প্যারিসের হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পম্পিদু সেন্টার ধীরে ধীরে শূন্য হয়ে যাচ্ছে। শিল্পকর্ম নামানো, খুলে নেওয়া, মেরামত আর বাক্সবন্দির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দীর্ঘ বিদায়ের সময়। আধুনিক ও সমকালীন শিল্পের এই আইকনিক কেন্দ্রটি পাঁচ বছরের সংস্কারের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, আর সেই প্রস্তুতিতে একে একে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্রায় এক লাখ বিশ হাজার শিল্পকর্ম।
শূন্য গ্যালারির নীরবতা
একসময় যেখানে মাতিস, শাগাল আর ওয়ারহলের ছবির সামনে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন, সেখানে এখন কেবল খালি দেয়াল, উন্মুক্ত পাইপ আর বাক্সের সারি। শিশুদের স্মৃতিভরা ঘর যেমন হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেলে অচেনা লাগে, পম্পিদুর গ্যালারিগুলোও তেমনই পরিচিত অথচ অস্বস্তিকর নীরবতায় ডুবে আছে।
সংস্কারের প্রয়োজন ও বড় সিদ্ধান্ত
পম্পিদু সেন্টার খোলার সময় এর নকশা নিয়ে বিতর্ক ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে এটি প্যারিসবাসীর জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। পুরোনো তাপব্যবস্থা বদলানো, অ্যাসবেস্টস অপসারণ এবং নিচের তলাগুলোর নতুন নকশা—সব মিলিয়ে এই সংস্কারকে কর্তৃপক্ষ দেখছে এক ধরনের রূপান্তর হিসেবে। পাঁচ বছর বন্ধ থাকলেও শিল্পকর্মগুলো হারিয়ে যাবে না; সেগুলো প্রদর্শিত হবে বিশ্বের নানা শহরের উপকেন্দ্রে।

শিল্প খুলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা
শিল্পকর্ম খুলে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বরং আবেগেরও। বহুস্তরীয় ইনস্টলেশনগুলো খুলতে গিয়ে সংরক্ষণকর্মীরা শিল্পীর চিন্তা ও শ্রমের গভীরে পৌঁছেছেন। কোনো কোনো কাজ ভাঙতে গিয়ে প্রয়োজন হয়েছে শত শত পাতার নথি, আর প্রতিটি অংশ আলাদা করে পরীক্ষা, ছবি তোলা ও সুরক্ষিতভাবে প্যাক করা হয়েছে।
যে কাজটি থেকে যাচ্ছে
সবকিছু সরিয়ে নেওয়া হলেও একটি কাজ থেকে যাবে ভবনের ভেতরেই। শিল্পীর সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী সেটি কখনোই সরানো যাবে না। এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত পম্পিদুর ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়, যা বন্ধের মধ্যেও ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে থাকছে।
পাঁচ বছরের অপেক্ষা
পম্পিদু সেন্টারের এই বিদায় শেষ নয়, বরং নতুন শুরুর প্রস্তুতি। পাঁচ বছর পর যখন দরজা আবার খুলবে, তখন প্যারিস পাবে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন, নতুনভাবে সাজানো এক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে অতীতের স্মৃতি আর ভবিষ্যতের কল্পনা মিলেমিশে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















