০৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
ইনকুইজিশনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো: ডোনা গ্রাসিয়ার সাহসী লড়াই হাজারীবাগে যুবককে কুপিয়ে হত্যা রাজশাহীর পুঠিয়ায় বালুবাহী ট্রাক উল্টে চারজন নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হোস্টেল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার ২০২৬ সালের শুরুতে জ্বালানির দাম লিটারে দুই টাকা কমাল বাংলাদেশ পানামা খালের ছায়ায় ভূরাজনীতি: চীনা স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙা নিয়ে নতুন বিতর্ক চিপ শিল্পে দেশীয়তার কঠোর শর্ত চীনের, নতুন সক্ষমতায় অর্ধেক যন্ত্র হতেই হবে ঘরোয়া শিশুকালে অতিরিক্ত পর্দা, কৈশোরে উদ্বেগের ঝুঁকি রেলপথে হাতির মৃত্যু বাড়াচ্ছে উন্নয়ন চাপ, সংকটে ভারতের হাতি করিডর সংস্কৃতির মিলনেই সিঙ্গাপুরের শক্তি, যৌথ পরিচয় আরও দৃঢ় হবে

শিশুকালে অতিরিক্ত পর্দা, কৈশোরে উদ্বেগের ঝুঁকি

শিশুকে শান্ত রাখতে বা ব্যস্ত রাখার সহজ উপায় হিসেবে পর্দার ব্যবহার বহু পরিবারে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা জানাচ্ছে, দুই বছরের আগেই অতিরিক্ত পর্দার সংস্পর্শে এলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে এমন পরিবর্তন হতে পারে, যার প্রভাব পড়ে কিশোর বয়সে মানসিক উদ্বেগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপর। সিঙ্গাপুরে পরিচালিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, শিশুকালের পর্দা-নির্ভরতা ভবিষ্যতে উদ্বিগ্ন কিশোর হয়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষণায় কী দেখা গেছে

গবেষকেরা এক দশকের বেশি সময় ধরে জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা শিশুদের অনুসরণ করেছেন। শিশুকালে যাদের পর্দার সামনে কাটানো সময় বেশি ছিল, তাদের মস্তিষ্কের কিছু নেটওয়ার্ক স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত পরিণত হতে দেখা যায়। বাইরে থেকে দ্রুত বিকাশ ইতিবাচক মনে হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ত্বরান্বিত পরিবর্তন আসলে ক্ষতিকর। এতে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ কমে যায় এবং মস্তিষ্কের অন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

কৈশোরে প্রভাব কেন বুঝতে হবে

শৈশবের প্রথম দিকটাই মস্তিষ্ক গঠনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে অতিরিক্ত দৃশ্য নির্ভর উদ্দীপনা পেলে শিশুর মস্তিষ্ক বাস্তব পরিবেশের স্পর্শ, মুখের অভিব্যক্তি আর কথোপকথনের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন শিশুরা পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেশি সময় নেয় এবং কিশোর বয়সে তাদের মধ্যে উদ্বেগের উপসর্গ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

আশার কথা কোথায়

গবেষণাটি শুধু সতর্কবার্তাই দেয়নি, পথও দেখিয়েছে। যেসব শিশুর বাবা-মা তিন বছর বয়স থেকে নিয়মিত একসঙ্গে বই পড়েছেন বা সময় কাটিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে পর্দার নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বিষয়টি শুধু বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাবা-মা ও শিশুর মধ্যে সক্রিয়, আনন্দময় যোগাযোগই আসল চাবিকাঠি। একসঙ্গে খেলা, হাঁটা, সাঁতার বা পছন্দের কোনো কাজ করাও শিশুর মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিভাবকদের জন্য বার্তা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্দাকে পুরোপুরি শত্রু ভাবার দরকার নেই। তবে শিশুকে একা বসিয়ে পর্দার সামনে রেখে দেওয়া নয়, বরং পর্দা ব্যবহারের সময় অভিভাবকের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। কী দেখছে, কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে কথা বলা শিশুর শেখার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে। একই সঙ্গে ছোট বয়সে পর্দার সময় সীমিত রাখা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা বাড়ানোই ভবিষ্যতের মানসিক সুস্থতার ভিত্তি গড়ে দেয়।

 

ইনকুইজিশনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো: ডোনা গ্রাসিয়ার সাহসী লড়াই

শিশুকালে অতিরিক্ত পর্দা, কৈশোরে উদ্বেগের ঝুঁকি

০২:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

শিশুকে শান্ত রাখতে বা ব্যস্ত রাখার সহজ উপায় হিসেবে পর্দার ব্যবহার বহু পরিবারে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা জানাচ্ছে, দুই বছরের আগেই অতিরিক্ত পর্দার সংস্পর্শে এলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে এমন পরিবর্তন হতে পারে, যার প্রভাব পড়ে কিশোর বয়সে মানসিক উদ্বেগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপর। সিঙ্গাপুরে পরিচালিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, শিশুকালের পর্দা-নির্ভরতা ভবিষ্যতে উদ্বিগ্ন কিশোর হয়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষণায় কী দেখা গেছে

গবেষকেরা এক দশকের বেশি সময় ধরে জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা শিশুদের অনুসরণ করেছেন। শিশুকালে যাদের পর্দার সামনে কাটানো সময় বেশি ছিল, তাদের মস্তিষ্কের কিছু নেটওয়ার্ক স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত পরিণত হতে দেখা যায়। বাইরে থেকে দ্রুত বিকাশ ইতিবাচক মনে হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ত্বরান্বিত পরিবর্তন আসলে ক্ষতিকর। এতে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ কমে যায় এবং মস্তিষ্কের অন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

কৈশোরে প্রভাব কেন বুঝতে হবে

শৈশবের প্রথম দিকটাই মস্তিষ্ক গঠনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে অতিরিক্ত দৃশ্য নির্ভর উদ্দীপনা পেলে শিশুর মস্তিষ্ক বাস্তব পরিবেশের স্পর্শ, মুখের অভিব্যক্তি আর কথোপকথনের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন শিশুরা পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেশি সময় নেয় এবং কিশোর বয়সে তাদের মধ্যে উদ্বেগের উপসর্গ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

আশার কথা কোথায়

গবেষণাটি শুধু সতর্কবার্তাই দেয়নি, পথও দেখিয়েছে। যেসব শিশুর বাবা-মা তিন বছর বয়স থেকে নিয়মিত একসঙ্গে বই পড়েছেন বা সময় কাটিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে পর্দার নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বিষয়টি শুধু বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাবা-মা ও শিশুর মধ্যে সক্রিয়, আনন্দময় যোগাযোগই আসল চাবিকাঠি। একসঙ্গে খেলা, হাঁটা, সাঁতার বা পছন্দের কোনো কাজ করাও শিশুর মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিভাবকদের জন্য বার্তা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্দাকে পুরোপুরি শত্রু ভাবার দরকার নেই। তবে শিশুকে একা বসিয়ে পর্দার সামনে রেখে দেওয়া নয়, বরং পর্দা ব্যবহারের সময় অভিভাবকের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। কী দেখছে, কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে কথা বলা শিশুর শেখার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে। একই সঙ্গে ছোট বয়সে পর্দার সময় সীমিত রাখা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা বাড়ানোই ভবিষ্যতের মানসিক সুস্থতার ভিত্তি গড়ে দেয়।