০৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বাক্ষরতা না রিডিং পড়া—কোনটা বেশি প্রয়োজনীয়? পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করবে যুক্তরাজ্য সাইবার হামলায় উৎপাদন ব্যাহত, বার্ষিক লক্ষ্য হারাতে পারে বোস্টন সায়েন্টিফিক বড় এআই চিপ তৈরির সীমাবদ্ধতা কাটাতে নতুন প্রযুক্তি আনছে এএসএমএল ভারতের প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি পাঁচ নমুনার একটিতে অনিয়ম এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যে ভর করে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ দুর্গাপূজার আগে সমান অধিকার ও নিরাপত্তার আশ্বাস সরকারের দেশের সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ১৮ মাসে হতাহত ৯২৮ মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ, মজুরি বৃদ্ধিকে এখনো ছাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এলডিসি উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শেষ কূটনৈতিক চেষ্টা

শীতল পাহাড়ে ফেলে রেখে মৃত্যু, দায় কি সঙ্গীর

  • Sarakhon Report
  • ০২:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • 151

অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতমালায় এক মধ্যরাতের আরোহন শেষ হয়েছে মৃত্যু আর আইনি বিতর্কে। শীতল পাহাড়ের চূড়ায় ক্লান্ত হয়ে পড়া এক নারীকে একা ফেলে নিচে নেমে যান তাঁর সঙ্গী। কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা ওই নারীর জমে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এখন গুরুতর অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখে পড়তে পারেন ওই পুরুষ।

পাহাড়ে ওঠার সেই রাত

ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গ্রোসগ্লকনারে। জানুয়ারি মাসের এক রাতে প্রেমিক যুগল চূড়ার দিকে এগোচ্ছিলেন। পাহাড়ের ওয়েবক্যামে তাদের আলো দেখা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া খারাপ হতে থাকে, তাপমাত্রা নেমে যায় হিমাঙ্কের নিচে। সঙ্গীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী হঠাৎ চরম ক্লান্তিতে ভেঙে পড়েন এবং আর এগোতে পারেননি। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তিনি একা নিচে নেমে সাহায্য আনবেন।

উদ্ধার না আসা আর মৃত্যুর পরিণতি

পুরুষটি পরে নিরাপদে নিচে পৌঁছালেও পাহাড়ে একা পড়ে থাকা নারী প্রাণ হারান। সকালে উদ্ধারকারীরা চূড়ার কাছেই তাঁর মরদেহ খুঁজে পান। তদন্তে উঠে আসে, সময়মতো সহায়তা না চাওয়া, দেরিতে যাত্রা শুরু এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফিরে না আসার মতো একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

A woman froze to death on an Alpine mountain hike. Is her boyfriend to  blame? – The Irish Times

আইনি প্রশ্ন আর বিতর্ক

অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী, বিপদে থাকা সঙ্গীর প্রতি দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে দায় তৈরি হতে পারে। প্রসিকিউশনের দাবি, যাত্রা পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা পুরুষটির দায়িত্ব ছিল সঙ্গীকে সুরক্ষায় রাখা। এই মামলায় সেই দায়িত্ব কতটা প্রযোজ্য, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। মামলাটি পাহাড়ি পর্যটন ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের সীমা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।

পাহাড়ি পর্যটন আর বাড়তে থাকা ঝুঁকি

মহামারির পর আল্পসে পর্যটকের চাপ বেড়েছে। অনেক কম অভিজ্ঞ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাচ্ছেন। উদ্ধার সংস্থাগুলোর মতে, দুর্ঘটনার সংখ্যাও রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এই মামলাকে ঘিরে পাহাড়ে স্বাধীনতা আর দায়িত্বের ভারসাম্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের কারাদণ্ড হতে পারে। পাহাড়ে একসঙ্গে ঝুঁকি নেওয়ার সময় কে কার জন্য কতটা দায়ী, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তাকিয়ে আছে অস্ট্রিয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাক্ষরতা না রিডিং পড়া—কোনটা বেশি প্রয়োজনীয়?

শীতল পাহাড়ে ফেলে রেখে মৃত্যু, দায় কি সঙ্গীর

০২:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতমালায় এক মধ্যরাতের আরোহন শেষ হয়েছে মৃত্যু আর আইনি বিতর্কে। শীতল পাহাড়ের চূড়ায় ক্লান্ত হয়ে পড়া এক নারীকে একা ফেলে নিচে নেমে যান তাঁর সঙ্গী। কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা ওই নারীর জমে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এখন গুরুতর অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখে পড়তে পারেন ওই পুরুষ।

পাহাড়ে ওঠার সেই রাত

ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গ্রোসগ্লকনারে। জানুয়ারি মাসের এক রাতে প্রেমিক যুগল চূড়ার দিকে এগোচ্ছিলেন। পাহাড়ের ওয়েবক্যামে তাদের আলো দেখা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া খারাপ হতে থাকে, তাপমাত্রা নেমে যায় হিমাঙ্কের নিচে। সঙ্গীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী হঠাৎ চরম ক্লান্তিতে ভেঙে পড়েন এবং আর এগোতে পারেননি। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তিনি একা নিচে নেমে সাহায্য আনবেন।

উদ্ধার না আসা আর মৃত্যুর পরিণতি

পুরুষটি পরে নিরাপদে নিচে পৌঁছালেও পাহাড়ে একা পড়ে থাকা নারী প্রাণ হারান। সকালে উদ্ধারকারীরা চূড়ার কাছেই তাঁর মরদেহ খুঁজে পান। তদন্তে উঠে আসে, সময়মতো সহায়তা না চাওয়া, দেরিতে যাত্রা শুরু এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফিরে না আসার মতো একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

A woman froze to death on an Alpine mountain hike. Is her boyfriend to  blame? – The Irish Times

আইনি প্রশ্ন আর বিতর্ক

অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী, বিপদে থাকা সঙ্গীর প্রতি দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে দায় তৈরি হতে পারে। প্রসিকিউশনের দাবি, যাত্রা পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা পুরুষটির দায়িত্ব ছিল সঙ্গীকে সুরক্ষায় রাখা। এই মামলায় সেই দায়িত্ব কতটা প্রযোজ্য, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। মামলাটি পাহাড়ি পর্যটন ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের সীমা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।

পাহাড়ি পর্যটন আর বাড়তে থাকা ঝুঁকি

মহামারির পর আল্পসে পর্যটকের চাপ বেড়েছে। অনেক কম অভিজ্ঞ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাচ্ছেন। উদ্ধার সংস্থাগুলোর মতে, দুর্ঘটনার সংখ্যাও রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এই মামলাকে ঘিরে পাহাড়ে স্বাধীনতা আর দায়িত্বের ভারসাম্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের কারাদণ্ড হতে পারে। পাহাড়ে একসঙ্গে ঝুঁকি নেওয়ার সময় কে কার জন্য কতটা দায়ী, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তাকিয়ে আছে অস্ট্রিয়া।