নববর্ষের বার্তায় সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারত্নম বলেছেন, একে অপরের সংস্কৃতি আপন করে নেওয়াই সিঙ্গাপুর বাসীর যৌথ পরিচয়কে আরও আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী করে তুলবে। খাবার থেকে শিল্পকলা পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই সমাজের স্বাভাবিক শক্তি, আর সেটিকে আরও যত্ন নিয়ে লালন করলেই বহুসাংস্কৃতিক ভিত্তি গভীর হবে বলে তিনি মনে করেন।
খাবারের স্বাদে সংস্কৃতির মিলন
গত একত্রিশ ডিসেম্বর প্রকাশিত তাঁর নববর্ষের ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট থারমান সিঙ্গাপুরের জনপ্রিয় খাবারের উদাহরণ টেনে বলেন, এখানে নানা সংস্কৃতির প্রভাব খুব স্বাভাবিকভাবেই একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে। লাকসার মতো খাবারে পেরানাকান, মালয়, চীনা ও ভারতীয় ঐতিহ্যের স্বাদ একসঙ্গে ধরা পড়ে। নোন্যা লাকসা, আসাম লাকসা, সিগলাপ লাকসা কিংবা ঝিনুক দেওয়া কারি লাকসার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে, এই বৈচিত্র্য সিঙ্গাপুরবাসী কতটা উপভোগ করে।

শিল্পচর্চায় অন্য সংস্কৃতির টান
খাবারের বাইরে শিল্পচর্চার ক্ষেত্রেও অনেক তরুণ অন্য সংস্কৃতিকে আপন করে নিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি উদাহরণ দেন গায়িকা ও নৃত্যশিল্পী ওয়ং ইয়ং এন-এর। পাশ্চাত্য ধ্রুপদি সংগীতে প্রশিক্ষিত হলেও তিনি ভারতের ওড়িশা রাজ্যের প্রাচীন নৃত্যধারা ওডিশিতে নিজেকে গড়ে তুলছেন। ছন্দময় পায়ের কাজ আর সূক্ষ্ম ভঙ্গিমার সৌন্দর্য তাঁকে আকৃষ্ট করেছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট থারমান।
ঐতিহ্যবাহী সংগীতের প্রতি নতুন প্রজন্মের আকর্ষণ
আরেক উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন নাদিয়া লিম নামের এক তরুণী কণ্ঠশিল্পীর কথা। দক্ষিণ চীনের ঐতিহ্যবাহী নানইন সংগীতের সঙ্গে হঠাৎ পরিচয়ের পরই তিনি এর শান্ত, সংযত সুরে মুগ্ধ হন এবং সিয়ং লেং মিউজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে নিয়মিত চর্চা শুরু করেন। প্রেসিডেন্টের মতে, এমন আগ্রহই সংস্কৃতির সেতুবন্ধনকে টেকসই করে।

কেবোন দাপোরে সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সংযোগ
এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে পুংগোল ইস্টের কেবোন দাপোর নামের এক গ্রামীণ ভাবনায় গড়া খাদ্যবাগানে। স্থপতি শিক্ষক রাজা মোহাম্মদ ফায়রুজ এই বাগান গড়ে তুলেছেন ঐতিহ্যবাহী মালয় রান্নায় ব্যবহৃত ভেষজ চাষ এবং সেই সংস্কৃতি মানুষকে শেখানোর উদ্দেশ্যে। প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ধীরে ধীরে সিঙ্গাপুরের বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে আরও স্বাভাবিক ও গভীর করে তুলছে।
যৌথ পরিচয়ের পথে আত্মবিশ্বাস
প্রেসিডেন্ট থারমানের কথায়, যখন আরও বেশি সিঙ্গাপুরবাসী একে অপরের সংস্কৃতি জানার চেষ্টা করবেন, এমনকি তা আয়ত্ত করার সাহস দেখাবেন, তখনই গড়ে উঠবে এক আত্মবিশ্বাসী যৌথ পরিচয়। তাঁর আশাবাদী কণ্ঠে বার্তা ছিল স্পষ্ট, এই পথেই এগোতে পারলে সিঙ্গাপুর আরও শক্ত হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















