে নিয়ে কোথাও মাথা গুঁজে থাকতে পারতেন বলে জানান তিনি।

জাহুরা খাতুন ছিলেন প্রয়াত কিয়ামুদ্দিন শেখের স্ত্রী। তিনি কুমারখালি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকান্দি এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী রেললাইনের পাশে টিনশেড ঘরে নাতি আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে থাকতেন। শুক্রবার গভীর রাতে সেই ঘরেই আগুন লাগে। তাঁর বড় ছেলে মারা যান প্রায় ২০ বছর আগে, ছোট ছেলে তিন বছর আগে।

ক্ষতিগ্রস্ত আরও তিন পরিবার
জাহুরা খাতুনের পাশাপাশি আগুনে পুড়ে যায় তাঁর ভ্যানচালক ভাতিজা কামাল হোসেন, তাঁর ছেলে হৃদয় হোসেন এবং প্রতিবেশী নজিম উদ্দিনের টিনশেড ঘর। এই চার পরিবারের চারটি ঘর, দুটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান, চারটি ছাগল, নয়টি হাঁস, ৩৫টি মুরগি এবং ঘরের সব আসবাব ও মালামাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

আগুনে নিঃস্ব রেললাইনের ধারে বসবাসকারী অসহায় ৪ পরিবার

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে চার পরিবারের মোট ক্ষতির পরিমাণ অন্তত আট লাখ টাকা।

ঘটনাস্থলের ভয়াবহ দৃশ্য
শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে ঘনবসতিপূর্ণ কয়েকটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত। পুড়ে যাওয়া ভ্যানের অংশবিশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। শুধু ইট-সিমেন্টের স্তম্ভগুলো দাঁড়িয়ে আছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাতাসে পোড়া গন্ধ আর ধোঁয়ার রেশ ছিল। কৌতূহলী স্থানীয় মানুষ ও স্বজনেরা ভিড় করেছিলেন ঘটনাস্থলে।

রাতের সেই মুহূর্তের বর্ণনা
নজিম উদ্দিন জানান, রাত আড়াইটার দিকে ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে তাঁর ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই আগুন ঢুকে পড়ে। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেওয়ার সুযোগ পাননি। ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি নিয়ে তিনি বাইরে বের হন। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘর আগুনে ঢেকে যায়। তাঁর ধারণা, হৃদয়ের ভ্যান চার্জ দেওয়ার ঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

হৃদয় হোসেন বলেন, রাত একটার দিকে ভ্যান ও ছাগল দেখে ঘুমাতে যান। এক ঘণ্টা পর আগুন আগুন চিৎকারে ঘুম ভাঙে। বের হয়ে দেখেন চারদিকে আগুন।

স্থানীয়দের চেষ্টা ও ফায়ার সার্ভিস
হৃদয় জানান, স্থানীয়রা পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যে দুটি ভ্যান, চারটি ছাগল, নয়টি হাঁস, ৩৫টি মুরগি, দুটি ঘরসহ সব মালামাল পুড়ে যায়।

প্রতিবেশী সাজু শেখের অভিযোগ, ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ চেষ্টা করেও ফায়ার সার্ভিস আসার আগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। তাঁর দাবি, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাত্র দুই-তিন মিনিটের দূরত্বে হলেও পৌঁছাতে অন্তত ৪৫ মিনিট লেগেছে। তাই সবকিছু পুড়ে গেছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া পরিবারগুলোর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে কুমারখালি ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা আলী হোসেন দেরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রাত তিনটার দিকে ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে খবর পান এবং তিনটা তিন মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তদন্ত শেষে আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

প্রশাসনের তাৎক্ষণিক সহায়তা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শীতবস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। লিখিত আবেদন ও বরাদ্দ অনুমোদনের সাপেক্ষে আরও সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।