ভারতে অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে হাতিদের চলাচলের পথ। রেললাইন ও সড়ক ঢুকে পড়ছে বনভূমি আর প্রাচীন হাতি করিডরের ভেতর। এর ফল হিসেবে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় মারা পড়ছে বন্য হাতি, বাড়ছে মানুষ ও হাতির সংঘাত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এই সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে
আসামে ট্রেন দুর্ঘটনায় নতুন সতর্কতা
গত ডিসেম্বর মাসে উত্তর–পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেন একটি হাতির পালের ওপর উঠে গেলে সাতটি হাতির মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছিল চারটি শাবক ও একটি গর্ভবতী হাতি। একদিনে এত বড় ক্ষতি দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি ছিল চলতি বছরে হাতির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে চতুর্থ বড় দুর্ঘটনা।

সংখ্যায় বাড়ছে মৃত্যু, কমছে নিরাপত্তা
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দুই হাজার উনিশ সাল থেকে এ পর্যন্ত রেল ও যানবাহনের ধাক্কায় অন্তত চুরানব্বইটি হাতি মারা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচিত করিডরগুলোকে যথাযথভাবে সুরক্ষা না দিলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। অনেক ক্ষেত্রেই করিডর ঘোষণার পরেও সেখানে নির্মাণকাজ থামে না, কেবল সতর্কতা জারি থাকে।
করিডরের হিসাব ও বাস্তবতা
সরকারি হিসাবে দেশে দেড় শতাধিক হাতি করিডর চিহ্নিত রয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণকর্মীদের মতে, প্রকৃত চলাচলের পথ এর চেয়ে বেশি। নতুন নতুন রুট তৈরি হচ্ছে খাদ্য ও পানির সন্ধানে। এই পথগুলো অনেক সময় কৃষিজমি ও গ্রামাঞ্চলের ভেতর দিয়ে যায়, যেখানে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে।

বনভূমি খণ্ডিত হওয়ার প্রভাব
বনভূমি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বড় বড় হাতির পাল ভেঙে ছোট দলে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। কোথাও সড়ক, কোথাও খাল কিংবা খনির কারণে ঐতিহ্যবাহী পথ বন্ধ হয়ে নতুন এলাকায় ঢুকে পড়ছে তারা। এর ফলে এমন সব রাজ্যেও হাতির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে আগে কখনো হাতি ছিল না।
সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান
বন্যপ্রাণী গবেষকরা বলছেন, পুরোনো ও নতুন সব করিডর দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। বন বিভাগ ও রেল কর্তৃপক্ষের সমন্বয় জোরদার করা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা এবং সংবেদনশীল এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা জরুরি। নইলে উন্নয়নের চাপেই হারিয়ে যাবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় বন্য হাতির জনগোষ্ঠী।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















