ডকুমেন্টারির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কী দেখবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ। এই ভিড়ের মধ্যেই সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকার মতো তিনটি ডকুমেন্টারি আলাদা করে নজর কেড়েছে। শিল্প, কৌতুক আর সৃজনশীল উন্মাদনার তিন ভিন্ন জগতকে একসূত্রে বেঁধেছে এই ছবিগুলো।
সারাক্ষণ ডেস্ক
স্থাপত্যের ভেতরের মানুষ ফ্র্যাঙ্ক গেহরি
স্থাপত্য মানেই শুধু কংক্রিট আর নকশা নয়, এই ডকুমেন্টারিতে ধরা পড়ে একজন স্রষ্টার মানসিক দ্বন্দ্ব ও সৃজনশীল সংগ্রাম। ঢেউখেলানো ভবনের নেপথ্যে থাকা মানুষকে দেখা যায় নিজের কাজ নিয়েই প্রশ্ন তুলতে। শিল্প আর প্রকৌশলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কীভাবে ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হয়, তা উঠে আসে বন্ধুর সঙ্গে খোলামেলা আলাপে। বিশেষ করে জীবনের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে নিজের সৃষ্টি ভবনগুলোকে বিদায় জানানোর মুহূর্তগুলো গভীর আবেগ ছড়ায়।

কৌতুকের আড়ালে ব্যক্তিগত স্মৃতি
এই ছবির কেন্দ্রে বন্ধুত্ব। বহু দশকের পরিচয়ে গড়ে ওঠা দুই বন্ধুর কথোপকথনে উঠে আসে হাসির পাশাপাশি অস্বস্তিকর সত্য। পারিবারিক ট্র্যাজেডি, ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন আর নিজেকে নিয়ে নির্দয় রসিকতা সব মিলিয়ে এটি শুধু একজন কৌতুক অভিনেতার গল্প নয়, বরং আমেরিকান বিনোদনের একটি যুগের ব্যক্তিগত দলিল। দর্শককে হাসাতে হাসাতেই ছবিটি পৌঁছে যায় আবেগের গভীরে।
সৃজনশীল উন্মাদনার নেপথ্য দৃশ্য
এক মহাকাঙ্ক্ষী চলচ্চিত্র নির্মাণের ভেতরের গল্প দেখায় এই ডকুমেন্টারি। শুটিং সেটে অনিশ্চয়তা, মতবিরোধ আর সৃজনশীল পরীক্ষার ভিড়ে কীভাবে একটি স্বপ্নের প্রকল্প এগোয়, তা এখানে খোলামেলা। পরিচালক নিজেই কখনো দ্বিধাগ্রস্ত, কখনো সাহসী। ক্যামেরার সামনে যেমন নাটক, পেছনেও তেমনি টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত দর্শকের মনে প্রশ্ন রেখে যায়, সৃষ্টির এই বিশৃঙ্খলাই কি শিল্পের আসল শক্তি।
এই তিনটি ডকুমেন্টারি প্রমাণ করে, বাস্তব মানুষের গল্প কখনো কল্পনার চেয়েও বেশি নাটকীয় হতে পারে। স্ট্রিমিংয়ের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার আগে এগুলো দেখার মতো সময় বের করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















