০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬
বৈশ্বিক উন্মাদনায় চাপে উবে, ফিলিপাইনের পাহাড়ে কৃষকের লড়াই রক কি সত্যিই মৃত, নাকি যন্ত্রের যুগে আরও মানবিক হয়ে উঠছে সুর পম্পিদু বিদায়ের পাঁচ বছর: প্যারিসের শিল্পভাণ্ডার খুলে যাচ্ছে নতুন রূপের পথে শীতল পাহাড়ে ফেলে রেখে মৃত্যু, দায় কি সঙ্গীর ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের আগুনে রক্ত ঝরল, বিক্ষোভে একাধিক মৃত্যু স্ট্রিমিংয়ে ডকুমেন্টারির ভিড়ে বাছাই করা তিন স্মরণীয় ছবি ২০২৬ সালে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অসম পুনরুদ্ধার টেকসই জীবনধারার দিকে ঝুঁকছে ভোক্তারা দক্ষিণ চীন সাগরে চীন–ফিলিপাইন উত্তেজনা আবারও বাড়ছে এনইআইআর বিরোধী আন্দোলনে মোবাইল দোকান বন্ধ, গাজীপুর–চট্টগ্রাম–খুলনায় বাণিজ্য অচল

রক কি সত্যিই মৃত, নাকি যন্ত্রের যুগে আরও মানবিক হয়ে উঠছে সুর

স্ট্রিমিং আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপটে যখন সংগীত জগৎ ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, তখন রক সংগীত নতুন করে নিজের অস্তিত্বের কথা জানাচ্ছে। অনেকের ধারণা ছিল, এই ধারাটি বুঝি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। রকের অসম্পূর্ণতা, খসখসে শব্দ আর নিয়ন্ত্রণহীন আবেগই এখন তার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

একবিংশ শতাব্দীতে রকের অবস্থান
নব্বইয়ের দশকে গ্রাঞ্জ, নিউ মেটাল আর পপ পাঙ্কের দাপটের পর রক ধীরে ধীরে মূলধারার কেন্দ্র থেকে সরে যায়। পপ, হিপহপ, আর অ্যান্ড বি কিংবা লাতিন সংগীত বাজার দখল করে নেয়। পুরস্কার মঞ্চেও রক পিছিয়ে পড়ে। তবু এই সরে যাওয়া রককে শেষ করে দেয়নি। বরং তাকে দিয়েছে নতুন স্বাধীনতা।

স্ট্রিমিং যুগে ভাঙছে ঘরানা
বর্তমান সময়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সব যুগের সংগীত একসঙ্গে হাজির। এর ফলে নতুন প্রজন্মের রক ব্যান্ডরা কোনো একটি ঘরানায় আটকে থাকছে না। সাইকেডেলিক থেকে পাঙ্ক, গ্রাঞ্জ থেকে কান্ট্রি রকের মিশ্রণ ঘটিয়ে তারা তৈরি করছে ভিন্নধর্মী শব্দভুবন। এই বৈচিত্র্যই রককে আবার প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

Who Says Rock Is Dead? - The New York Times

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর মানুষের লড়াই
যখন কম্পিউটারই হয়ে উঠছে যন্ত্র, স্টুডিও আর সুরকার, তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি সংগীত অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। কিন্তু রক এখানেই আলাদা। মানুষের হাতে বাজানো যন্ত্র, ঘাম ঝরানো কণ্ঠ, হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভুল আর সেই ভুল থেকেই জন্ম নেওয়া সৌন্দর্য রককে যন্ত্রের বাইরে দাঁড় করিয়ে দেয়। এই মানবিক জেদই রকের প্রাণ।

রকের শারীরিক উপস্থিতি
একটি রক ব্যান্ড মানে শুধু শব্দ নয়। মঞ্চজুড়ে মানুষ, যন্ত্র, তার, মাইক্রোফোন আর প্রবল শব্দের ভিড়। এখানে কিছু নষ্ট হতে পারে, শব্দ হঠাৎ বিকৃত হতে পারে। কিন্তু সেই অনিয়ন্ত্রিত মুহূর্তই অনেক সময় হয়ে ওঠে শ্রোতার সবচেয়ে প্রিয় অংশ। যন্ত্র তা নকল করতে পারে, কিন্তু সৃষ্টি করতে পারে না।

 

অসংগতি থেকেইBaltimore band Turnstile is on a summer they won't ever forget - The Baltimore Banner আবেগ
মানুষের কান স্বাভাবিকভাবেই অসম্পূর্ণতা আর বিঘ্নে সাড়া দেয়। রক সংগীত সেই প্রবৃত্তিকেই কাজে লাগায়। একটি ভালো রক গান মানে শৃঙ্খলা আর বিশৃঙ্খলার টানাপোড়েন, কৌশল আর অনুভূতির সংঘর্ষ। এখানেই রকের আসল আবেদন।

