ইরানের অর্থনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার সহিংস রূপ নিল। মুদ্রার ভয়াবহ দরপতন ও লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে একাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বিভিন্ন প্রদেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুদ্রা সংকট থেকে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ
রোববার থেকে দোকানদারদের আন্দোলন দিয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদ দ্রুত সাধারণ মানুষের ক্ষোভে রূপ নেয়। রাজধানী তেহরানসহ বড় শহরগুলোর বাজারে দোকানপাট বন্ধ থাকে। দ্রুত বাড়তে থাকা নিত্যপণ্যের দাম ও মুদ্রার মূল্যহ্রাস মানুষের জীবনে চরম চাপ তৈরি করেছে বলে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ তুলেছেন।

সংঘর্ষে প্রাণহানি ও আহত
পশ্চিমাঞ্চলের লোরেস্তান প্রদেশে একটি পুলিশ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে চারমাহাল ও বখতিয়ারি, কুহদাশত এবং ইসফাহান প্রদেশ থেকেও মৃত্যুর খবর আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, কিছু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীরা নিহত হয়েছেন। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট।
বিভিন্ন শহরে সহিংসতার বিস্তার
লোরদেগান শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আরও প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। দক্ষিণের ফারস প্রদেশের মারভদাস্তসহ পশ্চিমের কেরমানশাহ, খুজেস্তান ও হামেদান প্রদেশে বিক্ষোভ ও গ্রেপ্তারের খবর মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু এলাকায় কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।

শাসকগোষ্ঠীর জন্য কঠিন সময়
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, চল্লিশ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় ইরানের অর্থনীতি চাপে রয়েছে। সরকারি হিসাবে গত বছরে রিয়ালের বড় দরপতন সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও আয়ের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। এমন বাস্তবতায় বিক্ষোভ দমাতে সরকার একদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের আশ্বাস দিচ্ছে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া ও অচলাবস্থা
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হবে। তবে বিস্তারিত সময়সূচি বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এর মধ্যেই ঠান্ডা আবহাওয়ার অজুহাতে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কার্যত দেশের বড় অংশে অচলাবস্থা তৈরি করা হয়।

দীর্ঘ সংকটের ছায়া
উচ্চ মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে আগেও বারবার বিক্ষোভ দমন করেছে কর্তৃপক্ষ। চলমান অস্থিরতা দেখাচ্ছে, অর্থনৈতিক চাপের ভারে মানুষের ধৈর্য ভেঙে পড়ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল দিকে এগোচ্ছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