সংখ্যালঘু হয়েই টিকে থাকার শক্তি
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক আর কখনোই সংগীত জগতের একচ্ছত্র আধিপত্য ফিরে পাবে না। অ্যালগরিদম আর পরিমিত বিটের যুগে এটি সংখ্যালঘু পছন্দ হিসেবেই থাকবে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, রক যখনই খুব পালিশড বা অতিরিক্ত মূলধারার হয়েছে, তখনই সে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ে তুলেছে। তাই প্রান্তে থাকাই হয়তো তার টিকে থাকার সেরা পথ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক উন্মাদনায় চাপে উবে, ফিলিপাইনের পাহাড়ে কৃষকের লড়াই

রক কি সত্যিই মৃত, নাকি যন্ত্রের যুগে আরও মানবিক হয়ে উঠছে সুর

০৪:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

স্ট্রিমিং আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপটে যখন সংগীত জগৎ ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, তখন রক সংগীত নতুন করে নিজের অস্তিত্বের কথা জানাচ্ছে। অনেকের ধারণা ছিল, এই ধারাটি বুঝি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। রকের অসম্পূর্ণতা, খসখসে শব্দ আর নিয়ন্ত্রণহীন আবেগই এখন তার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

একবিংশ শতাব্দীতে রকের অবস্থান
নব্বইয়ের দশকে গ্রাঞ্জ, নিউ মেটাল আর পপ পাঙ্কের দাপটের পর রক ধীরে ধীরে মূলধারার কেন্দ্র থেকে সরে যায়। পপ, হিপহপ, আর অ্যান্ড বি কিংবা লাতিন সংগীত বাজার দখল করে নেয়। পুরস্কার মঞ্চেও রক পিছিয়ে পড়ে। তবু এই সরে যাওয়া রককে শেষ করে দেয়নি। বরং তাকে দিয়েছে নতুন স্বাধীনতা।

স্ট্রিমিং যুগে ভাঙছে ঘরানা
বর্তমান সময়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সব যুগের সংগীত একসঙ্গে হাজির। এর ফলে নতুন প্রজন্মের রক ব্যান্ডরা কোনো একটি ঘরানায় আটকে থাকছে না। সাইকেডেলিক থেকে পাঙ্ক, গ্রাঞ্জ থেকে কান্ট্রি রকের মিশ্রণ ঘটিয়ে তারা তৈরি করছে ভিন্নধর্মী শব্দভুবন। এই বৈচিত্র্যই রককে আবার প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

Who Says Rock Is Dead? - The New York Times

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর মানুষের লড়াই
যখন কম্পিউটারই হয়ে উঠছে যন্ত্র, স্টুডিও আর সুরকার, তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি সংগীত অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। কিন্তু রক এখানেই আলাদা। মানুষের হাতে বাজানো যন্ত্র, ঘাম ঝরানো কণ্ঠ, হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভুল আর সেই ভুল থেকেই জন্ম নেওয়া সৌন্দর্য রককে যন্ত্রের বাইরে দাঁড় করিয়ে দেয়। এই মানবিক জেদই রকের প্রাণ।

রকের শারীরিক উপস্থিতি
একটি রক ব্যান্ড মানে শুধু শব্দ নয়। মঞ্চজুড়ে মানুষ, যন্ত্র, তার, মাইক্রোফোন আর প্রবল শব্দের ভিড়। এখানে কিছু নষ্ট হতে পারে, শব্দ হঠাৎ বিকৃত হতে পারে। কিন্তু সেই অনিয়ন্ত্রিত মুহূর্তই অনেক সময় হয়ে ওঠে শ্রোতার সবচেয়ে প্রিয় অংশ। যন্ত্র তা নকল করতে পারে, কিন্তু সৃষ্টি করতে পারে না।

 

অসংগতি থেকেইBaltimore band Turnstile is on a summer they won't ever forget - The Baltimore Banner আবেগ
মানুষের কান স্বাভাবিকভাবেই অসম্পূর্ণতা আর বিঘ্নে সাড়া দেয়। রক সংগীত সেই প্রবৃত্তিকেই কাজে লাগায়। একটি ভালো রক গান মানে শৃঙ্খলা আর বিশৃঙ্খলার টানাপোড়েন, কৌশল আর অনুভূতির সংঘর্ষ। এখানেই রকের আসল আবেদন।

সংখ্যালঘু হয়েই টিকে থাকার শক্তি
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক আর কখনোই সংগীত জগতের একচ্ছত্র আধিপত্য ফিরে পাবে না। অ্যালগরিদম আর পরিমিত বিটের যুগে এটি সংখ্যালঘু পছন্দ হিসেবেই থাকবে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, রক যখনই খুব পালিশড বা অতিরিক্ত মূলধারার হয়েছে, তখনই সে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ে তুলেছে। তাই প্রান্তে থাকাই হয়তো তার টিকে থাকার সেরা পথ।